‘গোটা প্যানেল খারিজ করা উচিত’, এসএসসি শিক্ষক নিয়োগে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের পর বিস্ফোরক আর এক বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু

‘গোটা প্যানেল খারিজ করা উচিত’, এসএসসি শিক্ষক নিয়োগে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের পর বিস্ফোরক আর এক বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু
29 Sep 2022, 02:44 PM

‘গোটা প্যানেল খারিজ করা উচিত’, এসএসসি শিক্ষক নিয়োগে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের পর বিস্ফোরক আর এক বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু 

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন: বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের পর এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে এবার বিস্ফোরক আর এক বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু।  তিনি বলেন, ‘‘গোটা প্যানেল খারিজ করা উচিত। সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অবৈধ ভাবে নিযুক্ত ব্যক্তিরা যাতে অংশগ্রহণ করতে না পারেন সেই ব্যবস্থা করা উচিত। আগে আবর্জনা পরিষ্কার করুন।’’  

শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মী নিয়োগে দুর্নীতি মামলায় সিবিআইয়ের রিপোর্ট দেখে বুধবার বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। আর বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টের আর এক বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর মন্তব্য, ‘‘এ তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র। গোটা হিমশৈল জলের নীচে আছে। একের পর এক যা উঠে আসছে, তা ভয়ঙ্কর পরিসংখ্যান।’’

এখানেই থেমে থাকেননি বিচারপতি। তিনি আরও মন্তব্য করেন, ‘‘এই শিক্ষকেরা সমাজ গড়বেন? ভবিষ্যতে ছাত্ররা শিক্ষকদের দিকে আঙুল তুলবে, জিজ্ঞাসা করবে এঁরা কেমন শিক্ষক?’’ বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এর মতোই এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনিও শামিল হবেন বলেও জানিয়েছেন।

বুধবার বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বেঞ্চে মুখবন্ধ খামে পেশ করা রিপোর্ট পেশ করে সিবিআই। সিবিআইয়ের রিপোর্ট বলছে, কোনও ক্ষেত্রে মাত্র দু’একটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে, আবার কোনও ক্ষেত্রে সাদা খাতাও জমা দেওয়া হয়েছে। এভাবে পরীক্ষা দিয়েই নবম-দশম ও একদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষকতা করছেন অনেকে। শুধু তাই নয় গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি পর্যায়ের চাকরি নিয়োগের পরীক্ষাতেও অনেকে এভাবে চাকরি পেয়েছেন। তাঁদের অনেকেই জালিয়াতি করে নিয়োগের মেধাতালিকায় জায়গা পেয়েছেন। এদের সংখ্যাটা আট হাজারেরও বেশি বলে দাবি করেছে সিবিআই। রিপোর্ট পাওয়ার পর এই আট হাজারের মধ্যে কারা সুপারিশপত্র এবং নিয়োগপত্র পেয়েছেন তাঁদের তালিকা তৈরি করতে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।

রিপোর্টে সিবিআইয়ের আরও দাবি, ওএমআর শিটে জালিয়াতি করে এভাবে নবম-দশমে ৯৫২ জন, একদশ-দ্বাদশে ৯০৭ জন, গ্রুপ-সি ৩৪৮১ জন এবং গ্রুপ-ডি পর্যায়ে ২৮২৩ জন স্কুলে চাকরি পেয়েছেন। সবমিলিয়ে অবৈধ ভাবে  মোট ৮,১৬৩ জনকে চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। সিবিআইয়ে রিপোর্ট দেখার পর বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশ দিয়েছেন, ‘বেআইনি পদ্ধতিতে যাঁরা চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের ইস্তফা দিতে হবে। তিনি প্রত্যাশা করেন আগামী ৭ নভেম্বরের মধ্যে তাঁরা ইস্তফা দেবেন। তা না হলে আগামিদিনে আদালত এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে।

Mailing List