চুম্বক, কম্পাস কেন সব সময় উত্তর দক্ষিণে মুখ করে থাকে, আইনষ্টাইনের প্রথম কৌতুহল, শিক্ষক-শিক্ষিকার আন্তরিক ইচ্ছাই বিজ্ঞান শিক্ষায় পরিবর্তন আনতে পারে    

চুম্বক, কম্পাস কেন সব সময় উত্তর দক্ষিণে মুখ করে থাকে, আইনষ্টাইনের প্রথম কৌতুহল, শিক্ষক-শিক্ষিকার আন্তরিক ইচ্ছাই বিজ্ঞান শিক্ষায় পরিবর্তন আনতে পারে     
19 Sep 2022, 01:28 PM

চুম্বক, কম্পাস কেন সব সময় উত্তর দক্ষিণে মুখ করে থাকে, আইনষ্টাইনের প্রথম কৌতুহল, শিক্ষক-শিক্ষিকার আন্তরিক ইচ্ছাই বিজ্ঞান শিক্ষায় পরিবর্তন আনতে পারে  

 

সুচাঁদকুমার পান            

 

স্বামী বিবেকানন্দের মতে- কল্পনা আমাদের সবচেয়ে বড় বন্ধু। যখন সঠিকভাবে ব্যবহার করি তা যুক্তির উর্ধ্বে। এটি একমাত্র আলোক যা আমাদের সর্বত্র নিয়ে যায়। ১৯৭৬ সালে সংবিধানের ৪২তম ধারা সংশোধনের দ্বারা শিক্ষা ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় অনুশাসন চালু হল। ১৯০৫ সালে জাতীয় অধ্যাপক যশপালের নেতৃত্বাধীন কমিটির প্রস্তাবিত বিদ্যালয় স্তরে জাতীয় পাঠক্রম কাঠামো প্রকাশ পেল ও গৃহীত হল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সভ্যতা ও বিকাশ’ উদ্ধৃত করে জোর দেওয়া হল মুখস্ত শিক্ষার অপসারণে। শিশু কেন্দ্রিক শিক্ষার সঙ্গে পুঁথিগত বিদ্যার বাইরের বিষয়ে শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা। বিজ্ঞান শিক্ষায় শিক্ষার্থীর অনুসন্ধিৎসা ও সৃজনশীলতা সযত্নে লালিত হবে পরিবেশের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে।

গৃহীত হল সামাজিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক সংগঠন ও এনজিও অংশীদারিত্বের সুপারিশও। ২০০৯ সালে ৬-১৪ বছর বয়সের শিশুদের জন্য শিক্ষার অধিকার আইনে মাসুলহীন আবশ্যিক শিক্ষা চালু হল। ২০১১ সালে সুনন্দ সান্যালের সুপারিশ অনুসারে ও অভীক মজুমদারের নেতৃত্বে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তকের রুপরেখা গৃহীত ও রচিত হয়। যা বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে বিদ্যালয় স্তরে পড়ানো হয়। সেই থেকে বিদ্যালয় স্তরে বিজ্ঞান শিক্ষায় হাতে কলমে বা ক্রিয়াকলাপ ভিত্তিক শিক্ষা চালু হয়েছে। কিন্তু নানান অজুহাতে যেমন ছাত্রছাত্রীর অধিক সংখ্যা, পরিকাঠামোর অভাব, বিদ্যালয়ে যথেষ্ট সংখ্যক শিক্ষক/শিক্ষিকা না থাকা, ইত্যাদির কারণে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে এখনও চক-ডাষ্টার পদ্ধতিতেই বিজ্ঞান শিক্ষা দেওয়া হয়।

যেন সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলেছে, তার পরিবর্তনেরও কোনও প্রয়োজন নেই। পরীক্ষার ফলাফলে নম্বর তো আসছে ঝুড়িঝুড়ি, এতেই আমরা সন্তুষ্ট। বলা হয় বাবার দেওয়া চুম্বক, কম্পাস কেন সব সময় উত্তর দক্ষিণে মুখ করে থাকে। বিশ্ববন্দিত বিজ্ঞানী আইনষ্টাইনের প্রথম বিজ্ঞানভিত্তিক কৌতুহল। ছোট বেলায় যাকে নিয়ে সবাই ভাবতো বুদ্ধিহীন!

 

নীতি গৃহীত হয়, সরকারের সদিচ্ছাও থাকে, অর্থের টানাটানি থাকলেও যৎসামান্য খরচে ছাত্রছাত্রীদের নিকটে যা উপস্থাপিত করলে বিদ্যালয় স্তরে বিজ্ঞান শিক্ষা সফলতা পায়, তার উদ্যোগ কে নেবে? মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ হয়তো এনিয়ে ভাবেন বা চেষ্টা করেন, কিন্তু তাদের এই উদ্যোগ সাগরে এক বিন্দু জলকণার ন্যায়। হাজার হাজার শিক্ষক/শিক্ষিকার আন্তরিক ইচ্ছেই আনতে পারে বিজ্ঞান শিক্ষার পরিবর্তনের হাওয়া। দেশ পেতে পারে ভবিষ্যতের বিজ্ঞানী।

 

 লেখক: মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলের (বালক) প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক।

Mailing List