বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ গুহাটি কোথায়? ভিয়েতনামের হ্যাং সন দুং গুহা এখনও রহস্যে মোড়া

বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ গুহাটি কোথায়? ভিয়েতনামের হ্যাং সন দুং গুহা এখনও রহস্যে মোড়া
17 Oct 2021, 03:45 PM

বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ গুহাটি কোথায়? ভিয়েতনামের হ্যাং সন দুং গুহা এখনও রহস্যে মোড়া  

 

কল্পনায় স্বর্গের একটা রূপ রয়েছে প্রত্যেকের মনেই। তাই তো মনের গোপনে কোথাও লুকিয়ে থাকে স্বর্গে পৌঁছনোর বাসনা। কিন্তু সে স্বর্গের অস্তিত্ব কেবলই কল্পনায়। কারণ, যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ ততক্ষণ সেখানে পৌঁছনোর কথা ভাবারও উপায় নেই। অথচ, এ বিশ্বেই এমন বহু স্বর্গীয় দৃশ্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। প্রকৃতির সেই উজাড় করা সৌন্দর্য হয়তো কল্পনার স্বর্গকে হার মানাতে পারে। সেখানকার মানুষের আচার-আচরণ, কৃষি, অর্থনীতি, ভূপ্রকৃতি- সত্যিই অন্য অনুভূতি জাগায়। তারই পাশাপাশি মিলতে পারে অনেক অজানা তথ্য। বিশ্বজুড়ে এমন কত ছোটখাটো দেশ, ভাস্কর্য রয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। এমনই একটি ঘটনার কাহিনী লিখছেন-

দীপান্বিতা ঘোষ

 

আদিম মানুষ ছিলো গুহাবাসী, আরণ্যচারী। এ কথা আমরা ছোটবেলা থেকেই জেনে এসেছি। মানুষ যখন ঘরবাড়ি বানাতে শেখেনি, আগুন জ্বালাতে শেখেনি, চাষবাস শেখেনি, তখন বন থেকে ফলমূল সংগ্রহ করতো, শিকার করতো। সেগুলো কাঁচাই খেতো। ঝড়জঞ্ঝা, বজ্রপাত, পশুর আক্রমণ থেকে বাঁচার নিরাপদ আশ্রয় ছিল গুহা।

   

সেই গুহা কত বড় হতে পারে!!!? পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো গুহাটির অবস্থানই বা কোথায়?? তাই নিয়ে আজকের আলোচনা। "হ্যাং সন দুং" গুহা। এটি পৃথিবীর বৃহত্তম ও দীর্ঘতম গুহা।

এই গুহা এতোটাই বড় যে, কোনোরকম বাধাবিপত্তি ছাড়াই এর মধ্যে একটি বোয়িং ৭৪৭ বিমান উড়ে যেতে পারে! এবং এটির ভেতর অনায়াসে ঢুকে যেতে পারে একটি ৪০ তলা বাড়ি।

অবস্থান:

ভিয়েতনামের কোং বিন প্রদেশের বো টাচ জেলায় গুহাটির অবস্থান। গুহার মধ্যে রয়েছে অসংখ্য সুড়ঙ্গ পথ। যা দিয়ে সহজেই ভিয়েতনামের এক স্থান থেকে অন্যত্র যাওয়া সম্ভব।

আবিষ্কার:

হো খানহ নামে এক ব্যক্তি ১৯৯১ সালে গুহাটি প্রথম আবিষ্কার করেন। জঙ্গলে শিকার করার সময় ঝড় বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে ঐ ব্যক্তি গুহাটিতে আশ্রয় নিতেন।

বয়স:

বহু বছর আগে আবিষ্কৃত হলেও এখনো পর্যন্ত গুহাটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত নয়। গবেষকরা অনুমতি সাপেক্ষে প্রবেশ করতে পারেন। ২০০৯ সালে গুহাটি নিয়ে গবেষণা শুরু হয়।

        

গবেষকরা জানিয়েছেন, গুহাটির বয়স ৩৬ কোটি বছর! এত বছরের পুরনো গুহাটি এখনও থেকে গিয়েছে। যা সত্যিই বিস্ময়ের।

