পৃথিবীর সর্ববৃহৎ স্তন্যপায়ী প্রাণী, তার চরিত্র কেমন?

পৃথিবীর সর্ববৃহৎ স্তন্যপায়ী প্রাণী, তার চরিত্র কেমন?
27 Nov 2022, 01:55 PM

পৃথিবীর সর্ববৃহৎ স্তন্যপায়ী প্রাণী, তার চরিত্র কেমন?

 

দীপান্বিতা ঘোষ

 

এই গ্রহে অবস্থানকারী লক্ষ-কোটি প্রাণীর মাঝে আজ আমরা জানবো পৃথিবীর সর্ববৃহৎ প্রাণী সম্পর্কে…..যারা শুধু আয়তনেই বড়ো নয়, সবচেয়ে বেশি খাবার খায়,সর্ববৃহৎ জিহ্বা, সর্ববৃহৎ লেজ, সর্ববৃহৎ হৃৎপিণ্ডের অধিকারী; সর্ববৃহৎ শাবকের জন্ম দেয়, সবচেয়ে বেশি শ্রবণ শক্তির অধিকারী।

 

নীলতিমি:

পৃথিবীর সুবিশাল জলরাশির মধ্যে রয়েছে হাজার হাজার প্রাণী, যার মধ্যে তিমি হল অন্যতম। তিমির 75 টি প্রজাতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হোলো নীল তিমি। শুধু জলভাগ নয়, জল-স্থল মিলিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাণী হল নীলতিমি।এমনকি এখনো পর্যন্ত আবিষ্কৃত সর্ববৃহৎ প্রাণী ডাইনোসরের চেয়েও নীলতিমির আকার অনেক বড়ো।

তিমিকে আমরা অনেকেই মাছ হিসেবে জানি কারণ এরা দেখতে মাছের মতো,এদের লেজ রয়েছে এবং এরা জলে বাস করে ।কিন্তু শুধুমাত্র আবাসস্থল ছাড়া মাছের সঙ্গে এর মিল খুবই কম, এমনকি এরা ফুলকার সাহায্যেও শ্বাস নেয় না।নীলতিমি স্তন্যপায়ী এবং সামুদ্রিক প্রাণী।

নাম নীলতিমি হলেও এর রং কিন্তু নীল নয় এদের রং কালচে-ধূসর, তবে সমুদ্রের নীল জলরাশির নীচে এদের বর্ণ নীল দেখায়। পৃথিবীর সমস্ত মহাসাগর…..আটলান্টিক, আর্কটিক, আন্টার্কটিক, প্রশান্ত, ভারত মহাসাগরে কম-বেশি এই নীলতিমি রয়েছে।

তবে চোরাশিকারীদের তিমিশিকার, আর অনিয়ন্ত্রিত সমুদ্র দূষণের ফলে তিমি আজ বিপন্ন প্রাণী। তিমির সংখ্যা যে হারে কমছে, তাতে এরাও হয়তো একদিন ডায়ানোসরের মতো বিলুপ্ত-প্রাণীতে পরিণত হবে।

 

ওজন ও আয়তন:

শত বছরের ইতিহাসে মানুষ ডায়নোসর চোখে দেখেনি। কিন্তু এর চেয়েও বহু বড়ো আকারের একটি প্রাণী যা আজও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সাগরের বুকে তা হোলো নীল তিমি।

 

ওজন:

একটি পূর্ন বয়স্ক তিমির প্রায় 150 টন থেকে 200 টন।তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক তিমি গুলোর ওজন 50 থেকে 150 টনের মধ্যেও হয়ে থাকে।

সহজ করে বললে 21 টি আফ্রিকান বন্য হাতি/85টি মাঝারি আকারের কার /1000 মানুষের যে ওজন একটি তিমির ওজন সেইরকমই।

 

দৈর্ঘ্য:

