এবার রাজ্যের লক্ষ্য শিল্প, পানাগড়ের অনুষ্ঠান থেকে একাধিক শিল্পের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী  

এবার রাজ্যের লক্ষ্য শিল্প, পানাগড়ের অনুষ্ঠান থেকে একাধিক শিল্পের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী   
01 Sep 2021, 05:49 PM

এবার রাজ্যের লক্ষ্য শিল্প, পানাগড়ের অনুষ্ঠান থেকে একাধিক শিল্পের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী

 

আনফোল্ড  বাংলা প্রতিবেদন :  সামাজিক প্রকল্পে সাফল্যের পর এবার রাজ্যের পরবর্তী টার্গেট শিল্প। শিল্প বিনিয়োগ করার জন্য এই রাজ্যই যে আদর্শ স্থান তাও বোঝাতে এবার নিজেদের শিল্পবান্ধব রূপ তুলে ধরতে চাইছে রাজ্য সরকার।   

রাজ্যে তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় এসে এবার শিল্পকেই মূল ‘টার্গেট’ হিসাবে  দেখছেন  মুখ্যমন্ত্রী  মমতা  বন্দ্যোপাধ্যায়।  বুধবার, পশ্চিম বর্ধমান জেলার পানাগড়ে পলিফিল্ম কারখানার ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে  তিনি বলেন করেন,  “দুয়ারে সরকার সহ একাধিক সামাজিক প্রকল্পে সাফল্য পেয়েছে রাজ্য। এবার আমাদের পরবর্তী ডেস্টিনেশন শিল্প।”

এই সঙ্গেই রাজ্যে একগুচ্ছ শিল্পের ঘোষণা এবং বিনিয়োগের কথা করে তিনি বলেন এর ফলে  লক্ষাধিক কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, 'দেশে যখন কর্মসংস্থান সঙ্কুচিত হচ্ছে, রাজ্যে তখন ৪০% কর্মসংস্থান বেড়েছে।'

এদিন মুখ্যমন্ত্রী বীরভূম জেলার   ডেউচা পাচামিতে  বিদ্যুৎ উদপাদন, তাজপুর বন্দর এবং ডানকুনি থেকে রঘুনাথপুর পর্যন্ত ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডরের ঘোষণা করেন।  তাঁর দাবি,  এই তিন শিল্পে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, 'দেশে যখন কর্মসংস্থান সঙ্কুচিত হচ্ছে, রাজ্যে তখন ৪০% কর্মসংস্থান বেড়েছে।'

মুখ্যমন্ত্রী  একাধারে একাধিক শিল্পতালুকে বিনিয়োগ আসার কথা অন্যদিকে রাজ্যের  শিল্পবান্ধব নয়া নীতির ঘোষণা করেন।

বুধবার পানাগড় শিল্পতালুকে ৪০০ কোটির পলিফিল্মের কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে মুখ্যমন্ত্রীর বলেন , “বাংলায় বিনিয়োগ করুন। আমাদের সরকার শিল্পের পাশে আছে। এই রাজ্য শিল্পে একনম্বর হবেই। এবার শিল্পই টার্গেট আমাদের।”

রাজ্যে বিনিয়োগ বাড়াতে এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান  ওয়েস্টবেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল বোর্ড গঠনের কথা। সেই বোর্ডের মাথায় রয়েছেন থাকছেন মুখ্যমন্ত্রী। এক বোর্ড শিল্পকর্তাদের আবেদন খতিয়ে দেখার পাশাপাশি শিল্প গড়ার ছাড়পত্র দেবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ডেউচা পাচামি এলাকাতে কয়লা খনির কথা আগেই বলা হয়েছে। এইদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই  এলাকায় নতুন বিদ্যুৎ উদপান কেন্দ্রের ঘোষণা করেন। তিনি বলেন,  “দ্বিতীয় বৃহত্তম কোল মাইন এখানেই তৈরি হবে। এই কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উদপাদন শুরু করে আগামী ১০০ বছরেও বাংলায় বিদ্যুতের অভাব হবে না।”

আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে রাজ্যে বিদ্যুতের দাম কমবে বলেও জানান তিনি।

তিনি জানান, এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের জমি সরকারের কাছেই আছে। ফলে চাকরি দেব, স্কুল-কলেজ, জল, রাস্তা, হাসপাতাল বাড়ি সব করে দেব। তিনি জানান, মোট ১৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে এই প্রকল্পে। লক্ষাধিক কর্মসংস্থানেরও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।

তাজপুরেও খুব তাড়াতাড়ি বন্দর তৈরি হয়ে যাবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। জামুড়িয়া-হাওড়ায় বিরাট বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।অশোকনগরে তেলপ্রকল্পের কাজ চলছে। সেখানেও কর্মসংস্থান হবে। বানতলায় লেদার কমপ্লেক্স তৈরি হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশ থেকে বেশিরভাগ চর্মশিল্প এরাজ্যে চলে এসেছে। ৫ লক্ষের বেশি কর্মসংস্থান হবে। গত কয়েক বছরে রাজ্যের শিল্পে ১ লক্ষ কোটি বিনিয়োগ হয়েছে।  এই কথা বলেই মুখ্যমন্ত্রী জানান,  ২ বছরের মধ্যে অণ্ডালকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বানানো হবে। এই জন্য বাজেটে ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। গোটা রাজ্যে প্রায় ৩০টি হেলিপ্যাড তৈরি হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী এদিন ঘোষণা করেন, ডানকুনি থেকে পানাগড় হয়ে রঘুনাথপুর পর্যন্ত একটি ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর তৈরি হবে। এই করিডর যুক্ত করা হবে অমৃতসরের সঙ্গে। রঘুনাথপুর এস্টেটেও লক্ষাধিক কর্মসংস্থান হবে বলে জানান তিনি। সেখানে ৭২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে। প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে জঙ্গলমহল সুন্দরী।'

রাজ্যে ডেটা সেন্টার ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করার হবে বলেও এদিন ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'নতুন ডেটা ইন্ডাস্ট্রি  করা হবে।  আমাদের শিল্প নীতিতে রাজ্যের নতুন লক্ষ্য তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং সংগ্রহের হাব হিসেবে বাংলাকে গড়ে তোলা। যাতে পূর্ব ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশ, নেপাল এবং ভূটানেরও তথ্য সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তা বাংলা মেটাতে পারে। ডেটা সেন্টারগুলিকে সবরকম সাহায্য করবে রাজ্য সরকার। অনুমোদন থেকে শুরু করে সহজ শংসাপত্র পাওয়ার ব্যাপারেও সাহায্য করা হবে।' তিনি আরও বলেন, 'আশা করছি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ৪০০ মেগাওয়াটের ডেটা সেন্টার তৈরি হবে বাংলায়। তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ২৪ হাজার চাকরি হবে।'

 

 পানাগড়ের এই  অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে রাজ্যে ইথানল তৈরির শিল্প গড়ে ওঠার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। এতে বিনিয়োগ হবে ১৫০০ কোটি টাকা। তিনি  বলেন,  “রাজ্যে ইথানল তৈরিতে গুরুত্ব দেবে রাজ্য সরকার। এই জৈব জ্বালানি আমাদের পেট্রল, ডিজেলের চাহিদা কম করবে। প্রায় অর্ধেক দামে ওই জ্বালানি পাওয়া যাবে। বিপুল পরিমাণ অর্থ বাঁচবে।' তিনি আরও বলেন, 'ভাঙা চাল থেকে ইথানল তৈরি হয়। ফলে ওই ভাঙা চাল কৃষকদের থেকে কিনে নিলে তাঁরা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন।

ads

Mailing List