বাসবী ভাওয়ালের দু’টি কবিতা

বাসবী ভাওয়ালের দু’টি কবিতা
21 Aug 2022, 12:15 PM

বাসবী ভাওয়ালের দু’টি কবিতা

 

তবুও আছে

 

মৃত্যু উপত্যকায় হেঁটে চলেছি আমরা,

কুয়াশা দৃষ্টি আচ্ছন্ন করে রেখেছে-

শান্তির বাতাবরণ বিঘ্নিত;

লোলুপতা মানুষকে নিয়ে যাচ্ছে জানোয়ারের পর্যায়ে!

সব থেকেও কিছু নেই-

মানবিকতাহীন স্বার্থান্বেষী মানুষের ভিড়ে

হারিয়ে যাচ্ছে সভ্যতা।

 

তবু আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছেন

আদর্শবান কিছু মানুষ,

বিশাল সিন্ধুতে বিন্দুবৎ;

তথাপি এই অণুসম মানুষের সমন্বয়ে

 হতে পারে এমন পরমাণু যা দিতে পারে হুশিয়ারি -

লোভ-লালসা সম্পন্ন মানুষগুলোকে;

বিকৃতরুচি সম্পন্ন মানুষগুলোর নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করবার ইচ্ছা কে মাটিতে মিশিয়ে দিতে পারে -

শুভবুদ্ধি ও শুভচেতনা।

 

এই নিষ্কাম স্বার্থপর মানুষের মুখে মিষ্টিবুলি থাকলে ও

হৃদয় গরলপূর্ণ; অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে আগত মানুষগুলো আশ্রয় নেয় -কোনো শক্তিশালী ছত্রছায়ায়।

আত্মরক্ষার্থে পদলেহন করে, তারপর ঝরায়

অনেক ফুলের মত জীবন, তছনছ করে কুসুমিত মন।

এরা জানেনা নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাস!

 

কিছু মানুষ করে মহৎ আদর্শের সন্ধান,

আবার কেউ সঙ্গ দেয় অসৎ, স্বার্থপর মানুষের-

সামান্য প্রতিহিংসা। চরিতার্থ করতে,

কখনো বা নৃত্যপটীয়সী,

কখনও অভিনেতা -অভিনেত্রী,

আবার কখনো জীবন সঙ্গীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়।

এদের না আছে চরিত্র, না আদর্শ বোধ।

এরা সমাজ ধ্বংসকারী ভ্রষ্টাচার,

পরিবারের জন্য কুলাঙ্গার, দেশের পক্ষে ক্ষতিকর ।আত্মসর্বস্ব এই মানুষ গুলো জানেনা যে -

পাপের প্রায়শ্চিত্ত অনিবার্য,

ধৈর্য ধরে প্রতীক্ষা করলে দেখা যাবে-

শেষের সে দিন কতটা ভয়ংকর!

…….

 

সিরাজ

 

মুর্শিদাবাদের খোসবাগ-

বাংলার নবাব সিরাজ শায়িত চিরনিদ্রায়-

ভাগীরথীর অপরপারে নির্জন কোলাহল হীনতায়,

মাত্র তেইশ বছরের নবাব,

কিন্তু তার প্রতাপশালী মনোভাবের নেই কোন জবাব।

 

সদ্য অঙ্কুরিত চারাগাছের মতো তরতাজা এই তরুণ

যার আভিজাত্য, ব্যক্তিত্ব হিংসার বলি হয়েছিল নিদারুণ।

নিজের মাসি ষড়যন্ত্রের মূল কুচক্রী

সিংহাসন নিয়ে লড়াইয়ে হয়েছিল বিক্রি-

মিরজাফর, জগৎ শেঠ ও ব্রিটিশ কোম্পানির কাছে।

লুৎফা সিরাজের শেষ সময়ের সঙ্গী,

স্বার্থহীন ভালোবাসার প্রতিরূপ,

পতিপ্রেমের নিদর্শন রেখেছেন অপরূপ।

 

আজও আকাশ বাতাসে অনুভূত হয় 

লুৎফার সকরুণ ক্রন্দন,

এখনো সেখানে প্রতিফলিত হয় ভালোবাসার অনুরণন।

অনেকেই নাকি অনুভব করেন

লুৎফা নবাবের সমাধিতে মোমবাতি করেন প্রজ্জ্বলন, আবার ওখানেই বসে মৃত স্বামীর জন্য বিরহের ক্রন্দন।

আসলে তা আর কিছু নয়, কেবলই প্রচলিত গল্প,

যদিও সিরাজ আয়ু পেয়েছিলেন স্বল্প।

আজ সপরিবারে তরুণ নবাব রয়েছেন শায়িত,

সমাহিত নবাব পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা অবিস্মৃত।

………..

Mailing List