বাস্তবের দুর্গাদের নির্দিষ্ট 'দেবীপক্ষ' বলে কিছু নেই! তেমনই এক দশভুজা বহরমপুর জেলখানা চত্বরের অনিতার

বাস্তবের দুর্গাদের নির্দিষ্ট 'দেবীপক্ষ' বলে কিছু নেই! তেমনই এক দশভুজা বহরমপুর জেলখানা চত্বরের অনিতার
26 Sep 2022, 01:01 PM

বাস্তবের দুর্গাদের নির্দিষ্ট 'দেবীপক্ষ' বলে কিছু নেই! তেমনই এক দশভুজা বহরমপুর জেলখানা চত্বরের অনিতার

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন: শুরু হয়েছে দেবীপক্ষ। ক'দিন পরেই মৃন্ময়ী দুর্গা চিন্ময়ী রূপে ধরা দেবেন মাটির পৃথিবীতে। কিন্তু বাস্তবের দুর্গাদের নির্দিষ্ট 'দেবীপক্ষ' বলে কিছু নেই। সংসারের যাঁতাকলে পড়ে প্রতিদিনই লড়াই করেন দাঁতে দাঁত চেপে।

এমনই এক দশভুজা অনিতা। দুর্ঘটনায় স্বামী মারা যাওয়ার পর সংসারকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন চপের দোকান দিতে। বহরমপুরের জেলখানা চত্বরে পুরসভার রাস্তার উপরেই ঠেলাগাড়িতে বিকেল থেকে রাত অবধি লড়াই চলে অনিতা হালদারের। পরিবারকে সামলাতে এ যেন অনিতার দশভুজা রূপ। সন্ধ্যা নামতেই বহরমপুরের জেলখানা চত্বর দেখা যায় সারি সারি নানা মুখরোচক খাবারের দোকান। মোমো, বার্গার, চিকেন পকোড়া, চপ, কাটলেট, স্প্রিং রোল, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই থেকে শুরু করে আরও অনেক। কিন্তু এই সব দোকানের থেকে কিছুটা হলেও ভিন্ন অনিতা হালদারের খাবারের স্টল।

এই সমস্ত দোকানের ভিড়ে একা লড়াই করে নিজের স্টল চালাচ্ছেন অনিতা। তাঁর দোকানে পাওয়া যায় চিকেন, মাটন, পনিরের আইটেম। সন্ধ্যার টিফিনে অনিতার হাতে তৈরি চপ থাকে প্রায় সকলের হাতে। কিন্তু শুরুতে সবকিছু এতো মসৃণ ছিল না। অনিতার জীবন সংগ্রাম ছিল খুব কঠিন। বছর সাতেক আগে সংসার চালানো ও ছোট্ট ছেলেকে মানুষ করার তাগিদে ঠেলা গাড়িতে খাবারের স্টল শুরু করেন স্বামী স্ত্রী দুজনে। সবকিছু ঠিক চললেও দেড় বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর লড়াইটা হয়ে যায় কঠিন। সংসার সামলে, সকাল থেকে বাজার করে দোকানের সব খাবার নিজে হাতে তৈরি করে ছেলেকে মানুষ করার লড়াই করে চলেছেন অনিতা। আর নিজের ব্যবসাকে ভালবেসেই এই কাজে এগিয়ে চলছেন অনিতা।

Mailing List