গৌতম সরকারের তিনটি কবিতা

 গৌতম সরকারের তিনটি কবিতা
16 Aug 2020, 11:15 AM

 গৌতম সরকারের তিনটি কবিতা

 

নারী

ছোট্ট কুঁড়ে একঘরে সে

নাপিত-ধোপা আড়ি...

মধ্যিখানে বাড়ছে সে এক

আট বছরের নারী....

 

স্কুল-টুল সব বন্ধ তার

        বন্ধুরা সব আড়ি

যুগের হাওয়া বুকে নিয়ে

      বাড়ছে সে এক নারী।

 

কলতলাতে জায়গা নেই...

       পুকুর-পাকুড় বাদ

বাড়ছে মেয়ে ....বাড়ছে বয়স

          বাড়ছে অবসাদ।

 

তারপরেতে হঠাৎ মেয়ে....

        বুঝলো অবশেষে

কঠোর যাপন যাচ্ছে ভেসে

        মেঘ কুয়াশায় এসে।

 

একদিন এক অন্ধকারে ....

    হিসেব নিকেশ শেষে,

 বুঝলো মেয়ে ...পুরুষ পশু

        মূল্য দিল অবশেষে।।

...................

 

চোরাটান

 

তারপর চলতে চলতে চলতে চলতে

সেই নারীর সাথে দেখা,

হলুদ ছোপানো শাড়ির আগুনে

কালো পাথরে কোঁদা সারা শরীর জুড়ে

ভয়ঙ্কর দাবানল ...

চারপাশ জুড়ে তুমুল জ্বরে কাঁপছে জড় ও জীবজগৎ.....

আচমকা বিদ্যুতের ফালাকাটা ঝলকানিতে

বিদীর্ণ এ দুবলা হৃদয়------

তারপর পড়ে থাকে কিছু ঝরাপাতা, ছাইভস্ম, পোড়াকাঠ কিংবা বাসী ফুলের মালা।।

 উদাসী হাওয়া তার খেয়ালি মর্জিতে উড়িয়ে নিয়ে যায় সব দাহ.......থেকে যায় শুধু কিছু দাগ আর স্মৃতি ।

 

"তারপর যেতে যেতে যেতে যেতে

এক নদীর সাথে দেখা",

তরুণী নদী তার হলুদ গোলা শাড়ির আঁচলে

ঝংকার তুলে নুড়ি, পাথর, মাটির অনভ্যস্ত স্তর পেরিয়ে গড়িয়ে নেমে গেছে অতল গহ্বরে,

রঙিন ইশারায় থমকে যায় আমার অভ্যস্ত পথচলা,

তরুণী লাস্যের বিভঙ্গ ইঙ্গিতে

আমি পথ হারিয়ে বেপথুমান।

নিমেষে ভেসে যায় আত্মশাসনের বেড়াজাল -

কুহকিনী ডাকের তাড়নায়

পায়ে পায়ে নেমে পড়ি নদীর বুকে

মুহূর্তে টের পাই এক হিমশীতল চোরাস্পর্শ

আমার পায়ের পাতা পেরিয়ে, হাঁটু ছাড়িয়ে

উঠতে থাকে, বোধবুদ্ধি হারিয়ে যেতে যেতে টের পাই দমবন্ধ এক শীত জ্বর আমাকে ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ে ঘাস, ফুল, বৃক্ষ, ফল,পাতার চরাচরে।

একটা শীতল মৃত্যুর দমবন্ধ কালো পর্দা দুলতে থাকে চোখের সামনে -----

 

শরীরের সমস্ত শক্তি এককরে হাতটা বাড়িয়ে দিই পিছনের দিকে........

চোখ বন্ধ করে অপেক্ষা করতে থাকি কখন আরেকটা হাত আমাকে এই মৃত্যু খনি থেকে উদ্ধার করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে হাজির হবে।

আমি পড়ে থাকি..........অন্তহীন প্রতীক্ষায়।

.......................

 

দম্পতি

 

নারী, তোমাকে নিয়ে বহু কবিতা তো লেখা হল

কখনো কি মনে হয় না বড় ক্লিশে হয়ে গেছে কাব্য!

 

তারপর পুরুষ যদি দেয় খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান...

নারী তুমি তো পেরিয়ে এসেছ বহু ঘর-বাড়ি, খামার-উঠোন-নদী-খাল পথ ধরে

....ভাটি-উজান হয়ে.....সালতি-সাম্পান বেয়ে

চিরন্তন নারী, তুমি এক প্রতিষ্ঠান।।

 

নারী, আজ তোমার বুকজুড়ে ভরপুর গদ্য

বিজয়-তোরণ মাথা উঁচিয়ে পেরিয়ে যায়.. সবুজ সময়..

কখনো কি মনে হয় বড় দিশেহারা এ কবিতা!

কারণ পুরুষেরা তোমারই হাত ধরে পার হতে চায় হলুদ বিকেলের সেই গর্ভিনী নদী

তারপর বহু ইশারা, সংকেত, বাইবেলের ইঙ্গিত পেরিয়ে আজ সে বিশ্ব বিজয়ের পথিক হয়েছে

তবে তুমি সঙ্গে থাকো যদি।।

Mailing List