ব্রিকসের মঞ্চ থেকে পশ্চিমীদের দেখে নেওয়ার হুমকি রাশিয়ার, সঙ্গী চিন, লিখছেন অর্থনীতিবিদ ড. গৌতম সরকার  

ব্রিকসের মঞ্চ থেকে পশ্চিমীদের দেখে নেওয়ার হুমকি রাশিয়ার, সঙ্গী চিন, লিখছেন অর্থনীতিবিদ ড. গৌতম সরকার  
19 Jul 2022, 11:15 AM

ব্রিকসের মঞ্চ থেকে পশ্চিমীদের দেখে নেওয়ার হুমকি রাশিয়ার, সঙ্গী চিন, লিখছেন অর্থনীতিবিদ ড. গৌতম সরকার  

 

ড. গৌতম সরকার

 

বিশ্বের পাঁচটি উন্নয়নশীল দেশের মিলিত ফোরামের সংক্ষিপ্ত রূপ হল 'ব্রিকস'। ২০০৯ সালে যখন এই সংঘ গঠিত হয় তখন নাম ছিল, ব্রিক (BRIC), কারণ তখন সদস্য দেশগুলি ছিল ব্রাজিল, রাশিয়া, ইন্ডিয়া আর চিন। দুবছর পর ২০১১ সালে আরেক দেশ সাউথ আফ্রিকা যোগ দিলে ফোরামটির নাম হয়ে যায় ব্রিকস (BRICS)। পশ্চিমের উন্নত দেশগুলির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বলয়ের বাইরে আলাদা একটা আন্তর্জাতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে এই জোট গঠিত হয়েছিল। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪১ শতাংশ (৩২৩ কোটি) এই পাঁচটি দেশে বাস করে। সমগ্র বিশ্বের মোট জিডিপি-র প্রায় ২৪ শতাংশের (২৩ লক্ষ কোটি ডলারের বেশি) মালিকানা স্বত্ব এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ১৬ শতাংশের প্রতিনিধিত্বের দাবিদার ব্রিকসভুক্ত পাঁচটি দেশ। এই মুহূর্তে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ভূ-রাজনীতির ভরকেন্দ্রটাই বদলে দিয়েছে, সেইরকম এক সন্ধিক্ষণে গত মাসের শেষদিকে হয়ে গেল ব্রিকসের ১৪তম শীর্ষ সম্মেলন। এই ভার্চুয়াল সম্মেলন উদ্যোগের দায়িত্বে ছিল চিন। চিনের রাজধানী শহর বেইজিংয়ের 'গ্রেট হল অফ পিপল'-এর জায়ান্ট স্ক্রিনে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা।

     

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ব রাজনীতিতে অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। ন্যাটো গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলি রাশিয়ার উপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে বিশ্বায়নের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের মদত যোগাচ্ছে। মে মাসে চিনের প্রেসিডেন্ট এই পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট হতে চলা ঠান্ডা যুদ্ধের মানসিকতা বর্জন করে, সংঘর্ষ এড়িয়ে সবার জন্য নিরাপদ পৃথিবীর প্রস্তাব নিয়ে বিশ্বের সমস্ত দেশকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মত ছিল, একদিকে চিন-যুক্তরাষ্ট্র ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা এবং অন্যদিকে দীর্ঘায়িত হয়ে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনকে চিন নিজের স্বার্থে কাজে লাগাবে, বলাই বাহুল্য।

যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে ব্রিকসের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস, ভরসা এবং সংহতির কাঠামোতে চিড় ধরা শুরু হয়েছে। এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন আক্রমণ করেন। চিন প্রথম থেকেই রাশিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছে। কখনও নিরপেক্ষ থেকেছে আবার কখনও রাশিয়ার প্রতি নরম মনোভাব দেখিয়েছে। হামলার জন্য মস্কোকে একবারের জন্যও দোষারোপ করেনি, বরঞ্চ ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার জন্য আমেরিকা পোষিত ন্যাটোকেই দায়ী করেছে। অন্য সদস্য দেশগুলি, যেমন-ভারত, ব্রাজিল, সাউথ আফ্রিকা বারবার আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সংঘর্ষ এড়ানোর কথা বললেও রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোনওরকম সমালোচনার পথেও হাঁটেনি। এমত পরিস্থিতিতে সংগঠিত ব্রিকস সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের নেতৃবর্গের ভাবনাচিন্তার প্রকাশ ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

 

চিন: সম্মেলনের আয়োজক দেশ ছিল চিন। চিন মনে করে এই ক্রান্তিকালে বৈশ্বিক উন্নয়ন এবং নিরাপত্তার উপর যথেষ্ট নজর দেওয়া উচিত। চিন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মতে সদস্য দেশগুলির উচিত পারস্পরিক রাজনৈতিক আস্থা এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করা। গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ছোট ছোট স্বার্থ পরিহার করে সমন্বিত হওয়া এবং আধিপত্যবাদ এবং ক্ষমতায়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো খুব জরুরি। তিনি মনে করেন, গোষ্ঠীবাজি, সামরিক বোঝাপড়া, শিবিরে শিবিরে দ্বন্দ্ব সামগ্রিক বিশ্বকে আবার একটা যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে। তাই তিনি গোটা বিশ্বের কাছে এই ধরণের মনোবৃত্তি দূরীকরণের বার্তা পাঠিয়েছেন। তাঁর মতে, পৃথিবীব্যাপী চলতে থাকা এই অস্থির এবং রূপান্তরের সময়ে উন্নয়নের প্রচার-প্রসারে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য জোটের সদস্যদের এগিয়ে আসা আবশ্যক।

