পশ্চিমবঙ্গে ভোটারদের কোনও স্বাধীনতা নেই, রাজ্যের অবস্থা  ভয়ানক, রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করলেন রাজ্যপাল

পশ্চিমবঙ্গে ভোটারদের কোনও স্বাধীনতা নেই, রাজ্যের অবস্থা  ভয়ানক, রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করলেন রাজ্যপাল
25 Jan 2022, 01:35 PM

পশ্চিমবঙ্গে ভোটারদের কোনও স্বাধীনতা নেই, রাজ্যের অবস্থা  ভয়ানক, রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করলেন রাজ্যপাল

 

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন : কাল প্রজাতন্ত্র দিবস। আর আজ, জাতীয় ভোটার দিবস। এদিন   বিধানসভায় বি আর অম্বেদকরকে সম্মান জানাতে এসে ফের বিস্ফোরক রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। এদিনও তিনি তীব্র আক্রমণ করলেন  রাজ্য সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রীকে।

তিনি বলেন, 'পশ্চিমবঙ্গে অবস্থা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর।  বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে আছে রাজ্যের গণতন্ত্র।’ এই সঙ্গেই রাজ্যপাল বলেন যে পশ্চিমবঙ্গে ভোটারদের কোনও স্বাধীনতা নেই।

 বিধানসভা চত্বরে এসে আম্বেদকরের মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় বলেন, “আজ ভোটার্স ডে। গণতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ এই ভোটাররা। কিন্তু বলতে খারাপ লাগছে পশ্চিমবঙ্গে ভোটারদের কোনও স্বাধীনতা নেই। আমরা দেখেছি ভোট পরবর্তী হিংসা কীভাবে এ রাজ্যে হয়েছে। নিজেদের মতো করে ভোট দিয়েছেন বলে জীবন দিতে হয়েছে। এটা লজ্জাজনক। এখানে আইনের শাসন চলে না, শাসকের আইন চলে। পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা ভয়ানক, ভয়াবহ। রাজ্যপাল হিসাবে আমি চিন্তিত। আমি অনেক চেষ্টা করেছি রাজ্যের শাসন ব্যবস্থা, রাজ্যের প্রশাসন সংবিধান অনুসারে চলুক। আইন মেনে কাজ করুক। কিন্তু সরকারি আধিকারিকরা তাঁদের নিয়ম ভুলে গিয়েছেন। সাংবিধানিক মর্যাদা ভুলে গিয়েছেন। সংবিধানের সঙ্গে দূর দূরান্ত অবধি তাঁদের কোনও সম্পর্কই নেই। আগুন নিয়ে খেলছেন তাঁরা।”

সেই সঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আক্রমণ করেন জগদীপ ধনখড়। তিনি বলেন, ' মুখ্যমন্ত্রীর সংবিধান সম্পর্কে কোনও ধারণাই নেই। রাজ্যপালের কাছে দায়বদ্ধ মুখ্যমন্ত্রী। অথচ তিনি উপেক্ষা করে চলেছেন। কেন?'

আক্রমণ করেছেন সরকারি শীর্ষ আধিকারিকদেরও। তিনি বলেন, 'সংবিধান ভুলে গিয়েছে রাজ্য সরকার। সংবিধান অনুযায়ী রাজ্যপাল সাংবিধানিক প্রধান। তা ভুলে গিয়েছে রাজ্য এবং সরকারি আধিকারিকরা। আমি রাজ্যপাল হিসেবে কোনও কিছু জানতে চাইলে উত্তরই পাই না।'

তিনি বলেন, 'এত বড় সাহস! এত অধঃপতন! হাইকোর্টের বলার পরও রাজ্যপালকে উত্তর দেয় না। রাজভবন কী করতে পারে সরকারি অফিসারদের ধারণা নেই। রাজ্যের আমলারা রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট। রাজ্য অফিসাররা সংবিধান মেনে কাজ করুক। অধ্যক্ষ রাজ্যপালকে অন্ধকারে রেখে কিছু করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'  

রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং ডিজিকে রাজ্যপাল তলব করলেও তাঁরা রাজ্যপালের সঙ্গে  দেখা করেন নি। এই ন নিয়ে আগেই তাঁদেরকে আক্রমণ করেছিলেন রাজ্যপাল।

আক্রমণ করেন বিধানসভার অধ্যক্ষকেও। তিনি বলেন,  ‘এখানে বিধানসভার অধ্যক্ষ যখন যা খুশি বলেন। উনি মনে করেন রাজ্যপালের বিরুদ্ধে যা কিছু বলার ওনার লাইসেন্স আছে। আমি অধ্যক্ষকে একাধিকবার একাধিক বিষয়ে প্রশ্ন করেছি। তথ্য জানতে চেয়েছি। বিএসএফ রেজোলিউশন নিয়ে জানতে চেয়েছি উনি জবাব দেননি। উনি কি ১৬৮ ধারা জানেন না? এভাবে একজন অধ্যক্ষ রাজ্যপালকে এড়িয়ে যেতে পারেন না। এটা সংবিধানবিরোধী। উনি যে ভাষায় রাজভবনকে লেখেন তা লজ্জার।’

এদিকে রাজ্যপাল বিভিন্ন ফাইল আটকে রেখেছেন বলে যে অভিযোগ বিধানসভার অধ্যক্ষ করেন তারও জবাব দিয়ে তিনি বলেন, 'রাজ্যপাল সম্বন্ধে মিথ্যা প্রচার চলছে। কোনও বিল আমার কাছে পড়ে নেই। রাজভবনে কোনও ফাইল আটকে নেই।'

রাজ্যপাল যখন এই ভাবে একের পর এক আক্রমণ করেন সেই সময়ে তাঁর পিছনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন  বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।  একের পর এক আক্রমণে হতভম্ব বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যপালের আচরণকে পালটা অসৌজন্যমূলক বলে আক্রমণ করেছেন স্পিকার ।

 

 

'


 

 

 

ads

Mailing List