প্রাইমারি স্কুলে চাকরি করে দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ৮৩ লক্ষ টাকা প্রতারণা, গ্রেপ্তার তৃণমূলের উপপ্রধান

প্রাইমারি স্কুলে চাকরি করে দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ৮৩ লক্ষ টাকা প্রতারণা, গ্রেপ্তার তৃণমূলের উপপ্রধান
18 May 2022, 03:45 PM

প্রাইমারি স্কুলে চাকরি করে দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ৮৩ লক্ষ টাকা প্রতারণা, গ্রেপ্তার তৃণমূলের উপপ্রধান

 

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান

 

স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। দুর্নীতি মামলায় সিবিআই জেরার মুখোমুখি হওয়ার জন্যে ডাক পড়েছে রাজ্যের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারী ও তাঁর কন্যার। এই অবস্থার মধ্যেই বুধবার প্রকাশ্যে এল প্রাইমারি স্কুলে চাকরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক তৃণমূল নেতা প্রায় ৮৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বেকারদের কাছ থেকে। তবে ওই প্রতারক তৃণমূল কংগ্রেস নেতাকে পুলিশ যদিও রেহাই দেয়নি।

 

চাকরি দেওয়ার নামে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে  পুলিশ তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের ঝিলু ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ প্রধানকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতের নাম শেখ হেকমত আলি। তাঁর বাড়ি মঙ্গলকোটের নওয়াপড়ায়। মঙ্গলকোট থানার পুলিশ মঙ্গলবার রাতে বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। প্রতারণার একাধীক ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ এদিনই ধৃতকে পেশ করে কাটোয়া মহকুমা আদালতে। তদন্তের প্রয়োজনে ধৃতকে সাত দিন পুলিশি হেপাজতে নেওয়ার আবেদনও জানিয়েছেন তদন্তকারী অফিসার। উপপ্রধানের দৃষ্টান্তমূলক সাজার দাবি করেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,বীরভূমের কীর্ণাহার থানার সরডাঙা গ্রামে বসবাস করেন মহম্মদ বদরুদোজ্জা। প্রতারণার বিষয়ে  মঙ্গলবার তিনি মঙ্গলকোট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর উপপ্রধান শেখ হেকমত আলির মেয়ের সঙ্গে তাঁর ছেলে মহম্মদ গোলাম জামিমের বিয়ে হয়। তারপরে হেকমত আলি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জামিম কে প্রাইমারি স্কুলে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কয়েক দফায় মোটা টাকা নেয়। কিন্তু টাকা নিলেও চাকরি কোন ব্যবস্থা হয় না। টাকা ফেরৎ চাইলেও তা দেয় না হেকমত আলি। প্রাতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে মহম্মদ বদরুদোজ্জা মঙ্গলবার মঙ্গলকোট থানার দ্বারস্থ হন। অভিযোগের তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে,“প্রাইমারি স্কুলে চাকরি করে প্রতিশ্রুতি দিয়ে উপপ্রধান হেকমত আলি ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত ১২ জনের কাছ থেকে প্রায় ৮৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে”। 

এই প্রতারণার বিষয়ে মঙ্গলকোটের তৃণমূল বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরির সাফ জবাব, ’প্রশাসন প্রশাসনের কাজ করছে’। জেলা বিজেপি নেতারা যদিও এই প্রতারণার বিষয়টিকে নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে বিঁধতে ছাড়েনি। জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি সৌম্যরাজ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, প্রতারণা, কাটমানি আদায়, ’তোলাবাজি এটাই তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা নেত্রীদের মূল ভিত্তি। এই ব্যাপারে তৃণমূলের নেতা নেত্রীরা নিজের আত্মীয় পরিজনকও রেহাই দেন না। সৌমরাজ বাবু স্পষ্ট জানিয়ে দেন ,পুলিশ তৃণমূলের প্রতারক উপপ্রধানের দৃষ্টান্তমূল শাস্তির ব্যবস্থা না করলে বিজেপি বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে ’।

ads

Mailing List