সাহিত্যিক লীলা মজুমদারের জন্মদিনে শ্রদ্ধা

সাহিত্যিক লীলা মজুমদারের জন্মদিনে শ্রদ্ধা
26 Feb 2021, 10:44 PM

সাহিত্যিক লীলা মজুমদারের জন্মদিনে শ্রদ্ধা

 

কৌস্তভ ব্যানার্জি

 

আজ আমাদের প্রিয় সাহিত্যিক লীলা মজুমদারের জন্মদিন। তাঁকে নিয়ে দেবাশিস মজুমদারের একটি লেখা দিয়ে শুরু করে তারপর যাব আমার নিবেদনে।

 

উনিশ শতকের যে মহিলা সাহিত্যিকরা বাংলা সাহিত্যকে তাঁদের প্রতিভায় স্বর্ণাক্ষরে ভরিয়ে তুলেছিলেন তাঁদের মধ্যে লীলা মজুমদার অগ্রগণ্য। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অনেক উঁচু সিঁড়িতে উঠেও তিনি জগৎটাকে দেখেছেন শিশুর চোখ দিয়ে। ছোটদের জন্য কল্পনা আর বাস্তবের লীলাভূমি রচনা করেছিলেন লীলা মজুমদার।

 

উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরির কনিষ্ঠ ভ্রাতা প্রমদারঞ্জন রায়ের কণিষ্ঠ কন্যা লীলার জন্ম উনিশশো আট সালের ছাব্বিশে ফেব্রুয়ারি। 'বনের খবর' -এর লেখক প্রমদারঞ্জন অসাধারণ গল্প বলতে পারতেন। তাঁর সম্বন্ধে লীলা মজুমদার লিখেছেন, "ওই তীক্ষ্ণবুদ্ধি রাগী বাবা ছাড়া আর কেউ আমার বাবা হতে পারত না।" মাতা সুরমা দেবীর পিতা হিমারণ্য বইটির লেখক বিশ্বনাথ ভট্টাচার্য ছিলেন প্রথম ভারতীয় লেখক যিনি কৈলাশ ও মানস সরোবর গিয়েছিলেন।কাজেই পারিবারিক সূত্রেই সাহিত্য উত্তরাধিকার অর্জিত হয়েছিল লীলা দেবীর।

 

লীলা মজুমদার যেন মধুতে কলম ডুবিয়ে লিখতেন। তাঁর অসম্ভব পান্ডিত্য সেই মধুর ধারায় কখন যেন দ্রব হয়ে গিয়েছিল। বাস্তবের কঠিন কথাগুলোকে কল্পনার সোনালী মোড়কে বন্দী করে রেখে গিয়েছেন লীলা মজুমদার।

এবার আসি আমার কথায়। আমি লীলা মজুমদারকে দেখার সৌভাগ্য অর্জন করিনি, তবে তাঁর সম্বন্ধে অনেক কিছু জেনেছি আমার অত্যন্ত প্রিয় মানুষ অধ্যাপক প্রণব মুখোপাধ্যায়ের কাছে। প্রণবদা দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন সন্দেশ পত্রিকার সঙ্গে। ছিলেন সম্পাদক মন্ডলীতে; পরে কার্যনির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। লীলা মজুমদারের প্রয়াণের পর দুটি সভায় প্রণবদার অসাধারণ বক্তব্য শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছিল। তবে দূঃখের বিষয় সেই বক্তব্য কেউ রেকর্ড করেছিল বলে মনে হয় না।

 

প্রণবদার থেকে শোনা লীলা মজুমদার সম্বন্ধে অনেক ঘটনার মধ্যে আমি আজ একটি ঘটনার উল্লেখ করব। লীলা মজুমদার প্রণবদাকে নিজের ছেলের মত স্নেহ করতেন। প্রণবদার সঙ্গে তাঁর লীলাদির নানা বিষয়ে কথা হত। একদিন লীলা মজুমদার বললেন তাঁর বিয়ের গল্প। লীলাদের পরিবার ছিল ব্রাহ্ম ধর্মাবলম্বী। যখন লীলার বিয়ের জন্য তাঁর বাবা পাত্র দেখা শুরু করতে চলেছেন, তখন লীলা জানালেন তাঁর পছন্দের পাত্রের কথা। লীলার বাবা প্রমদারঞ্জন লীলার পছন্দের পাত্রটির সঙ্গে আলাপ করতে চাইলেন। পাত্র সুধীরকুমার মজুমদার এলেন লীলার বাবার সঙ্গে আলাপ করতে, তিনি ধর্মীয় পরিচয়ে হিন্দু। পরে লীলা সুধীর মজুমদারের কাছে জানতে চাইলেন, তাঁর বাবার সঙ্গে কি কথা হল। সুধীরকুমার বললেন," সবই ঠিক আছে, তবে তোমার বাবা আমাকে ব্রাহ্ম হবার প্রস্তাব দিয়েছেন; তা ব্রাহ্ম হতে আর আমার সমস্যা কি আছে।" তখন লীলা স্পষ্টভাবে বললেন, " তুমি যদি ব্রাহ্ম হও, তাহলে আমি তোমাকে বিয়ে করব না।"

Mailing List