   

ব্রিকসের মঞ্চটিকে ব্যবহার করে ন্যাটোর নিষেধাজ্ঞাকে একহাত নিয়েছেন চিনা প্রেসিডেন্ট। তিনি বিশ্ব রাজনীতির মেরুকরণের অভিযোগ তুলে বিশেষ করে আমেরিকাকে দুষেছেন। তিনি বলেছেন, এই মুহূর্তে ক্ষমতার অলিন্দে থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং পশ্চিমা দেশগুলি যে নিন্দনীয় কাজগুলি করে চলেছে, সেগুলো মোটেই সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি স্পষ্ট বাক্যে জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞার ঘাতে রাশিয়ার অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু ভুললে চলবে না নিষেধাজ্ঞার প্রতিঘাতও আছে, তাই যারা নিষেধাজ্ঞা জারি করছে তারাও কি খুব ভালো আছে!

শি জিন পিংয়ের মুখ্য নিশানা ন্যাটো হলেও কোনও কোনও কূটনীতিকের মতে একই সঙ্গে ভারতের উপস্থিতিতে তিনি 'কোয়াডের' উদ্দেশ্যেও হুঁশিয়ারি জারি করে রাখলেন। ভারত-মহাসাগরীয় অঞ্চলে মূলত চিনের আধিপত্য রুখতেই আমেরিকা, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া মিলে চতুর্দেশীয় জোট 'কোয়াড' গঠন করেছিল। চিন বরাবর এই ফোরামকে সামরিক মঞ্চ হিসেবে দেখে এসেছে এবং এতে ভারতের উপস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যেই আপত্তি জানিয়েছে।

নিজ বক্তব্যের শেষে জিনপিং ঘোষণা করেছেন, পশ্চিমা দেশগুলি যে কায়দায় নিজেদের স্বার্থে নিষেধাজ্ঞার অস্ত্রটি ব্যবহার করে যাচ্ছে সেটা মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। এর ফলে যে ঠান্ডা যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে সেই আবহে প্যান্ডেমিক পক্ষাগ্রস্ত বিশ্ব অর্থনীতিকে উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

 

রাশিয়া: বেইজিংয়ে আয়োজিত চতুর্দশ ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশ্বমঞ্চে প্রত্যাবর্তন ঘটল। ইউক্রেনে রুশ হামলার পর পুতিনের এরকম কোনও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রথমবার উপস্থিতি। ভাষণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি পশ্চিমাদের আক্রমণ করে গেছেন। তাদের স্বার্থপর এবং সুযোগসন্ধানীর তকমা দিয়ে করোনাক্রান্ত বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন সংকট আমদানির জন্য দায়ী করেছেন। এমতাবস্থায় তিনি ব্রিকস জোটের দেশগুলির কাছে পূর্ণ সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, তাঁর দেশের উপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে পশ্চিমা দেশগুলি বিশ্ব জুড়ে যে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করেছে, ব্রিকস অন্তর্ভুক্ত দেশগুলি তার এক বিকল্প তৈরি করতে পারে।

   

যুদ্ধ শুরুর পর ইউরোপ এবং আমেরিকা ক্রেমলিনের বিরুদ্ধে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার বিরুদ্ধে ছয় দফা নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজের পর সপ্তম দফার প্যাকেজ নিজে আলোচনা চালাচ্ছে। এই সার্বিক সংকটের মধ্যে সবচেয়ে বিপদে পড়েছে এশিয়া এবং আফ্রিকার গরীব দেশগুলি। যেমন, কৃষ্ণসাগর দিয়ে খাদ্যশস্য পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে আফ্রিকা মহাদেশে ব্যাপক খাদ্য সংকট তৈরি হয়েছে। পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য ছিল রাশিয়াকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক দিক দিয়ে দূর্বল করে দেওয়া, ব্রিকসে অংশগ্রহণ করে পুতিন পাল্টা বার্তা দিলেন, বিশ্ব রাজনীতিতে রাশিয়া কখনও একা ছিলোনা, আর এখনও একা নেই।

