দিদি কো ইতনা গুসসা কিউ? প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

দিদি কো ইতনা গুসসা কিউ? প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর
07 Mar 2021, 07:47 PM

দিদি কো ইতনা গুসসা কিউ? প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

 

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন, কলকাতাঃ   রবিবার কলকাতার ব্রিগেড সমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুধুমাত্র বিভিন্ন ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করার পাশাপাশি ‘ রাজ্যে আসল পরিবর্তন’ এনে ‘সোনার বাংলা’ কেমন হবে তার স্বপ্ন দেখালেন তাই নয়, এই সাথে তাঁর প্রশ্ন ‘দিদির এত রাগ কেন?”

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কখনও প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন বহিরাগত, কখনও তুলনা করেছেন দানবের সাথে, কখনও আক্রমণ করে  বলেছেন ‘হোঁদল কুতকুত’। আর আজ, ব্রিগেডের সমাবেশ থেকে সেই কথার উত্তর দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন ‘দিদি ইতনা গুসসা কিউ?” বলেন, ‘কথায় কথায় গাল দেওয়া কেন? এত রাগ কেন দিদি?”

ব্রিগেডে আগেও অনেক দেশভক্ত সভা করেছেন, এই ব্রিগেড ময়দান অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী সে কথা বলেই তিনি বলেন এদিন যে সমাবেশ হয়েছে, এত লোক বিজেপিকে আশীর্বাদ করতে এসেছে, এত বড় সভা তিনি আগে কোনও দিন দেখেন নি।

আর যে রাজ্য দেশকে দিয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকনান্দ, ঋষি অরবিন্দ, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সহ আরও অনেককে যারা দেশকে  প্রেরণা  দিয়েছে, যারা এই রাজ্যের সংস্কৃতিকে তুলে ধরেছেন সেই রাজ্যে এখন  সংস্কৃতি এত নিচে নেমে গিয়েছে কেন এই প্রশ্ন তুলেই প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন তাঁর প্রতি দিদির এত রাগ কেন?

এই রাজ্যের মানুষকে আসল পরিবর্তনের জন্য ভোট দেওয়ার কথা বলে তিনি বলেন, “বাংলার ভোটদাতাদের অনুরোধ করছি, ভয় পাবেন না। নির্ভয়ে বিজেপিকে ভোট দিন। কুশাসনের বিরুদ্ধে ভোট দিন। বাংলাকে ভয়মুক্ত করুন। উন্নতির জন্য ভোট দিন।

তার পরেই তাঁর প্রশ্ন , দিদি কো ইতনা গুসসা কিউ? বলেন, “ আমি এখানের সব খরব রাখি। কখনও আমাকে রাবণ,  কখনও দানব, কখনও দৈত্য, কখনও গুন্ডা বলছেন দিদি। এত রাগ কেন দিদি?”

প্রধানমন্ত্রী বলেন,  “শাস্ত্রে বলা আছে, ক্রোধাৎ ভবতি সম্মোহ, সম্মোহ স্মৃতিবিভ্রম। রাগে মানুষ বিভ্রান্ত হয়, আর নিজের সব কিছু হারিয়ে ফেলে। আমাকে কী কী বলেছেন! কখনও রাবণ, কখনও দানব, কখনও দৈত্য, কখনও গুন্ডা। দিদি এত রাগ কেন! এত রাগ কেন দিদি! কথায় কথায় গাল দেওয়া! এত রাগ কেন দিদি! আজ যদি বাংলায় পদ্ম ফুটছে, তার কারণ সেই পাঁক যা আপনার দল এখানে তৈরি করেছে। উন্নতির জায়গায় তোষণের রাজনীতি করেছেন। ভেদাভেদ করেছেন। গণতন্ত্রের নামে লুঠতন্ত্রকে উৎসাহ দিয়েছেন। গরিবদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছেন।”

এর সাথেই মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আক্রমণের সুর আরও চড়া করে বলেন, “অনেক বছর ধরে চিনি দিদিকে। এই দিদি সেই দিদি নন, যিনি বামপন্থীদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। দিদির রিমোট কন্ট্রোল অন্য কারও হাতে। তাই এমন কথা বলছেন। এটা বাংলার সংস্কৃতি বিরোধী। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অরবিন্দ ঘোষ, স্বামী বিবেকানন্দরা আজ দুঃখ পেতেন। বিজেপিকে বহিরাগত বলছেন। আপনারা বলুন, কংগ্রেস কে তৈরি করেছিল? বামপন্থীরা এত বছর শাসন করেছে। মার্ক্স, লেনিনের আদর্শ বহিরাগত না বাংলার! তৃণমূলও তো কংগ্রেস থেকে তৈরি হয়েছিল। বিজেপির স্থাপনার মূলেই বাংলা। বাংলার সুপুত্র শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শে তৈরি দল। বাংলার লেগে গন্ধ রয়েছে। বাংলার সংস্কৃতির স্বাদ রয়েছে। বিজেপির ডিএনএ-তে বাংলা। বাংলার কাছে ঋণী বিজেপি। এই ঋণশোধ করতে পারব না। বাংলার মাটির তিলক লাগিয়ে তাকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দেব। পদ্মফুলে বাংলার মাটির গন্ধ রয়েছে। লোকসভার টিএমসি হাফ, এবার পুরো সাফ।”         

এর পরেই তিনি  পরিবর্তনের পরে ‘আসল সোনার বাংলা’ কেমন হবে তা নিয়ে বলেন,  “উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ, পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে কোনও পার্থক্য করা হবে না। সবাই সমান গুরুত্ব পাবে। সবার কল্যাণ করাই হবে প্রশাসনের মূল মন্ত্র। কারও তোষণ হবে না।’’  কেমন হবে বিজেপি-র বাংলা? নিজে প্রশ্ন তুলে নিজেই উত্তর দিয়েছেন, ‘‘বাংলা চায় উন্নতি। বাংলা চায় শান্তি। বাংলা চায় প্রগতিশীল বাংলা। বাংলা চায় সোনার বাংলা। এই ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে আমি বাংলার মানুষকে আসল পরিবর্তনের আশ্বাস দিতে চাই। বাংলার পুনর্নিমাণ হবে। বাংলার সংস্কৃতি রক্ষার, বিনিয়োগ বাড়ানোর, কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’’

 প্রধানমন্ত্রী বলেন , “ আজ থেকে পঁচিশ বছর পরে, ২০৪৭ সালে দেশ যখন স্বাধীনতার শতবর্ষ পালন করবে, তখন দেশের পয়লা নম্বর স্থানে থাকে বাংলা। স্বাধীনতার পর গত ৭৫ বছরে বাংলা থেকে যা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা ফিরিয়ে দেব। আমার কথা লিখে রাখুন!”

Mailing List