‘নিষিদ্ধ দেশ’ তিব্বত আর ‘নিষিদ্ধ নগরী’ লাসা-র আচার আচরণ এক অদ্ভূত নিয়মে আবদ্ধ

‘নিষিদ্ধ দেশ’ তিব্বত আর ‘নিষিদ্ধ নগরী’ লাসা-র আচার আচরণ এক অদ্ভূত নিয়মে আবদ্ধ
19 Sep 2021, 01:26 PM

নিষিদ্ধ দেশ তিব্বত আর নিষিদ্ধ নগরীলাসা-র আচার আচরণ এক অদ্ভূত নিয়মে আবদ্ধ

 

কল্পনায় স্বর্গের একটা রূপ রয়েছে প্রত্যেকের মনেই। তাই তো মনের গোপনে কোথাও লুকিয়ে থাকে স্বর্গে পৌঁছনোর বাসনা। কিন্তু সে স্বর্গের অস্তিত্ব কেবলই কল্পনায়। কারণ, যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ ততক্ষণ সেখানে পৌঁছনোর কথা ভাবারও উপায় নেই। অথচ, এ বিশ্বেই এমন বহু স্বর্গীয় দৃশ্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। প্রকৃতির সেই উজাড় করা সৌন্দর্য হয়তো কল্পনার স্বর্গকে হার মানাতে পারে। সেখানকার মানুষের আচার-আচরণ, কৃষি, অর্থনীতি, ভূপ্রকৃতি- সত্যিই অন্য অনুভূতি জাগায়। তারই পাশাপাশি মিলতে পারে অনেক অজানা তথ্য। বিশ্বজুড়ে এমন কত ছোটখাটো দেশ, ভাস্কর্য রয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। এমনই একটি ঘটনার কাহিনী লিখছেন-

দীপান্বিতা ঘোষ

 

বিশ্ববাসীর কাছে তিব্বত ও তার রাজধানী লাসা’র পরিচয় যথাক্রমে নিষিদ্ধ দেশ এবং নিষিদ্ধ নগরী হিসেবে। কিন্তু কেন নিষিদ্ধ তা জানার কৌতুহল বোধ হয় সবার। তিব্বত সম্পর্কে সমস্ত রকম তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করব আজকের লেখাতে।

 

 

অবস্থান:

 

তিব্বত মূলত একটি মালভূমি, যা তিব্বত বা হিমালয়ান মালভূমি নামে পরিচিত। মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত এই মালভূমিটি তিব্বত স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল ছাড়াও চীনের কিংহাই এবং ভারতের লাদাখ ও লাহুল, স্পিতি এলাকা নিয়ে গঠিত।

    

এর উত্তর-দক্ষিণে বিস্তার ১০০০ কিমি।পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তার ২৫০০ কিমি। গড় উচ্চতা ৪৫০০ মিটার।

আয়তন ও জনসংখ্যা:

 

সব মিলিয়ে পুরো তিব্বত মালভুমির আয়তন প্রায় ২৫ লক্ষ বর্গকিমি হলেও রাজনৈতিকভাবে তিব্বত হিসেবে পরিচিত এলাকাটির আয়তন ১২ লক্ষ বর্গকিমি।

         

অথচ জনসংখ্যা মাত্র ৩০ লক্ষ। অর্থাৎ প্রতি বর্গকিমিতে গড়ে আড়াই জন মানুষ বাস করে। অথচ তিব্বতের উপর রাজনৈতিক ভাবে নিয়ন্ত্রণাধীন চীনে প্রতি বর্গকিমিতে গড়ে ১৪৫ জন লোক বাস করে।

 

বেশ কিছু বিশ্বরেকর্ড:

 

তিব্বত মালভূমি ও সেখানকার অধিবাসীরা এই অঞ্চলের উচ্চতার কারণে বেশ কিছু রেকর্ডের অধিকারী।

    

পৃথিবীর সর্বোচ্চ জনপদ থেকে শুরু করে দীর্ঘতম রানওয়েটির অবস্থান এখানেই। বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ মালভূমি পামীর এই তিব্বতেই অবস্থিত।

      

