গিরগিটির শরীরে আয়না থাকে জানেন! এই আয়নার ভূমিকা কী?  

গিরগিটির শরীরে আয়না থাকে জানেন! এই আয়নার ভূমিকা কী?   
21 Sep 2022, 12:00 PM

গিরগিটির শরীরে আয়না থাকে জানেন! এই আয়নার ভূমিকা কী?

 

প্রদীপ কুমার পাল

 

 গিরগিটির সঙ্গে আমরা সবাই পরিচিত। গিরগিটি গ্রামবাংলার অতি পরিচিত নিরীহ সরীসৃপ। বন-জঙ্গলে এদের পাওয়া যায়। গ্রামবাংলার মানুষজন এই নিরীহ সরীসৃপকে 'রক্তচোষা' বলে থাকে। গিরগিটি ৪৪ সেন্টিমিটার লম্বা হয়। শুধুমাত্র এদের লেজটিই হয় ৩২ সেন্টিমিটার। গিরগিটির দেহের ওপরের অংশের রং বাদামি থেকে ধূসর। গিরগিটি নিজের প্রয়োজনে রং পরিবর্তন করে থাকে। আগে আমরা জানতাম যে গিরগিটি তার ত্বকের কিছু কোষের ক্রিস্টালে সজ্জার পরিবর্তন ঘটিয়ে রং বদল করে থাকে। কিন্তু বর্তমানে জীববিজ্ঞানীরা নতুন করে গবেষনা করে এক নতুন তথ্য আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন।

তথ্যটি হল- গিরগিটির শরীরে বিশেষ কিছু ক্রিস্টাল আছে, ফলে সৃষ্টি হয়েছে এক বিশেষ মিরর বা আয়না। সূর্যের আলো এই আয়নার উপর পড়ার ফলে প্রতিফলন ঘটে। ফলস্বরূপ রং বদল হয় গিরগিটির শরীরে। শুধু তাই নয়, এই বিশেষ মিরর বা আয়না থাকার ফলে শরীর ঠান্ডা থাকে গিরগিটি। জীববিজ্ঞানীরা বলে থাকেন, সরীসৃপরা, বিশেষত গিরগিটি দু'ভাবে তার শরীরের রং পাল্টিয়ে থাকে। গাঢ় রঙের জন্য পিগমেন্ট কোষ থাকে সরীসৃপের শরীরে। গিরগিটিও সরীসৃপ। তাই তার শরীরেও আছে এই কোষ। উজ্জ্বল নীল বা সাদা রং আসে এই ক্রিস্টাল থেকে। যদি নীল ক্রিস্টালের সঙ্গে হলুদ পিগমেন্ট কোষ মিশে যায় তাহলে সৃষ্টি হয় উজ্জ্বল সবুজ রং। গিরগিটির শরীরে আছে মেলানিন কোষ। কখনও বা এক জায়গায় পুঞ্জীভূত হয়ে থাকতে পারে এই কোষ। যখন এই মেলানিন কোষ গিরগিটির সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে বা শরীরের কোনও এক জায়গায় সঞ্চিত হয় তখন গিরগিটির শরীরের রং হালকা থেকে গাঢ় বর্ণ হয়ে থাকে। গিরগিটির শরীরের নীচের অংশটার রং অপরিষ্কার সাদা। পিঠের শিরদাঁড়া বরাবর কাঁটা রয়েছে। প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ গিরগিটির চোখের নিচে শক্ত আঁশ আছে, রং কালো।

গিরগিটির প্রিয় আবাস ঝোপঝাড়। এরা কীট-পতঙ্গ খেয়ে জীবনধারণ করে। তবে ছোট ডিম, ছোট-ছোট কাঁকড়া এদের প্রিয় খাদ্য তালিকার মধ্যে পড়ে। সেপ্টেম্বর মাসে স্ত্রী গিরগিটি ডিম পাড়ে। নরম মাটিতে গর্ত করে ডিম লুকিয়ে রাখে। ডিমের সংখ্যা সর্বাধিক কুড়িটি হতে পারে। ডিমগুলির রং সাদা। আকৃতিতে লম্বা। ডিমগুলি খুব নরম। সাত থেকে আট সপ্তাহ পরে ডিম ফুটে যায়। গিরগিটির বাচ্চার রং হালকা সোনালি। যখন দুটো বাচ্চা মারপিট করে তখন গায়ের রং টকটকে লাল। বিশেষত মাথাটা রক্তাভ বর্ণের হয়।

প্রকৃতির আজব সৃষ্টি গিরগিটির সংখ্যা কমে আসছে। নির্বিচারে বন-জঙ্গল, ঝোপ-ঝাড় কেটে ফেলায় গিরগিটি তাদের বাসস্থান হারিয়ে ফেলছে। তাছাড়া সাঁওতাল গোষ্ঠীর কিছু মানুষ গিরগিটিদের নির্বিচারে হত্যা করছে। গিরগিটি আমাদের প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রেখে চলে। যাতে গিরগিটি প্রকৃতি থেকে চিরতরে বিলুপ্ত না হয়ে যায় সেই দিকে আমাদের অবশ্যই লক্ষ্য রাখা দরকার।

Mailing List