পারমিতা ভট্টাচার্যর তিনটি কবিতা

পারমিতা ভট্টাচার্যর তিনটি কবিতা
20 Sep 2020, 06:12 PM

পারমিতা ভট্টাচার্যর তিনটি কবিতা

 

তিন সত্যি

এবার তোমার সঙ্গে দেখা হলে

ভিক্টোরিয়ার সবুজে তোমার কোলে মাথা রেখে নীল আকাশ দেখব,

তোমার হাত ধরে রেড রোডে হাঁটব,

বিদ্যাসাগর সেতুর উপর দাঁড়িয়ে তোমাকে জড়িয়ে ধরব,

লঞ্চ চেপে গঙ্গার এপার থেকে ওপার যাব,

কফিহাউসে বসে এক কাপ কফিতে দুজনেই চুমুক দেব,

প্রিন্সেপ ঘাটে তোমার কাঁধে মাথা রেখে পশ্চিমে অস্তরাগ দেখব,

ডিঙিতে শুয়ে আমি তোমাকে কবিতা শোনাব,

তোমার দুষ্টু হাত ছুঁয়ে দেবে আমার ঠোঁট,

মেট্রোরেলে এলোপাথাড়ি এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে ঘুরপাক করব,

রাজারহাটের চওড়া রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে তোমাকে একটা চুমু খাব,

বৃষ্টি এলে এক ছাতার নীচে তোমার কোমর জড়িয়ে এলোমেলো পায়ে হাঁটব,

তুমি জুঁইয়ের মালা আমার খোঁপায় বেঁধে দেবে যখন-

আমি লজ্জায় মুখ তুলবো না

বকুলবিথীর তলে দুজন দুজনকে প্রাণভরে দেখব,

ভোরের নরম আলো মেখে দুজনেই নদী হব,

 

তারপর...

 

ফিরে আসার দিন তোমার বুক ভিজিয়ে দেব,

 

এবার তোমার সঙ্গে দেখা হলে,

'ভালবাসি' বলবই না

 

তিন সত্যি!

…………

 

 

 সুবর্ণরেখার তীরে

 

কেউ আসে না , কেউ চলেও যায় না

সবাই থাকে কারণে-অকারণে

বাতাসে উড়ন্ত ধুলো

মাঝে মধ্যে হুলুস্থুল করে--

ঘরবাড়ি, ফুলের বাগান, রাস্তাঘাট

 

তখন,

আমি সুবর্ণরেখায় পা ডুবিয়ে

ছায়ার দৈর্ঘ্য মাপি।

……………….

 

 

 সম্পর্ক

বাগানে টগর ফুটলে মনে হয়,

কিছু ছবি স্থবির হলেও হাতের রেখার মতন স্পষ্ট।

বারান্দার কার্নিশে শালিক এলে মনে হয়, দূরের লোক পাশে আছে,আবছায়া-বৃত্তে।

কখনও মনে হয়- কোনও মেঘ জমেনি, রাস্তাও ফুরিয়ে যায়নি।

জীর্ণ দড়িতে রঙিন ক্লিপে আটকানো শুকনো কাপড় খরস্রোতে আন্দোলিত হয়!

Mailing List