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা যতো বাড়ে বায়ুমণ্ডলের চাপ তত কমে যাওয়ায় উড্ডয়নের জন্য উড়োজাহাজ গুলোর অপেক্ষাকৃত লম্বা রানওয়ের প্রয়োজন পড়ে। সেই কারণে বিশ্বের দীর্ঘতম রানওয়েটির অবস্থান তিব্বতে, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৬ কিমি।

     

বিশ্বের দীর্ঘতম রানওয়ের মতো বিশ্বের সর্বোচ্চ রেললাইনটিও তিব্বতে অবস্থিত। চীনের মূল ভূ-খণ্ডের সাথে তিব্বত কে সংযুক্ত করা এই রেল লাইনটি অতিক্রমের সময় রেলগাড়ি গুলোকে ৫০০০ মিটারের বেশি উচ্চতায় উঠতে হয়। ওই সময় রেলগাড়ির প্রত্যেক যাত্রীর জন্য আলাদা অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হয়।

 

পাশাপাশি প্রতি বগির জন্য একজন করে চিকিৎসক থাকাও বাধ্যতামূলক করা হয়।

 

নিষিদ্ধ কেন?

 

নিষিদ্ধ দেশ হিসেবে পরিচিতির মূলে রয়েছে তিব্বতের প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ, বিদেশিদের প্রবেশাধিকার না দেওয়া, লামাদের নিয়ম কানুনের কঠোরতা....ইত্যাদি নানা কারণ।

 

 

১। প্রাকৃতিক পরিবেশ-      

হিমালয় পর্বত মালার উত্তর অংশে অবস্থিত এ অঞ্চলের ভূমি উষর, রুক্ষ আর পাথুরে। হাজার হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থিত হওয়ায় সেই মাটিও বছরের আট মাস বরফে ঢাকা থাকে।

 

) প্রকৃতির দেওয়াল

         

একদিকে হিমালয়ের দুর্ভেদ্য দেওয়াল অপরদিকে গোবি মরুভূমির রুক্ষতা তিব্বতকে বাইরের বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিলো।

 

) অতিরিক্ত উচ্চতা:

          

তিব্বত পৃথিবীর এমনই উচ্চতম স্থান,যার সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড় উচ্চতা ১৬,০০০ ফুট, ফলে স্বাভাবিক ভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়াও কষ্টকর।

     

যোগাযোগ ব্যবস্থার অপ্রতুলতা ও বিপজ্জনক আবহাওয়ার কারণে মানুষও তিব্বত ভ্রমণে আগ্রহ দেখায়নি।

 

)ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা:

        

ধর্মীয় অনুভূতি জড়িয়ে থাকায় ও তিব্বতীদের প্রধান ধর্মগুরু দালাইলামার নিষেধাজ্ঞা থাকায় এখানে বহুকাল ধরে বহির্বিশ্বের কারো  ঢোকার অনুমতি ছিল না। যদিও ১৯৮০ সালের পর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়, তবুও নিয়ম কানুনের কিছুটা কঠোরতা থেকেই গেছে।

নিষিদ্ধ নগরী লাসা:

 

        

তিব্বতের সবচেয়ে বড়ো রহস্য হচ্ছে এর রাজধানী লাসা, যাকে নিষিদ্ধ নগরী বলা হয়। "লাসা" শব্দটির অর্থ হচ্ছে "ঈশ্বরের স্থান"। তিব্বতীদের জীবনে ধর্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। আর ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক স্থানগুলোর কেন্দ্রে রয়েছে লাসা।

        

তিব্বতীদের প্রধান ধর্মগুরু দালাইলামার বাসস্থান হিসেবে পরিচিত সোনার চূড়া দেওয়া বিখ্যাত পোতালা প্রাসাদটিও রয়েছে এই লাসা শহরে।

 

 

১৬৪৯ সালে এই প্রাসাদ নির্মিত হলেও ১৯০৪ সালে আমেরিকার বিখ্যাত National Geographic পত্রিকার কল্যানে এই প্রাসাদটি সম্পর্কে জানতে পারে বিশ্ববাসী।

 

এছাড়াও শহরজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য বৌদ্ধ মন্দির, যেগুলোর ভেতর প্রজ্জ্বলিত রয়েছে সোনার তৈরি প্রদীপ। এমনকি ৪০০০ ভরি ওজনেরও একটি প্রদীপ রয়েছে।

 