এরা লম্বায় 80 থেকে 100 ফুট পর্যন্ত হতে পারে।মিটারে পরিবর্তিত করলে যা দাঁড়ায়  24 থেকে 30 মিটার।সহজ করে বললে একটি যাত্রীবাহী বিমান/3 টি স্কুল বাস/6 টি প্রাপ্তবয়স্ক হাতির চেয়েও এরা লম্বায় বড়ো ।দীর্ঘতম নীলতিমিটি একটি স্ত্রীনীলতিমি, যেটি দৈর্ঘ্যে 29.5 মিটার এবং ওজনে 180 টন।

এত বড় চেহারা নিয়েও খাবারের সন্ধানে নীল তিমি বছরে হাজার হাজার মাইল পর্যন্ত ভ্রমণ করে থাকে।

 

দেহের গঠন :

i) তিমির সামনের বাহু বর্ধিত ও পরিবর্তিত হয়ে পাখনা বা ফিনে পরিণত হয়েছে।অন্যদিকে পেছনের পা বিলুপ্ত ।

ii) এদের লেজ সমান্তরালভাবে বিন্যস্ত।এরা দ্রুত চলাফেরা করতে সক্ষম।

iii)  এদের দেহ মসৃন ও লোমহীন।

iv) দেহত্বক প্রায় 10 ইঞ্চি পুরু ও চর্বিযুক্ত ,তাই এরা প্রচন্ড ঠান্ডা সহ্য করতে পারে ।

v) এদের নাসারন্ধ্র মাথার ওপর, এই ছিদ্র এত বড় যে দুটি ডলফিন সেখানে অনায়াসে প্রবেশ করতে পারে ।

এটার সাহায্যে মুখ দিয়ে টেনে নেওয়া জল উপরের দিকে ফোয়ারার মত প্রায় 30 ফুট পর্যন্ত উপরে ছুড়ে দেয়।

vi) এদের বাহ্যিক কান নেই।

vii)   চোখ মাথার দুই পাশে হয়ে থাকে।

এবং দেহের তুলনায় চোখ ছোট।

viii)  এরা দেখতে যেমন লম্বা,এর মাথার খুলিটিও তত লম্বা একটি প্রাপ্তবয়স্ক নীল তিমির মাথার খুলি প্রায় ১৯ ফুট লম্বা।

ix) একটি নীল তিমি দেখতে যেমন বড় তার হৃৎপিণ্ডও ততটাই বড় ।নীলতিমির বিশাল এই হৃৎপিণ্ডের ওজন 590 কেজির মতো। হৃদপিণ্ডটির দৈর্ঘ্য 5 ফুট এবং উচ্চতাও প্রায় 5  ফিট ।

হৃৎপিন্ডটি প্রায় দুটি মাঝারি আকারের প্রাইভেট কারের সমান।

x) নীল তিমির পেছনে যে পাখনা রয়েছে সেটি প্রায় 25 ফুট চওড়া।

উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য:

 

i )সাঁতারের বেগ:

সাধারণত একটা নীল তিমি ঘন্টায় 4 কিমি গতিতে সাঁতার কেটে অভ্যস্ত কিন্তু খাবারের প্রয়োজনে ঘন্টায় 20 কিমিরও বেশী বেগে সাঁতার কাটে ।তবে যদি কোন কারনে নীলতিমি রেগে যায় তখন জলের গভীরে 50 কিমি বেগেও সাঁতার কাটতে পারে।

ii) শ্রবণশক্তি:

পৃথিবীর সবচেয়ে উচ্চগতির শব্দ উৎপাদন করতে পারে নীল তিমি। নীল তিমি থেকে উৎপাদিত শব্দ জেট ইঞ্জিনের আওয়াজের  প্রায় দ্বিগুণ। কিন্তু সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো একটি নীল তিমির আওয়াজ অন্য নীলতিমি 1600 কিমি দূর থেকেও শুনতে পায় ফলে তারা এক মহাসাগর থেকে অন্য মহাসাগরে থাকা অবস্থাতেও সহজেই নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখতে পারে।

iii)তিমির ঘুম:

