বিরূপাক্ষ পণ্ডার তিনটি কবিতা – অন্তর্দাহ, বিষণ্ণ পাণ্ডুলিপি ও একদিন নয়, প্রতিদিন

বিরূপাক্ষ পণ্ডার তিনটি কবিতা – অন্তর্দাহ, বিষণ্ণ পাণ্ডুলিপি ও একদিন নয়, প্রতিদিন
21 Aug 2022, 12:40 PM

বিরূপাক্ষ পণ্ডার তিনটি কবিতা – অন্তর্দাহ, বিষণ্ণ পাণ্ডুলিপি ও একদিন নয়, প্রতিদিন

বিরূপাক্ষ পণ্ডা

 

অন্তর্দাহ

 

ছায়ার মতো তোমার চলে যাওয়ায় আমিও নীরব। এই অস্বস্তি প্রকাশকালে মেঘ এসে ফেঁসে যায় আমার গভীরে। জানালায় উঁকি মারে বিজলী বাতাস এবং ঝমাঝম্ জলের শরক্ষেপ। তবুও অপলক থাকে অমাবস্যার চোখ।

 

আসলে নীরবতার শ্রেষ্ঠ উপত্যকা জুড়ে খেলা করে অনুপম আমারই বিকৃতি। গড়ন ভাঙন থেকে শুরু করে ঘুমন্ত জাগ্রত সব স্রোতেই একার শরীরী কথায় এঁকে ফেলেছি অনেক অনেক বিভাজন রেখা। তবুও কল কল কথা বলে সার্কাসের তাঁবু।

 

এমনি করেই সমস্ত শব্দের ভিতরে খেলা করে এক একটি শীলমোহর। তালিমারা ঘরের দরজায় আঁকা হয় অজন্তা ইলোরা। দেওয়ালে কার্নিসে থাকা রকমারি পোকার কোরাসে অনিবার্য হয় দিনরাত্রি ও শিশিরপতন। তবুও পত্রপুষ্পে রঞ্জিত হয় কুমারী চরিত্র।

 

হায় আলো! হায় ছায়া! কোন সে অমোঘ সত্য এনে বানাও মানুষ কিংবা কোন সে আগুন এনে পোড়াও মাটি যার ফলে নদীর প্রতীকে ধরা এ জীবন বাঁচে ক্ষণকাল!

.......

বিষণ্ণ পাণ্ডুলিপি

 

দুঃস্বপ্নের রাত। মৃত্যুর জ্বলন্ত স্মরণ

 দুচোখে ঢাকা আতঙ্কে মন্দির মসজিদ।

 

দীর্ঘছায়া পাতানো রুগ্ন সময়

অন্নাভাবে গিলে খাচ্ছে ভারতীয় মানচিত্র

 

ওপরে ধোঁয়ার আকাশ তাসের তুরুপ

নীচের সবই নটরাজের জটার বাঁধন।

.......

 

একদিন নয়, প্রতিদিন

 

একদিন নয়, প্রতিদিন

ঘর থেকে বেরিয়ে আসার সময়

আকাশটা একটা কালো রঙের চাদর জড়িয়ে

 নিচের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

 

তখন খবরের কাগজে কাঁদে ডাইনি সন্দেহে হত্যা

শহরের গুন্ডাগর্দি, গ্রামের বাস্তু কাড়াকাড়ি

 ক্রমশঃ বেলা বয়ে যায়, সময় এগোয়

তবুও ডানা মেলে উড়ে আসে না

অমল বাতাস। বরং

আরও ভয়ঙ্কর হয় হতাশার শকুনি, কালনেমি

লেখক পরিচিতি: বিরূপাক্ষ পণ্ডা। জন্ম- ১৯৬৮ সালের ২ মে। পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন থানার তালদা গ্রামে। পেশায় অক্ষরকর্মী। নিত্য নতুন বই ও সাময়িক পত্র-পত্রিকা সংগ্রহ ও পাঠে মনোযোগ বেশি। এ পযর্ন্ত প্রকাশিত পাঁচটি কাব‍্যগ্রন্থ। সম্পাদিত কবিতা সংকলন দুটি। সাতাশ বছর ধরে সম্পাদনা করে চলেছেন  কবিতা ও কবিতা বিষয়ক পত্রিকা " প্রতিকথা"।

Mailing List