নেভাতে পারেনি জলও, শতবর্ষেও দাউদাউ করে জ্বলছে ইস্টবেঙ্গলের মশাল

নেভাতে পারেনি জলও, শতবর্ষেও দাউদাউ করে জ্বলছে ইস্টবেঙ্গলের মশাল
01 Aug 2020, 01:33 PM

নেভাতে পারেনি জলও, শতবর্ষেও দাউদাউ করে জ্বলছে ইস্টবেঙ্গলের মশাল

আনফোল্ড বাংলা স্পোর্টস ডেস্ক: "তুমি যতই মশালে ছেটাও জল, নিভবে না কখনও ইস্টবেঙ্গল।" এই গানের লাইনই গতকাল রাত ১২টার পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ভাইরাল। আজ ১ অগাস্ট, ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের আবেগের দিন, গর্বের দিন। লাল হলুদ আবিরে আকাশে উড়িয়ে উৎসবে সামিল হওয়ার দিন। কারণ, আজই ইস্টবেঙ্গল ক্লাব ১০০ বছর পূর্ণ করতে চলেছে। তাই গতকাল রাত ১২ টার পর থেকেই উৎসব পালন শুরু করেন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকেরা। কিন্তু সর্বোপরি পরিস্থিতি যে বড্ড কঠিন। একদিকে করোনা পরিস্থিতিতে ইস্টবেঙ্গল  ক্লাবের এই ঐতিহাসিক দিনটি কাছ থেকে দেখতে পাচ্ছেন না সমর্থকেরা। তাতেই আক্ষেপের শেষ নেই তাঁদের। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গল, এবারের আইএসএল খেলবে কিনা, এই চিন্তায় ঘুম উড়েছে কিছু সমর্থকের।

তবে সব কিছুকে সামনে রাখলেও, আজকের দিনটির গুরুত্ব কোনোভাবেই মলিন হবে না। টাইম মেশিনের দৌলতে প্রায় ১০০ টা বছর পিছিয়ে গেলেই আজকের দিনের গুরুত্ব স্পষ্ট এবং প্রানবন্ত হবে৷ ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠা হওয়া ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের শুরুর গল্পটা একেবারেই অন্যরকম। ১৯২০ সালে কোচবিহার কাপের ফাইনালে জোড়াবাগানের বিরুদ্ধে মোহনবাগান জয় পেতেই তৈরি হয় ইস্টবেঙ্গল।

কিন্তু কিভাবে? মোহনবাগানের কাছে ম্যাচ হারতেই জোড়াবাগান ক্লাবের কর্তারা বেশ ক্ষুব্ধ হন। তাঁদের সমস্ত রাগ গিয়ে পড়ে শৈলেশ বসু এবং নসা সেনের উপর। এই দুই ফুটবলারই ছিলেন ওপার বাংলার ফুটবলার। অর্থাৎ বাঙাল ফুটবলার। দুই বাঙাল ফুটবলারের অপমান নিজের চোখে দেখতে পারেননি জোড়াবাগানের ভাইস প্রেসিডেন্ট সুরেশ চৌধুরি। প্রসঙ্গত তিনিও ওপার বাংলারই লোক। তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরাসরি ইস্তফা দিয়ে দিলেন। এইখানে গল্পটা শেষ হতে পারত। কিন্তু বাস্তবে এখান থেকেই শুরু হয় ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের গল্প। অপমান, ক্ষোভ, দুঃখ এসবের মিশেল হিসাবে জন্ম নেয় ঐতিহাসিক ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। আকাশে উড়তে শুরু করে লাল হলুদ আবির।

আর দেশ ভাগের পর নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে আসা সমস্ত মানুষের কাছে ইস্টবেঙ্গল হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার রসদ। তাঁরা ইস্টবেঙ্গলকে জড়িয়ে ধরে বাঁচার ইচ্ছা প্রকাশ করে ফেলে। এবার এই মানুষগুলোর সমর্থন, আবেগের সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। খুব সহজেই, একেবারে অল্প সময়ে  কলকাতার ময়দানে নিজেদেরকে শক্ত জমি গড়তে থাকে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব।প্রথম বছরেই সাতটা শিরোপা  নিজেদের ঘরে তুলে ইস্টবেঙ্গল জানান দেয়, তাঁরা ময়দানে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ। এরপরই শুরু হয় ইস্টবেঙ্গলের গর্বের পথ চলা। এক্ষেত্রে ১০০ টা বছর ধরে ইস্টবেঙ্গলের গর্ব, ঐতিহ্য এবং প্রত্যাবর্তনের ইতিহাস সত্যিই চোখে পড়বার মতোই ছিল। তবে এর পথ ছিল খুবই কঠিন। কিন্তু কঠিন পথ চলা ইস্টবেঙ্গলের পুরোনো অভ্যাস। কারণ জন্মের পর থেকেই যে এই ক্লাব কঠিন পথে পাড়ি জমাবার সাহস দেখিয়েছে। সেই কঠিন পথ ধরে একের পর এক শিরোপা উঠে এসেছে ইস্টবেঙ্গল তাঁবুতে।এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ইস্টবেঙ্গলের গর্বের আশিয়ান কাপ জয়। যে শিরোপা নিয়ে আজও ইস্টবেঙ্গল সমর্থকেরা গর্ব করেন।

সেই ইতিহাসকে সাক্ষী রেখেই আজ ইস্টবেঙ্গলের ১০০ বছর পার। কিন্তু করোনা মাটি করেছে ইস্টবেঙ্গলের  শতবর্ষ উদযাপন। ইচ্ছা থাকলেও সমর্থকেরা পৌছাতে পারছেন না লাল হলুদ তাঁবুতে।স্বভাবতই লেসলি ক্লেডিয়াস সরণিতে আজ উপস্থিত রয়েছেন গুটি কয়েক ইস্টবেঙ্গল সমর্থক। তবে পরিস্থিতির কারনেই হয়ত  দেখা যাবে না ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের সেই ভিড়, সেই উন্মাদনা। তবে শতবর্ষ বলে কথা! ইস্টবেঙ্গল সমর্থকেরা কি আর চুপচাপ বসে থাকতে পারেন?

এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী ইস্টবেঙ্গল সমর্থকেরা নিজেদের এলাকায় উদযাপন শুরু করেছে। তবে সব ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব এবং সরকারি বিধিনিষেধ। ইস্টবেঙ্গল সমর্থকেরা জানিয়েছেন, "কিছুটা হলেও আমরা এই দিনটিকে মনে রাখার মতো করতে চাই, যাতে ভবিষ্যত প্রজন্ম ইস্টবেঙ্গলের শতবর্ষ নিয়ে কোনো প্রশ্ন না তুলতে পারে।"

Mailing List