ধর্মীয় অনুভূতি আর নিরাপত্তার কারণে বাইরের মানুষের যেহেতু এ নগরে প্রবেশাধিকার ছিলো না, তাই বহির্বিশ্বের কাছে "নিষিদ্ধ নগরী" হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠতে "লাসা" বেশী সময় নেয়নি।

সম্রাট সাগেন পো ছিলেন এই লাসা নগরীর প্রতিষ্ঠাতা।

কৈলাস পর্বত:

 

তিব্বতে অবস্থিত বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট মানুষ হাজার বার অতিক্রম করলেও এর তুলনায় ২ কিমি কম উঁচু একটি পর্বত চূড়া এখনও মানুষের অধরা থেকে গেছে। কৈলাস নামক এই পর্বতটি একাধারে হিন্দু, বৌদ্ধ এবং জৈন ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্র হিসেবে গণ্য হয়।

 

স্বাধীন তিব্বতের নির্বাসিত সরকার প্রতিষ্ঠা:

 

১৯১২ খ্রিস্টাব্দে ত্রয়োদশ দালাইলামা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত গণচীনের একটি স্ব-শাসিত অঞ্চল তিব্বত। এই অঞ্চলটি চীনের অংশ হলেও এখানকার অনেক তিব্বতী এই অঞ্চলকে চীনের অংশ মানতে নারাজ ১৯৫৯ সালে গণচীনের বিরুদ্ধে তিব্বতীরা স্বাধিকার আন্দোলন করলে সেটি ব্যর্থ হয় তখন দালাইলামার নেতৃত্বে অসংখ্য তিব্বতী ভারত সরকারের আশ্রয় গ্রহণ পূর্বক হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালায় বসবাস শুরু করেন। সেখানে স্বাধীন তিব্বতের নির্বাসিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।

 

দালাইলামার এই স্বেচ্ছা নির্বাসনকে পুঁজি করে পুরো তিব্বত জুড়ে আগ্রাসী সংস্কার কর্মকান্ড চালায় চীনের কমিউনিস্ট পার্টি। যার ধারাবাহিকতায় তিব্বতে অন্তত ৬০০০ উপাসনালয় ভেঙে ফেলা হয়।

     

কথিত এই সংস্কারের আওতায় কমিউনিস্ট পার্টি নিয়ন্ত্রণাধীন চীনা সেনাবাহিনীর হাতে ২ লক্ষ থেকে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়।

     

এই তিব্বত সহ বেশ কিছু ইস্যুতে ১৯৬২ সালে চীন ও ভারত সশস্ত্র যুদ্ধের মুখোমুখি হয়।

এশিয়ার জলাধার:

 

 এখানে অবস্থিত হ্রদ এবং হিমবাহ থেকে এশিয়ার বৃহত্তম একাধিক নদীর উৎপত্তি হয়েছে। জনসংখ্যার বিচারে পৃথিবীর শতকরা ৪৬ ভাগ বা অর্ধেক মানুষই জীবনধারণের জন্য এই তিব্বত মালভূমিতে সৃষ্ট বিভিন্ন নদনদীর উপর নির্ভর করে। এখানে উৎপন্ন প্রধান নদনদীগুলো হল সিন্ধু, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, ইরাবতী, সালুইন এবং মেকং।এই নদনদীগুলোর উপর প্রত্যক্ষ ভাবে নির্ভরশীল দেশগুলোর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় জনবহুল দেশ চীন ও ভারত ছাড়াও রয়েছে নেপাল, ভূটান, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, লাওস এবং থাইল্যান্ড।

 

দালাইলামা বা নেতা নির্বাচন:

 

চতুর্দশ শতক থেকে তিব্বতীরা তাদের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা দালাইলামকে তিব্বতের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা হিসেবে বেছে নেয়। সেই থেকেই তিব্বত দালাইলামাদের দ্বারাই শাসিত হয়ে আসছে। তিব্বতীদের এই লামা বা নেতা নির্বাচনের পদ্ধতিটি খুবই বিচিত্র।

 

