বাচ্চারা হঠাৎ কেন রেগে যাচ্ছে বা চুপ করে ঘরে থাকছে? আত্মহত্যার চেষ্টা করছে বা অন্যকে মারছে? এর পিছনে কিন্তু রয়েছে অন্য এক গভীর অসুখ

বাচ্চারা হঠাৎ কেন রেগে যাচ্ছে বা চুপ করে ঘরে থাকছে? আত্মহত্যার চেষ্টা করছে বা অন্যকে মারছে? এর পিছনে কিন্তু রয়েছে অন্য এক গভীর অসুখ
04 Oct 2022, 10:30 AM

বাচ্চারা হঠাৎ কেন রেগে যাচ্ছে বা চুপ করে ঘরে থাকছে? আত্মহত্যার চেষ্টা করছে বা অন্যকে মারছে? এর পিছনে কিন্তু রয়েছে অন্য এক গভীর অসুখ  

 

প্রদীপ্ত চৌধুরী

 

অল্পবয়সিদের আত্মহত্যার ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। কাগজ খুললেই চোখ কপালে উঠে যাচ্ছে কিশোর-কিশোরীদের আত্মহত্যার খবরে। এ ধরনের খবর পেলে সাধারণত আমরা ভেবে নিই, পড়াশোনা বা প্রেমে ব্যর্থতাই হয়তো অযাচিত ঘটনাটির জন্য দায়ী। এসব ভেবেই মিডিয়া থেকে চায়ের দোকান, সর্বত্র শুরু হয়ে যায় মনস্তাত্ত্বিক এবং সমাজতাত্ত্বিক গুরুগম্ভীর সব বিশ্লেষণ। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই যেটা জানেন না, এ ধরনের বহু ঘটনার জন্যই দায়ী আসলে শারীরিক এক সমস্যা। আসুন, সংক্ষেপে বিষয়টি জেনে নিই।

 

আমাদের মস্তিষ্কে এবং রক্তে সেরেটোনিন, ডোপামিন এবং আরও কয়েকটি নিউরোট্রান্সমিটার বা রাসায়নিক পদার্থ তৈরি হয়। এগুলোর মধ্যে সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ সেরেটোনিন। এই পদার্থটির নিঃসরণ কমে গেলে বা থেমে গেলে মানুষ যে রোগে আক্রান্ত হয়, তার নাম বাইপোলার ডিসঅর্ডার। এটা এক মারাত্মক ব্রেন ডিজিজ। এই রোগে মানসিক অবসাদ এত বেশি হয় যে, রোগী ২৪ ঘণ্টাই অকারণে গভীর বিষাদে ডুবে থাকে। বিষাদ তীব্র হলে রোগী আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরিসংখ্যান বলছে, বাইপোলার ডিসঅর্ডার আক্রান্ত রোগীদের প্রায় অর্ধেক সংখ্যকই আত্মহত্যা করে থাকে। অকারণে অথবা নিতান্ত তুচ্ছ কারণে রাগের চোটে এরা প্রায় উন্মাদ হয়ে ওঠে। তখন এদের হাতে খুনও হয়ে যেতে পারে যে কেউ।  

 

সেরেটোনিনের স্বল্পতাই এই রোগের আসল কারণ। শতকরা ৬০ ভাগ ক্ষেত্রে রোগটি জিনবাহিত। সাধারণত ১৫ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে এই রোগ ধরা পড়ে। সেরেটোনিনের অভাবে মগজকোষ এবং স্নায়ুকোষের মধ্যে বার্তা চালাচালির কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলেই রোগী হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বেগতিক হলে এদের বৈদ্যুতিক শক দিতে হয়। পাঠাতে হয় অ্যাসাইলামেও। বিশ্বখ্যাত সেলেবদের অনেকেই এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। যেমন ভ্যান গঘ, আর্নেস্ট হেমিংওয়ে, ভার্জিনিয়া উলফ, উইনস্টন চার্চিল, ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল প্রমুখ। এঁদের মধ্যে আত্মহত্যা করেছিলেন ভ্যান গঘ এবং ভার্জিনিয়া উলফ।

 

এই জটিল রোগের চিকিৎসা পদ্ধতিও বেশ জটিল। কাউন্সেলিং বা মেডিটেশনে এই রোগ সারে না। দরকার যথাযথ সাইকিয়াট্রিক ওষুধ। আবার এক্ষেত্রেও জটিলতা। একেকজনের ক্ষেত্রে এক্কটা ওষুধ কাজ করে। প্রখ্যাত সাইকিয়াট্রিস্ট ডা. সত্যজিৎ আশ জানালেন, চিকিৎসকরা গত শতাব্দী পর্যন্তও এই রোগের কার্যকারণের কোনও হদিশ পাননি। এই শতকের গোড়ার দিকে মার্কিন এবং ব্রিটিশ গবেষকরা রোগটির যথাযথ কারণ খুঁজে পেয়েছেন। তবে চূড়ান্ত সাফল্য করায়ত্ত হতে এখনও ঢের দেরি। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, ৩০ মার্চ প্রবাদপ্রতিম চিত্রশিল্পী ভ্যান গঘের জন্মদিন। সেই দিনটিকেই বেছে নেওয়া হয়েছে ‘ওয়ার্ল্ড বাইপোলার ডে’ হিসেবে।         

Mailing List