নীলতিমি কিন্তু কখনোই পুরোপুরি ঘুমায় না। এর মস্তিষ্কের একটা অংশ ঘুমায় আর একটা অংশ সজাগ থাকে। কখনোই পুরো মস্তিষ্ক একসাথে ঘুমের দেশে চলে যায় না। এর কারণ হল যদি পুরো মস্তিষ্ক একসাথে ঘুমিয়ে পড়ে আর সময়মতো জাগতে না পারে তাহলে জলের মধ্যেই এরা দমবন্ধ হয়ে মারা যেতে পারে। তাই সঠিক সময়ে জেগে ওঠে সমুদ্রের উপরে শ্বাস কাজ চালাতে তিমির মস্তিষ্কের অর্ধেক অংশ সব সময় জেগে থাকে

iv)আক্রমনাত্মক তিমি:

সাগরে অনেক প্রজাতির তিমি রয়েছে Humpback whale,Minke Whale, Blue Whale,,Fin Whale, Sei Whale,Grey Whale,Sperm Whale এবং Killer Whale.অন্যান্য সব তিমির মধ্যে Killer Whale হলো সবচেয়ে আক্রমণাত্মক।নীলতিমিকে একা পেলে এরাই সবচেয়ে বেশি আক্রমণ করে। বিশেষ করে নীলতিমির বাচ্চা এদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য।

 

খাদ্যগ্রহণ:

খাবারদাবারের দিক থেকেও সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে নীল তিমি। খাবারের জন্য এদের টার্গেট সমুদ্রের গভীরে থাকা ফ্যাকাশি গোলাপী রঙের চিংড়ি জাতীয়(ক্রিল)এক ধরনের সুস্বাদু প্রাণী। প্রাপ্তবয়স্ক একটি নীলতিমি একদিনে প্রায় 40 মিলিয়ন ক্রিল খেয়ে থাকে। খাবারের সন্ধানে নীলতিমি জলের গভীরে যায়। 15  থেকে 30 মিনিটের মধ্যেই খাবার শেষ করে আবার উপরে এসে শ্বাস নেয়।খাবার গ্রহণ করার জন্য এদের যে জিহ্বা,তা হোলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জিহ্বা। নীল তিমির জিহ্বার ওজন প্রায় 3600 কেজি।

নীল তিমির কোন দাঁত নেই। দাঁতের স্থলে বিশাল ঝালরের মত ব্যালিন নামক জালক  থাকে।উপর থেকে নিচের চোয়াল অব্দি প্রায় 300ব্যালিন প্লেট রয়েছে। যা তিমিকে তার শিকার ধরতে সাহায্য করে ।এরা যখন সমুদ্রের মধ্যে মুখ হা করে ভেসে বেড়ায় তখনই এর জালের মধ্যে ধরা পড়ে হাজার হাজার ক্রিল।এভাবে এরা একদিনে প্রায় 4 টন বা 40 মিলিয়ন ক্রিল  আহার করে থাকে, যা দিয়ে এক দিনে 2000 এর বেশি মানুষের একদিনের খাবারের ব্যবস্থা করা সম্ভব।

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাণী নীলতিমি  সবচেয়ে ছোট আকারের খাবার খায় —এটাও এক ধরনের বিস্ময়।

 

খাদ্য ও প্রজনন মরশুম:

তিমির জীবনে দুটি মরশুম থাকে—-

খাওয়ার মরশুম আর প্রজনন মরশুম।

উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি সাগরগুলোতে গ্রীষ্মকালে প্রচুর ক্রীল জাতীয় মাছ পাওয়া যায়। এই সময় তিমিরা প্রচুর ক্রিল আহার করে এবং প্রজনন মরশুমের জন্য শক্তিসঞ্চয় করতে শুরু করে ।ফলে এদের চামড়ার নিচে পুরো চর্বির স্তর জমা পড়ে।