কিন্তু কোন লামার মৃত্যু হলে পরবর্তী লামা নির্বাচনের জন্য লামারা পূর্বে লাসার পূর্বে লহামপূর্ণ সরোবরের তীরে ধ্যান করতে বসে। ধ্যানযোগে লামারা দেখতে পায় সেই সরোবরের স্বচ্ছ জলের উপর ভেসে উঠছে একটি গুহার প্রতিবিম্ব। যে গুহার পাশে আছে একটি ছোট বাড়ি। প্রধান লামা টন তাঁর অলৌকিক ক্ষমতার মাধ্যমে এঁকে দেবে নূতন দালাইলামার ছবি। তারপর কয়েকজন লামা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে ঘরে ঘরে গিয়ে সেই ছবির হুবহু শিশুটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করে। এভাবেই তারা খুঁজে বের করে তাদের নূতন দালাইলামকে।

 

মৃতদেহের সৎকার:

       

তিব্বতীদের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী আচার হল মৃতদেহের সৎকার। কোনো তিব্বতী মারা গেলে ঐ মৃতদেহ ছুঁতে দেওয়া হয় না। ঘরের কোনায় মৃতদেহটি বসিয়ে চাদর অথবা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। মৃতদেহের পাশে জ্বালিয়ে রাখা হয় পাঁচটি প্রদীপ। তারপর পুরোহিত পোবো লামাকে ডাকা হয়। পোবো লামা একাই ঘরে ঢোকে, এবং ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে দেয়। এরপর মন্ত্র পড়ে শরীর থেকে আত্মাকে বের করার চেষ্টা করে। প্রথমে মৃতদেহের মাথা থেকে তিন-চার গোছা চুল টেনে উপড়ে আনে। তারপর পাথরের ছুরি দিয়ে মৃতদেহের কপালের খানিকটা চিরে দেয়। ওদের বিশ্বাস ঐ রাস্তা দিয়েই শরীর থেকে প্রেতাত্মা বেরিয়ে যাবে।

      

এরপর মৃতদেহ মাটি চাপা দেওয়া বা পোড়ানোর পরিবর্তে তারা নিয়ে যায় পাহাড়ের কোনো চূড়ায়। সেখানে ঘাতক মন্ত্র পড়তে পড়তে শরীরে বেশ কয়েকটি দাগ কাটে। দাগ কাটার পর একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে সেই দাগ ধরে টুকরো টুকরো করে কেটে পাহাড়ের উপর থাকা শকুনকে খাইয়ে দেয়। তিব্বতের প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী পাহাড়ে থাকা শকুনের পাল মরদেহের সৎকার ও আত্মাকে স্বর্গে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

বিবাহ:

      

তিব্বতীরা স্থানীয় সংস্কার অনুযায়ী বিবাহের ব্যাপারেও ব্যতিক্রমী ধারণা পোষণ করেন। এখানে সাধারণত এক নারী ও এক পুরুষের বিবাহ হয় না, বরং মহাভারতের পঞ্চপাণ্ডবের ধারা অনুসরণ করে এক নারী পরিবারের সব ভাইকে একসাথে বিয়ে করে।

     

সমাজবিজ্ঞানীদের সমীক্ষা অনুযায়ী এই এলাকার অধিবাসীদের অধিকাংশই দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করায় এই প্রথা প্রচলিত হয়েছে।

জীবিকা ও খাদ্য:

 

তিব্বতী সমাজের গুরুত্বপূর্ণ জীবিকা যাযাবর বা রাখাল জীবনযাপন। তিব্বত স্ব-শাসিত অঞ্চলের মোট জনসংখ্যার ২৪ শতাংশ এই যাযাবর-রাখাল সম্প্রদায়।এরা কখনো চাষবাসের কাজ করে না।মোট ভূমির ৬৯ শতাংশ এলাকা চারণ বা তৃণভূমি।এরা ভেড়া, ছাগল ও ঘোড়া পালন করে।

      

চা এদের খুব প্রিয়। তবে চায়ের সঙ্গে এরা মাখন ও লবন মেশায়। এদের প্রধান খাবার চমবা। গম এবং যব কে ভেজে পিষে চমবা তৈরি করা হয়। শুনলে অবাক হতে হবে উকুন এদের খুব প্রিয় খাবার।

তাই আধুনিক বিশ্ব দিন দিন আধুনিক হলেও তিব্বত এখনো নানা ব্যাপারে রহস্য ঘেরা হয়ে রয়েছে।

ads

Mailing List