রাজশাহীর মহারানী হেমন্তকুমারী'র অনন্য কীর্তি আজও অমলিন

রাজশাহীর মহারানী হেমন্তকুমারী'র অনন্য কীর্তি আজও অমলিন
10 Feb 2021, 02:17 PM

রাজশাহীর মহারানী হেমন্তকুমারী'র অনন্য কীর্তি আজও অমলিন

 

 রাখী চক্রবর্তী

 

 

দেশভাগের পূর্বের কথা। বিশুদ্ধ জলের অভাবে পূর্ববঙ্গের পদ্মা পাড়ের জেলা রাজশাহীতে মহামারী আকারে দেখা দিল কলেরা-আমাশয়।

 

এরকম পরিস্থিতিতে রায় ডিএন দাশগুপ্ত রাজশাহী পৌরসভার চেয়ারম্যান (১৯৩৪-৩৯) থাকাকালে রাজশাহী অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় নগরবাসীকে নিরাপদ জল সরবারাহের উদ্যোগ নেন। কিন্তু এই উদ্যোগকে বাস্তবায়নের জন্য দরকার প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা। এত টাকা রাজশাহী পৌরসভার হাতে নেই।

অবশেষে ১৯৩৭ সালে মিনিষ্ট্রি অব ক্যালকাটার অধীনে পূর্ববঙ্গের রাজশাহী ওয়াটার ওয়াকর্স নামে পানি সরবরাহ ও বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য নগরীর নামকরা ধণী লোকদের এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করা হয়।

 

সেই সূত্র ধরেই সর্বপ্রথম এগিয়ে এলেন মহারাণী হেমন্তকুমারী। নিজেই দান করেন প্রায় ৬৫ হাজার টাকা।

চাকুরী সূত্রে আমার প্রথম পদায়ন হয় বৃহত্তর রাজশাহীর নঁওগা জেলায়। সেই সূ‌ত্রেই আমার প্রথম রাজশাহীতে আগমন। সবুজ শ্যামল রাজশাহী নগরী‌তে পা রে‌খেই যে দু‌টো টা‌নে প‌ড়ে‌ছিলাম সেগু‌লো ‌ঢোপকল ও পদ্মানদী। সে প্রেম আমার আজও বহমান।

 

প্রথমব‌ার নঁওগা হ‌তে রাজশ‌াহী এলেও আজ প্রায় সাত বছর যাবৎ আমি এই নগরীর বা‌সিন্দা। দৈন‌ন্দিন দিনযাপ‌নের রোচনামচায় ঢোপক‌লে আজও আমি তেম‌নি অনুরক্ত ! ! মহারাণী হেমন্ত কুমারীর সহযোগিতায় সু‌পেয় জ‌ল স‌রবরা‌হের মহৎ মানব‌সেবার জন্য এই ঢোপকল।

‌বিনম্র শ্রদ্ধ‌া জানাই মহৎপ্রাণ রাণী মা‌কে। জনকল্যাণকর কাজের জন্য হেমন্ত কুমারী মহারাণী খেতাব পেয়েছেন৷ তিনি শেষ জীবনে কাশীতে অবস্থানকালে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং অবশেষে ইংরেজি ১৯৪২ সালের ১১ ই জুলাই প্রয়াত হন।

 

Mailing List