শরৎকালের দিকে এরা প্রজননের জন্য সঙ্গী খোজা শুরু করে ।শীতকাল পর্যন্ত চলে এদের প্রজননের মরশুম।প্রজনন মরশুম শেষে এরা গ্রীষ্মকালে আবার উষ্ণ অঞ্চলের দিকে ফিরে আসে সন্তান জন্মদান করতে। ঠান্ডা জলে তিমি সন্তান প্রসব করে না কারণ এই আবহাওয়া তিমির সন্তানদের বেঁচে থাকার জন্য খুবই প্রতিকূল ।তাই সন্তান জন্মের পূর্বেই তারা উষ্ণ জলের সাগরের দিকে যাত্রা শুরু করে।

 

গর্ভধারন:

সাধারণত 7  থেকে 10 বছরের মাথায় এরা প্রজননে সক্ষম হয়। এদের গর্ভধারণকাল 10 থেকে 11 মাস। প্রতি দুই থেকে তিন বছরের মাথায় একবার করে বাচ্চা ধারণ করে নীলতিমি ।জন্মের সময় একটি শাবক প্রায় 30 ফুট লম্বা পর্যন্ত লম্বা হয়। এবং ওজনের দিক থেকেও 2.5 থেকে 3 টন হয়ে থাকে। জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই শিশু তিমি সাঁতার কাটতে পারে। নীল তিমি তার বাচ্চার জন্য দিনে প্রায় 200 থেকে 500 লিটার দুধ উৎপাদন করে ।।জন্মের পর থেকে 8/9 মাস মায়ের দুধ খেয়ে একান্ত আদর-যত্নে বিরাট সামুদ্রে রাজপুত্রের আদরে পালিত ও বড়ো হয়। এই দুধের মধ্যে সবচেয়ে বেশি থাকে চর্বি।তাই নীলতিমির বাচ্চা খুব দ্রুত বাড়তে থাকে এবং ছয় মাসের মধ্যে 52 ফুট লম্বা হয়ে যায় । দশ বছরের মধ্যে এরা পুরোপুরি সেক্সচুয়াল ম্যাচিউরিটিতে পৌঁছে যায়।

 

 

আয়ুষ্কাল:

প্রজাতিভেদে তিমি 80 থেকে 90 বছর বাঁচে। তবে কিছু কিছু নীল তিমি পাওয়া গেছে যারা 100 থেকে 130 বছর পর্যন্ত বাঁচার রেকর্ড রয়েছে।

নীলতিমি  পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘজীবী স্তন্যপায়ী প্রাণী।

 

সামাজিকতা:

স্বভাবের দিক থেকে তিমি মাছ অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়।

তিমি স্বভাব গত ভাবে খুবই সামাজিক প্রাণী। এরা দলবদ্ধ ভাবে সাঁতার কাটে, ঘুরেবেড়ায় ও খেলা করে। কোন কোন সময় একটি দলে কয়েক শত তিমি একত্রে চলাফেরা করে।এরা এক ধরনের বিশেষ শব্দ করে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে।নিজেদের দলের কোনো সদস্যের অসুবিধা হলে এরা সাহায্য করতে এগিয়ে যায়। কোনো সময় তিমি মাছগুলো স্রোতের কারণে আটকে পড়ে,তখন তাদের  বাঁচানোর জন্য ছুটে আসে তার সঙ্গীরা।এসে তারাও হয়তো আটকে পড়ে।কিন্তু সহযোগীতার মনোভাব থেকে এরা সরে আসে না।

এমনকি কারও মৃত্যু হলে এরা দুঃখ প্রকাশ করতে পারে বলে গবেষণায় জানা গেছে।

 

শ্বাস-প্রশ্বাস:

এরা মাছের মত দেখতে হলেও ফুলকার সাহায্যে অক্সিজেন নেয় না। অন্যান্য স্তন্যপায়ীদের মতোই নীলতিমি ফুসফুসের সাহায্যে অক্সিজেন নেয়।তবে ফুসফুসের সাহায্যে নিঃশ্বাস নিলেও মানুষের মত এত ঘন ঘন শ্বাস নেওয়ার প্রয়োজন হয় না এদের। একটি নীল তিমি একবার শ্বাস নিয়ে প্রায় তিরিশ মিনিট শ্বাস ধরে রাখতে সক্ষম ।ফলে একবার শ্বাস নিয়ে গভীর সমুদ্রে বিচরণ করতে পারে এরা।

নীল তিমি হল উষ্ণ রক্ত বিশিষ্ট স্তন্যপায়ী প্রাণী।এরা জলে বাস করলেও বাতাসে নিঃশ্বাস নেয় ।

নীলতিমির ভবিষ্যৎ:

 

সমুদ্রের তিমির পরিমাণ কমে যাওয়া বিজ্ঞানীদের অত্যন্ত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বজুড়ে সমুদ্রে প্লাস্টিকের আবর্জনা বেড়েই চলেছে। 2015 সালের এক সমীক্ষা অনুযায়ী এই বছরের সমুদ্রে গিয়ে পড়ছে প্রায় 80 লক্ষ মেট্রিক টন প্লাস্টিক ।ওই বছরই যুক্তরাজ্য সরকারের গবেষণায় উঠে আসে যে আগামী দশকের মধ্যে সমুদ্রে প্লাস্টিকের পরিমাণ তিনগুণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও শহরের ভারী ভারী ধাতু, Atomic বর্জ্য ,শিল্প বর্জ্য সাগরের জলকে করে তুলছে বিষাক্ত।এই বর্জ্য গুলোর কারণে তিমিদের মধ্যে রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে যা তিমিগুলোর মৃত্যুর কারণও হতে পারে। তিমির মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়া মানব সভ্যতাকে বড় ধরনের অশুভ সংকেত দিচ্ছে। অচিরেই কোন পদক্ষেপ নেওয়া না হলে শুধু তিমি নয়, অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীদেরও টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

তিমির মাংস আমাদের খাদ্য তালিকায় না থাকলেও পৃথিবীর বহু দেশ এর মাংস খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। এছাড়াও এদের পরিপাকতন্ত্রে এক ধরনের সুগন্ধি বস্তুর যথেষ্ট বাণিজ্য মূল্য রয়েছে।1900 সালের দিকে পৃথিবীর প্রায় সব সাগরের নীল তিমি রাজত্ব করে বেড়াত। কিন্তু তিনি শিকারিদের অত্যধিক তিমি শিকারের কারণে নীলতিমি আজ বিলুপ্তপ্রায়। মূলত তিমির তেল সংগ্রহের জন্যই তিমি শিকার করা হয়ে থাকে।বিশ্বব্যাপী এই তেলের অত্যধিক চাহিদার কারণে এই শিকার আরো বেড়ে যায়। 1900  থেকে 1960  সাল পর্যন্ত সময়ে প্রায় 4 লাখ  তিমি শিকারীদের হাতে মারা পড়ে। 1966 সালের আগে পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোন সরকারি নিষেধাজ্ঞাও ছিল না।অনিয়ন্ত্রিত শিকারের  কারণে  নীলতিমির  সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় এবং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার জন্য 1986 সালে আন্তর্জাতিক তিমি কমিশন তিমি শিকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। পৃথিবীতে এই মুহূর্তে 25 হাজারের মতো নীল তিমি আছে।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা  IUCN নীল তিমিকে বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। শুধুমাত্র মানুষের অপরিণামদর্শী কাজের ফলে, দানবাকৃতি এই সামুদ্রিক প্রাণীটি বর্তমানে বিপন্ন।তাই সমুদ্রের এই অতিকায় অনন্য প্রাণীটিকে রক্ষার কাজে মানুষকেই প্রথম এগিয়ে আসতে হবে।

 

লেখক: শিক্ষিকা, নান্দারিয়া হাইস্কুল, শালবনি, পশ্চিম মেদিনীপুর।

—--------------------- o ------------------------

Mailing List