তৃণমূল ভয় দেখিয়ে ভোট বন্ধ করে দিতে চাইছে, বললেন মিঠুন চক্রবর্তী

তৃণমূল ভয় দেখিয়ে ভোট বন্ধ করে দিতে চাইছে, বললেন মিঠুন চক্রবর্তী
16 Apr 2021, 08:00 PM

তৃণমূল ভয় দেখিয়ে ভোট বন্ধ করে দিতে চাইছে, বললেন মিঠুন চক্রবর্তী

 

 

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,  বর্ধমান

 

‘তৃণমূল ভয় দেখিয়ে ভোট বন্ধ করতে চাইছে। কিন্তু আমরা ভোট করাবোই। শুক্রবার পূর্ব বর্ধমানে ভোট প্রচারে এসে এমনটাই জানিয়ে দিলেন বলিউড অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। একই সাথে জনসভায় উপস্থিত বিজেপির কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশ্যে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, ‘কারুর কোনও উস্কানিতে পা দেবেননা। সিংহাসনটা আগলে রাখার জন্য ওরা শুধু উস্কানি দিচ্ছে। সবাই ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট নিজে দেবেন। সোনার বাংলা আমরা গড়বোই।‘ মিঠুন চক্রবর্তীর মুখ থেকে এমন বক্তব্য শুনে সভা গুলিতে উপস্থিত থাকা বিজেপির কর্মী ও সমর্থকরা উল্লাসে ফেটে পড়েন।

 

 

ষষ্ঠ দফায় হবে পূর্ব বর্ধমানের যে ৮ টি বিধানসভা আসনে নির্বাচন হবে তার মধ্যে রয়েছে কাটোয়া, ভাতার ও পূর্বস্থলী দক্ষিন  বিধানসভা। এদিন এই তিনটি বিধানসভা আসনে নির্বাচনী প্রচারে আসেন মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী। কাটোয়ায় রোড শো করার পর পূর্বস্থলী দক্ষিন বিধানসভার কাঁকুরিয়া ফুটবল মাঠে জনসভায় যোগ দেন। পূর্বস্থলীতে জানসভা শেষ করে তিনি ভাতারে নির্বাচনী জনসভায় যান। এইসব বিধানসভা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী  বিজেপি প্রার্থী ও এলাকার বিজেপি নেতারা উপস্থিত থাকেন।

 

জনসভা গুলি থেকে মহাগুরু বলেন, ’ওরা পলিটিক্স করতে আসেনি, বিজনেস করতে এসেছে।‘ পাশাপাশি তিনি এও বলেন, বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় এলে কোনও দাঙ্গা হবে না, সন্ত্রাস হবে না, হিংসা হবে না। এটা গ্যারাণ্টি। ওরা অর্থাৎ তৃণমূল বলছে, বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় এলে নাকি হিংসা হবে, দাঙ্গা হবে, অশান্তি হবে। মহাগুরু দাবি করেন এই সবই অপপ্রচার। এই প্রসঙ্গে উদাহরন দিতে গিয়ে মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ায় পর ৭৪ বছরে খুব বেশী হলে ১৪ বছর বিজেপি দল রাজনীতি করছে। বাকি থাকছে ৬০ বছর। সেই ৬০ বছরে তাহলে বিজেপির ভালো হয়নি কেন? কারণ ওরা চায়নি মুসলিম ঘরের ছেলেরা লেখাপড়া শিখুক, জীবনে উন্নতি করুন। মহাগুরু দাবি করেন তাঁরাই অর্থাৎ বিজেপি চায় মুসলিমদের ভালো হোক। হবেও সেটা। সেই গ্যারান্টি আমি দিচ্ছি বলে মহাগুরু মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আমি কথা দিচ্ছি বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর কারুর প্রতি কোনও অন্যায় হবে না। অহেতুক যদি কারুর প্রতি অন্যায় হয় তবে তিনি তার সাধে কাঁধে কাঁধ লাগিয়ে লড়বেন। তবে কেউ যদি অসাংবিধানিক কাজ করে তার পাশে তিনি দাঁড়াবেন না বলে মিঠুন চক্রবর্তী জানিয়ে দেন।

