কঠোর হাতে ভোট করানো সুদীপ জৈনের অপসারণ চায় তৃণমূল

কঠোর হাতে ভোট করানো সুদীপ জৈনের অপসারণ চায় তৃণমূল
04 Mar 2021, 06:38 PM

কঠোর হাতে ভোট করানো সুদীপ জৈনের অপসারণ চায় তৃণমূল

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন, কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা ভোটে এরাজ্যের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত উপ নির্বাচন কমিশমনার সুদীপ জৈনের অপসারণ চেয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল শাসক দল   তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার নেতা সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আরিজ আফতাবের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ওই আধিকারিকের অপসারণ দাবি করেছেন। সাংসদ সৌগত রায় সাংবাদিক বৈঠকে একথা জানিয়ে বলেন, উপ নির্বাচন কমিশনার সুদীপ জৈন পক্ষপাত দুষ্ট। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের সময় বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা নিয়ে তিনি কমিশনের কাছে ভুল রিপোর্ট জমা দিয়েছিলেন। কাজেই সুদীপ জৈন দায়িত্বে থাকলে রাজ্যে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করা সম্ভব নয়।

 

রাজ্যে বিধানসভা ভোটের দিন-ক্ষণ ঘোষণার আগেই একাধিকবার রাজ্যে এসে সুদীপ জৈন বৈঠক করেছেন জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে। তাঁর নির্দেশেই পুলিশকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। কোনও রকম দুর্নীতিগ্রস্ত অফিসার থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছিলেন সুদীপ জৈন। কোনও রকম হিংসা যেন রাজ্যে না ঘটে সেদিকে পুলিশকে কড়া ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল। পুলিশ পক্ষপাত দুষ্ট আচরণ করলে সাসপেন্ড করা হতে পারেও বলে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। এইসব কারণেই তাঁকে রাজ্য়ের শাসকদলের বিষ নজরে পড়তে হল কিনা সঙ্গতভাবেই সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মনে করা হচ্ছে সুদীপ জৈনের রিপোর্টের ভিত্তিতেই নির্বাচন কমিশন বিধানসভা ভোটে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করার পর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরাকে রিপোর্ট দিয়েছিলেন সুদীপ জৈন। তারপরেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে তৎপর হয় কমিশন। সুদীপ জৈনের সঙ্গে দেখা করে বঙ্গ বিজেপির নেতারা রাজ্যে হিংসার ঘটনার অভিযোগ করেছিলেন। এবং বাড়তি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছিলেন।

 

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে পক্ষপাত দুষ্ট আচরণ করেছিলেন সুদীপ জৈন। কুইক রেসপন্স টিমের নেতৃত্বে সেন্ট্রাল অফিসারকে বসিয়ে সংবিধান বিরোধী কাজ করেছিলেন বলে অভিযোগ করে তৃণমূল কংগ্রেস। কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্য পুলিশকে নির্দেশ দিতে পারে না এই নিয়ে সরব হয়েছিলেন শাসকদলের নেতা মন্ত্রীরা।

Mailing List