একটানা ৬৫ দিন সূর্যের দেখা মেলে না! বরফে ঢাকা সেই আলাস্কার ব্যারো শহরের মানুষ কিভাবে থাকেন?

একটানা ৬৫ দিন সূর্যের দেখা মেলে না! বরফে ঢাকা সেই আলাস্কার ব্যারো শহরের মানুষ কিভাবে থাকেন?
10 Oct 2021, 10:52 AM

একটানা ৬৫ দিন সূর্যের দেখা মেলে না! বরফে ঢাকা সেই আলাস্কার ব্যারো শহরের মানুষ কিভাবে থাকেন?

 

কল্পনায় স্বর্গের একটা রূপ রয়েছে প্রত্যেকের মনেই। তাই তো মনের গোপনে কোথাও লুকিয়ে থাকে স্বর্গে পৌঁছনোর বাসনা। কিন্তু সে স্বর্গের অস্তিত্ব কেবলই কল্পনায়। কারণ, যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ ততক্ষণ সেখানে পৌঁছনোর কথা ভাবারও উপায় নেই। অথচ, এ বিশ্বেই এমন বহু স্বর্গীয় দৃশ্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। প্রকৃতির সেই উজাড় করা সৌন্দর্য হয়তো কল্পনার স্বর্গকে হার মানাতে পারে। সেখানকার মানুষের আচার-আচরণ, কৃষি, অর্থনীতি, ভূপ্রকৃতি- সত্যিই অন্য অনুভূতি জাগায়। তারই পাশাপাশি মিলতে পারে অনেক অজানা তথ্য। বিশ্বজুড়ে এমন কত ছোটখাটো দেশ, ভাস্কর্য রয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। এমনই একটি ঘটনার কাহিনী লিখছেন-

দীপান্বিতা ঘোষ

 

 

একটানা ৬৫দিন সূর্যের দেখা মেলে না। তার মধ্যেই চলে জীবন যাপন। আমেরিকার সুদূর উত্তরে অবস্থিত আলাস্কার একটি শহর হোলো ব্যারো (Barrow city)। সুমেরু বৃত্ত থেকে বেশ খানিকটা উপরে অবস্থিত এই শহরটি অত্যন্ত শীতল। যদিও জলবায়ু চরমভাবাপন্ন তবুও প্রত্নতাত্ত্বিক কিছু উপাদান প্রমান করে ৫০০ খ্রিস্টাব্দেরও আগে মানুষ এখানে বসবাস করতো। ১৮২৬ সালে ফ্রেডারিক বিচে এই অঞ্চলটি আবিষ্কার করেন।

         

এখানে গ্রীষ্মকাল আসে ৩ মাসের জন্য এবং সেই সময় সর্বাধিক উষ্ণতা হয় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বছরের বাকি সময় শীতকাল, শীতের সর্বোচ্চ উষ্ণতা --১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাকি সময় উষ্ণতা আরও অনেক নীচে। এছাড়া এখানকার অধিবাসীদের কাটাতে হয় Polar Night। সাধারণত নভেম্বর মাসে এটা শুরু হয়। তখন সূর্য ডুবে যায় এবং আগামী ৬৫ দিন তার দেখা পাওয়া যায় না। ব্যারোতে সাধারণত বছরের শেষ সূর্যোদয় হয় ১৮ নভেম্বর। এছাড়া এখানে তুষারঝড়ও দেখা যায়।

আমেরিকার মূল অংশ থেকে অনেক দূরে অবস্থিত এবং জলবায়ুর প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ব্যারো কিন্তু একটি আধুনিক শহর। এখানে বিভিন্ন জাতিগত রেস্তোরাঁ, একটি অলিম্পিক আকারের সুইমিং পুল, হাই স্পিড ইন্টারনেট পরিষেবা এমনকি পৌর বাস পরিসেবাও রয়েছে।

১৯৫৯ সালে ব্যারোকে একটি শহর হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

     

ব্যারোর অর্থনীতি স্থানীয় তেলের উপর নির্ভরশীল হলেও পর্যটনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।গ্রীষ্মকালীন সময়ে স্থানীয় সময় অনুসারে রাত্রিবেলা যে সূর্য দেখা যায় অর্থাৎ"মধ্যরাতের সূর্য" উপভোগ করতে আসেন দর্শনার্থীরা। বৈচিত্র্যময় পাখি দেখাও একটি আলাদা আকর্ষণ।

      

জীবিকা নির্বাহের জন্য শিকার এবং মাছ ধরা গুরুত্বপূর্ণ।খাদ্য উৎসের মধ্যে রয়েছে তিমি, সীল, মেরু ভালুক, ক্যারিবু হাস এবং সাদা মাছ।

বরফ এবং জলবায়ুর পরিবর্তন লক্ষ্য করার জন্য আদর্শ ভূমি হোলো ব্যারো। জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব ক্রমশঃ পড়ছে এখানের বরফের আস্তরণের উপর। এখানে প্রায় ৪৫০০ মানুষের বসবাস। এই উত্তরাঞ্চলীয় শহরে পৌঁছাতে অবশ্যই আপনাকে উড়ানের সাহায্য নিতে হবে।

চুড়ান্ত শীতের মধ্যে কাটানো শহরটিতে রয়েছে স্কুল, কলেজও। কলেজটি আবার বেশ উন্নত। রয়েছে ফুটবল, বাস্কেটবল খেলার চলও। খেলাধূলোতেও এই শহরের ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশও নিয়ে থাকে। তাই এমন একটি শহরকে দেখার জন্য মুখিয়ে থাকে মানুষ। আপনারও নিশ্চয় ইচ্ছে করছে একবার ঘুরে দেখার।

ads

Mailing List