পুরুলিয়ার জঙ্গলে রয়েছে চিতাবাঘ, প্রমাণ মিললো ট্র্যাপ ক্যামেরায়, কিন্তু ক’টি চিতাবাঘ রয়েছে? জানতে আরও ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানো হচ্ছে জঙ্গলে

পুরুলিয়ার জঙ্গলে রয়েছে চিতাবাঘ, প্রমাণ মিললো ট্র্যাপ ক্যামেরায়, কিন্তু ক’টি চিতাবাঘ রয়েছে? জানতে আরও ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানো হচ্ছে জঙ্গলে
12 Mar 2022, 04:00 PM

পুরুলিয়ার জঙ্গলে রয়েছে চিতাবাঘ, প্রমাণ মিললো ট্র্যাপ ক্যামেরায়, কিন্তু ক’টি চিতাবাঘ রয়েছে? জানতে আরও ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানো হচ্ছে জঙ্গলে

 

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, পুরুলিয়া  

 

পুরুলিয়ার জঙ্গলেও রয়েছে চিতাবাঘ। এবার তার প্রমাণ মিলল। এতদি‌ন সকলের মনে হত, বন শূয়োর, হরিণ, হায়েনার পাশাপাশি চাতিবাঘও রয়েছে। কিন্তু প্রমাণ ছিল না। এবার ট্র্যাপ ক্যামেরায় তার প্রমাণ মিলল। ছবিতে দেখা গেল, স্বমহিমায় রয়েছে হৃষ্টপুষ্ট চিতা। একটি চিতাবাঘই রয়েছে নাকি সঙ্গে আরও রয়েছে, তার খোঁজ চালাচ্ছে বন দফতর। সে জন্য জঙ্গলে আরও ট্র্যাপ ক্যামেরা লাগানো হবে বলে জানিয়েছে বন দফতর।

তবে চিতা বাঘের সন্ধান মেলায় স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সতর্ক করা হয়েছে। তাঁরা যেন, সহজে গভীর জঙ্গলে অকারণে না যান, তা বলা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্কও ছড়িয়েছে।

বন দফতর জানিয়েছে, পুরুলিয়া বনবিভাগের কোটশিলা বনাঞ্চলের সিমনি বিটের জঙ্গলে বনদপ্তরের ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়েছে চিতাবাঘ। সিমনি জঙ্গলটি বাংলা ও ঝাড়খন্ডের মধ্যে বিস্তৃত। এটি গভীর জঙ্গল। আশপাশে অবশ্য গ্রামও রয়েছে। ওই জঙ্গলে মানুষ গবাদি পশু চরাতেন। মাঝে মধ্যেই দেখা যেত, দু’একটি গরু, ছাগল চরতে গিয়ে বাড়ি ফিরছে না। প্রথমে সন্দেহ হয়েছিল, কোনও দুষ্কৃতী হয়তো চুরি করছে। পরে একটি মহিষের মৃত্যু ঘটে। মৃত মহিষটি তদন্ত করে দেখা যায়, কোনও বন্যপ্রাণীর আক্রমণেই মৃত্যু হয়েছে তার। তারপরই বন দফতর ট্র্যাপ ক্যামেরা লাগানো সিদ্ধান্ত নেয়। সম্প্রতি সেই ক্যামেরাতেই চিতাবাঘের সন্ধান মেলে।

একটি চিতাবাঘের সন্ধান মোয় আরও চিতাবাঘ থাকতে পারে বলে বন দফতরের অনুমান। ফলে কোটশিলা বনাঞ্চল থেকে একেবারে নিয়ম করে রিপোর্ট নিচ্ছে পুরুলিয়া বনবিভাগ। বনদপ্তর মাইকিং করে গভীর জঙ্গলে যাতায়াত করতে নিষেধ করেছে এলাকাবাসীদের।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২০ জুন কোটশিলা বনাঞ্চলের টাটুয়াড়ায় লোকালয়ে চলে আসা চিতাবাঘকে মেরে গাছে ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন এলাকাবাসী। তারপর থেকে বিগত বছর দু’য়েক ধরে পুরুলিয়ার এই কোটশিলা বনাঞ্চলের সিমনি বিটের জাবর, তহদ্রি, হরতান, সিমনি কাড়িয়রের বনাঞ্চলে একের পর এক গবাদি পশু প্রায় হঠাৎ করেই যেমন নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তেমনই ছাগল, গাভি এমনকি মহিষেরও হাড়, কঙ্কাল দেহাবশেষ মিলছে ওই জঙ্গলে। টানা ২ বছর ধরে এরকম ঘটে যাওয়ার পর ক্যামেরায় চিতাবাঘের ছবি পাওয়ায় বনদপ্তর নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে, এই বন্যপ্রাণীর স্থায়ী বাসস্থানই হয়ে গিয়েছে সিমনি বিটের ওই জঙ্গল। যদিও চাক্ষুস কেউ চিতাবাঘকে দেখেনি এখনও। আরও ক’টা চিতাবাঘ জঙ্গলে রয়েছে তা দেখতে আরও ট্র্যাপ ক্যামেরা লাগানো হবে বলে জানিয়েছেন পুরুলিয়া বনবিভাগের ডিএফও দেবাশিস শর্মা। তারই সঙ্গে পায়ের ছাপ দেখার কাজও চলছে। ডিএফও জানান, সহজে হয়তো চিতাটি জঙ্গল থেকে বেরিয়ে লোকালয়ে আসবে না। কারণ, ওই গভীর জঙ্গলে চিতাবাঘের খাবার রয়েছে। তবু একটি চিতার যখন সন্ধান মিলেছে, তখন আরও থাকতে পারে বলে অনুমান। এতদিন এই জঙ্গলে চিতাবাঘ ছিল বলেও প্রামাণ্য তথ্য ছিল না। কিন্তু এবার সেটি মিলেছে।

স্থানীয় তৃণমূল নেতা দীনেশচন্দ্র মাহাতো জানান, চিতাবাঘ থাকায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আমরা বন দফতরকে জানিয়েছি, জঙ্গলে বন্যপ্রাণী থাক। কিন্তু তা যাতে লোকালয়ে ঢুকে মানুষের কোনও ক্ষতি না করতে পারে সেজন্য ব্যবস্থা নিক। বন দফতর জানিয়েছে, এখন আগের থেকে অনেক বেশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

Mailing List