আকার:

এই গুহাটি দৈর্ঘ্যে ৫ কিমি। উচ্চতায় ৬৬০ ফুট। আর চওড়ায় ৪৯০ ফুট। গুহাটি নিকটবর্তী হ্যাং থুঙ গুহার সঙ্গে যুক্ত হয়ে আকারে আরো বেড়ে গেছে।

       

সমগ্র গুহাটি ছোট বড়ো ১৫০ টি গুহার সমন্বয়ে গঠিত। বিভিন্ন গবেষক দল গুহাটির আয়তন পরিমাপ করতে পারলেও এর শেষ খুঁজে বের করতে পারেননি। অর্থাৎ আরও কিছু বিস্ময়ের বাকি রয়েছে। সমস্ত রহস্য উদ্ঘাটনের পরেই তা জানা যাবে।

          

এই গুহা আবিষ্কারের পূর্বে মালয়েশিয়ার ডির গুহা ছিলো বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো গুহা।

ভাস্কর্য:

গুহার দেওয়াল চুনাপাথর দিয়ে তৈরী। আসলে চুনাপাথর দিয়ে তৈরী অঞ্চলেই কার্বনডাইঅক্সাইড মিশ্রিত জল(carbonic acid) চুনাপাথরের সঙ্গে বিক্রিয়া করে দ্রবণ কাজ চালায় ও যুগ যুগ ধরে কাজের ফলে এই গুহার সৃষ্টি হয়। সঙ্গে চলতে থাকে নানান ভাস্কর্য তৈরীর কাজও।

        

একই রকম ভাবে হ্যাং সন দুং গুহার ছাদ থেকেও নেমে এসেছে স্ট্যালাকটাইট, মেঝে থেকে উপরে উঠে গেছে স্ট্যালাকমাইট, এগুলো জুড়ে গিয়ে তৈরী হয়েছে বিশালাকৃতি স্তম্ভ, তৈরী হয়েছে হেলিকটাইট, হেলিকমাইট, স্পিলিওথিম, কার্ষ্ট গবাক্ষ (karst Window) এর মতো নানা ভুমিরূপ।

এছাড়া গুহার পাথরের গায়ে জমে আছে সবুজ ভেলভেটের মতো শ্যাওলায় স্থানে স্থানে সূর্যের আলো পড়ে সৃষ্টি হয় নয়নাভিরাম সৌন্দর্য। যেসব গবেষক ও চিত্রগ্রাহক গুহার ভেতরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তাঁরা জানিয়েছেন হ্যাং সন দুং গুহার ভেতর টা যেনো এক আলাদা পৃথিবী।

     

২০১০ সালে জার্মানির এক চিত্রগ্রাহক দু-সপ্তাহ কাটিয়ে এরকম কিছু ছবি তুলেছিলেন।

 

অভ্যন্তরীণ বাস্তুতন্ত্র:

গবেষকদের কাছে গুহাটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ গুহার মধ্যে নানা সময়ে তাঁরা বিষধর সাপ, বিষাক্ত পোকামাকড়, বিছা, বড়ো মাকড়সা ইত্যাদির দেখা পান। এছাড়া রয়েছে লক্ষ লক্ষ বাদুড় ও পাখি। সব মিলিয়ে এগুলো গবেষকদের গবেষণার কাজেও বাধা দেয়।

            

গুহার ভেতরে রয়েছে ছোট বড়ো ফোয়ারা, অসংখ্য ঝর্ণা, খরস্রোতা নদী, বহু সুড়ঙ্গপথ।

         

ঘন জঙ্গল ঘেরা পরিবেশ, নানা ধরণের গাছপালা, দেওয়ালে শ্যাওলা। সে যেন এক অন্য পৃথিবী। বৈচিত্র্যময় উদ্ভিদ প্রাণী মিলিয়ে গুহার ভেতরে তৈরী হয়েছে এক স্বতন্ত্র বাস্তুতন্ত্র।

ads

Mailing List