বিরূপাক্ষ পণ্ডার তিনটি কবিতা - কবিতাযাপন, কথার মানুষ ও একটি জরুরি আবেদন

বিরূপাক্ষ পণ্ডার তিনটি কবিতা - কবিতাযাপন, কথার মানুষ ও একটি জরুরি আবেদন
28 Aug 2022, 10:15 AM

বিরূপাক্ষ পণ্ডার তিনটি কবিতা

বিরূপাক্ষ পণ্ডা

 

কবিতাযাপন

 

 

তারপর থেকে কথা। কথার পিঠে কথা। কদমফুল।

সবুজ ধানগাছে এই বৃষ্টি এই রোদ। ডিমের কুসুম।

ভোরের শিশির ঘাসের উপর মরে। শিল্প-সম্ভাবনা।

মানুষই ধর্মকর্ম। শিশুর গালে ঠোঁট। সনাতন ভারত।

 

কিন্তুর পর কিন্তু

 

সব কিছু জানা শোনার পর

আর কি দাঁড়িয়ে থাকা যায় --

কমা'র পর কমা'র দীর্ঘ লাইন ধরে?

এখন বুকভরা নিঃশ্বাস প্রশ্বাসও

আগুন শিখার মতো কাঁপে।

 

অথচ পাখি ডানা মেলে ওড়ে, শিস্ দ‍্যায়

আর আমরা বসে আছি কুঁজোর মতো

এবং ফাঁসির শবের মতো ঝুলিয়ে রেখেছি

                                   কিন্তু'র পর কিন্তু

............

 

 

কথার মানুষ

 

রক্তমাংসহীন এই স্মৃতিই আমার নাটমন্দির। শরীর জুড়ে রি রি করে ভোগ। রাজভোগ। মানুষের মতো মানুষ হওয়ার এই যোগ নিয়ে রাত্রির গভীরতা ছুঁয়ে গেছে অনেক নিশাচর।

 

তারপরই এসে গেল অন্যমনস্ক স্বর। নিশ্চিন্ত হল সারমেয় জীবনের প্রথা। রহস্য হারেমে ঢুকে পড়লো লোভী মীরজাফর। পেরিয়ে গেল কাল। ক্রমানুসারে সাজানো রইল ঘুমের বড়ি।

 

ওরা যারা আজও আসে তারা শুধুই দর্পণে ভাসে। তাদের নিয়ে ঝড় বৃষ্টির বিধান

 

খন্ডানোর হনন পর্বে সহজেই ঢুকে পড়ে উপকথা।

 

স্বাক্ষর জ্ঞানের অহঙ্কারে শরীর বেঁচে আছে। মরে ভূত হয়ে গ্যাছে কথার মানুষ।

..............

 

 

একটি জরুরি আবেদন

 

আমার নিজের ভেতরে থাকা

আর-একটা জীবনকে বের করতে পারি না

 রাগে, ক্ষোভে, প্রেমেও না

 নেশার ঘোরেও না

তার রূপই বা কেমন ইত্যাদি ভাবতে ভাবতে

আমি এখন চ্যাপটা চাঁদ।

 

এমনি সময়ে খেলার ছলে।

ঝকাস্ মনে করলেও আমি কিন্তু লক্।

 

তাই ঝুল বারান্দায় রোদের কোলে আমি একা

কেউ এসে বের করে দেবেন আমার ভেতরের লোকটাকে?

 

লেখক পরিচিতি: বিরূপাক্ষ পণ্ডা। জন্ম ১৯৬৮ সালের ২ মে। পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন থানার তালদা গ্রামে। পেশায় অক্ষরকর্মী। নিত্য নতুন বই ও সাময়িক পত্র-পত্রিকা সংগ্রহ ও পাঠে মনোযোগ বেশি। এ পযর্ন্ত প্রকাশিত পাঁচটি কাব‍্যগ্রন্থ। সম্পাদিত কবিতা সংকলন দুটি। সাতাশ বছর ধরে সম্পাদনা করে চলেছেন কবিতা ও কবিতা বিষয়ক পত্রিকা "প্রতিকথা"।

Mailing List