 

 

শীতলকুচির ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, শুধু উস্কানির কারণে পাঁচটা মায়ের কোল খালি হল। বিজেপি বাংলায় ক্ষমাতায় আসার পর কি উন্নয়নের কাজ করবে তার ফিরিস্তিও এদিন জনসভা থেকে তুলে ধরেন মিঠুন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, আমরা যাযা করতে পারবো ঠিক ততটুকুই বলবো।’বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে প্রথম আমাদের জেলা গুলিতে যত জেনারেল হাসপাতাল আছে তার জেনারেল ওয়ার্ড শীততাপ-নিয়ন্ত্রিত করা হবে। কারণ আমার কোনও বোন যখন সন্তানের জন্ম দেবে সেই সময়ে যেন সে একটু আরাম পায়। তার জন্য। দ্বিতীয়ত বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে আমরা বিদ্যুৎতের দাম কমাবোই। তৃতীয়ত মা, বোন ও মহিলারা রাজ্যের যে কোন গণপরিবহনে চড়বেন, এক পয়সা ভাড়া দিতে হবে না। সব ফ্রি। মেয়েদের কেজি থেকে শুরু করে স্কুল ও কলেজের পড়াশুনা সব ফ্রিতে হবে। চতুর্থত: যতজন বিধবা মা বোন আছেন তাঁদের অ্যাকাউন্টে প্রত্যেক মাসে ৩ হাজার টাকা পেনশন  ঢুকে যাবে। এছাড়াও বাড়ির কোন মেয়ের বয়স যখন ১৮ বছর হয়েযাবে সে হিন্দু, মুসলিম, খ্রীষ্টান, শিখ যেই হোক তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ২ লক্ষ টাকা ঢুকে যাবে। এরজন্য কোন এজেন্ট বাবুকে এক পয়সা দিতে হবে না’।

 

 

‘আয়ুস্মান ভারত’ এই রাজ্যে কার্যকর না হওয়া নিয়েও মহাগুরু ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে মহাগুরু বলেন, ‘স্বাস্থ্যসাথী’হয়েছে তা খুব ভালো। কিন্তু আড়াই বছর ধরে ‘আয়ুস্মান ভারত’  নিলেন না কেন? ‘আয়ুস্মান ভারতের’ ফায়দা জানেন? এই কার্ডটা থাকলে রাজ্যের বাইরে যে কোন ভিন রাজ্যেও চিকিৎসা মিলবে। মিঠুন চক্রবর্তী জানিয়েদেন, যেদিন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসবে ৫ লক্ষ টাকা বীমা আপনাদের জন্য ‘আয়ুস্মান ভারতে’ ধার্য্য হবে। মিঠুন চক্রবর্তী এদিন জনসভায় উপস্থিত মানুষজনকে এও জানিয়েদেন, “আমি যা বলি তা করে দেখাই। আমি সেই বার্তা গুলি আপনাদের কাছে পৌছাচ্ছি যেগুলি আমি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে করতে চাই। কারণ আমার পিছনে অনেক অনেক বড় হাত রয়েছে।‘ এরপরেই রেশন দুর্নীতি প্রসঙ্গ সামনে এনে মহাগুরু তৃণমূলের উদ্দেশ্যে বলেন, ’ওরা পলিটিক্স করতে আসেনি, বিজনেস করতে এসেছে। রাজনীতি বিজনেস নয়। রাজনীতি হল জনগনের সেবা করা।‘ মহাগুরু এরপর ঘোষনা করেন, এই সরকারকে (তৃণমূল সরকার) আমরা তুলেই ছাড়বো। আর প্রমাণ করে দেখাবো ’সোনার বাংলা’ কিভাবে গড়তে হয়।‘ মহাগুরুর মুখ থেকে এমন বক্তব্য শুনে জনসভায় উপস্থিত মানুষজনের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়ে যায় তাহলে কি বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় এলে মহুাগুরই মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন।

 

 

Mailing List