ভারত: ব্রিকস সম্মেলন শেষ হওয়ার পর রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অভিমত চিন ব্রিকসকে আমেরিকা ও পশ্চিমা বিরোধী একটি মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছে। যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং সাংস্কৃতিক সংহতির প্রশ্নে ব্রিকস তৈরি হয়েছিল সেটা ক্রমশ দূর্বল হয়ে উঠছে সেটা তামাম বিশ্বের কাছে স্পষ্ট। এখন চিনের সাথে হাত মিলিয়েছে রাশিয়া, ফলে ভারসাম্য রক্ষা করে চলা ভারতের কাছে এক ঘোর সংকট উপস্থিত হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর ভাষণে বারবার সন্ত্রাসবাদ দূরীকরণ এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা রক্ষা বিষয়টি উপর জোর দিয়েছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, এই পাঁচ উদীয়মান অর্থনীতির দ্বারা সৃষ্ট 'ব্রিকসের' প্রাথমিক উদ্দেশ্যই ছিল বৈশ্বিক নিরাপত্তা প্রদান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রসার। এছাড়া বিশ্বকে সম্পূর্ণভাবে করোনা মুক্ত করে করোনাত্তোর অর্থনীতিতে কত তাড়াতাড়ি প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করা যায় সেটার বিষয়েও অন্যান্য সদস্য দেশগুলোকে সত্ত্বর চিন্তাভাবনা করার আর্জি জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

    

বিশেষজ্ঞদের মতে চিন এবং রাশিয়া জোট যত বেশি পশ্চিমের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছে, ভারতের পক্ষে নিজস্ব কূটনীতি আগলে ধরে থাকা ততই কঠিন হয়ে উঠছে। চিন ইতিমধ্যে তাদের ঘোষিত 'গ্লোবাল সিকিউরিটি অ্যালায়েন্স'-এ ব্রিকসের দেশগুলিকে সামিল হতে আহ্বান জানিয়েছে। ভারত এই মুহূর্তে ইউনাইটেড নেশনস সিকিওরিটি কাউন্সিলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভোট দেয়নি, তেমনি ব্রিকসের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে পশ্চিমের বিরুদ্ধে রাশিয়া-চিনের যৌথ লড়াইয়েও সামিল হতে পারছে না। ভারত যেমন আমেরিকার চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি জারি রেখেছে, তেমনি ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যিক এবং কৌশলগত সম্পর্কও টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে। সেই কারণে ভারতের সাথে একদিকে আমেরিকা আর অন্যদিকে চিনের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব প্রগাঢ় হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

 

ব্রিকস তৈরি হয়েছে এক দশকেরও বেশি হয়ে গেল। 'ব্রিকস ডেভলপমেন্ট ব্যাংক'-এর মত টুকটাক কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা ছাড়া এই সংঘ নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক প্রশ্নে তেমন কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি। তাছাড়া সদস্য দেশগুলির ভিন্ন ভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ থাকার কারণে অনেক আগেই জোটের সংহতিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। কিছুদিন আগেই উন্নত দেশগুলির জোট জি-৭ এর সম্মেলন অনুষ্ঠান হয়ে গেল। সেখানে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের বিষয়টি নিয়ে সদস্য দেশগুলি সোচ্চার ছিল। প্রসঙ্গত একটা সময় রাশিয়াও এই জোটে সামিল ছিল। ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখল করলে রাশিয়াকে এই জোট থেকে বহিষ্কার করা হয়। তাই অনেক বিশ্লেষকের ধারণা, ব্রিকস সম্মেলন হল জি-৭ এর যোগ্য উত্তর। পুতিন তাঁর ভাষণে সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংকটের জন্য পশ্চিমা দেশগুলিকেই দায়ী করেছেন। এই অবস্থায় পুতিনের পরামর্শ, একটা বিকল্প পথ গড়ে তুলতে হবে এবং সেটার জন্য ব্রিকস দেশগুলির সক্রিয় সাহায্য প্রয়োজন। অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ শাহার হামিরি বলেছেন, 'মার্কিন ডলার ব্যবস্থার বাইরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কিভাবে বাণিজ্য করতে পারে সে ব্যাপারে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্তরে আলোচনা হয়েছে, সাম্প্রতিক রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে এই বিষয়টি স্বাভাবিক কারণেই ১৪তম ব্রিকস সম্মেলনে অন্যতম আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছিল'।

      

ব্রিকস বাণিজ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করে চিন, তারপরই রাশিয়া। বছরে ২৭.৫ ট্রিলিয়ন ডলার বাণিজ্যের সিংহভাগ ৭০ শতাংশ করে থাকে চিন। তাই রাশিয়া ও চিনের যৌথ বিকল্প পথের ডাকে ব্রিকসের বাকি দেশগুলি কী পদক্ষেপ নেয় সেদিকে তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব। সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে ভারতের অবস্থান নিয়ে। সাউথ ব্লক কূটনৈতিক ভাবে এখনও রাশিয়া এবং পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে চিন এবং রাশিয়া যেভাবে  বিকল্প পথের সন্ধানে উঠে পড়ে লেগেছে, তাতে ভারত আগামী দিনে কী অবস্থান নেয় সেটা বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

                                 ………….xxx…………..

 

লেখক: অর্থনীতিবিদ

তথ্যঋণ: সংবাদপত্র ও ইন্টারনেট

Mailing List