নিশানায় শাসক দলের কর্মী ইউনিয়ন, ফের পদ ছাড়তে চান রবীন্দ্রভারতীর উপাচার্য ক্ষুব্ধ সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরী  

নিশানায় শাসক দলের কর্মী ইউনিয়ন, ফের পদ ছাড়তে চান রবীন্দ্রভারতীর উপাচার্য ক্ষুব্ধ সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরী   
03 Nov 2022, 12:07 AM

নিশানায় শাসক দলের কর্মী ইউনিয়ন, ফের পদ ছাড়তে চান রবীন্দ্রভারতীর উপাচার্য ক্ষুব্ধ সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরী

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন: তিন মাসের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার বিস্ফোরক রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরী। ক্ষুব্ধ উপাচার্য ফের জানিয়ে দিলেন এই পরিস্থিতি চললে কাজ করা সম্ভব নয়। বুধবার রীতিমতো ক্ষোভের সঙ্গে তিনি বলেন, পরিস্থিতি না বদলালে কাজ করা সম্ভব নয়। সম্মতি ছাড়াই আমার দফতর থেকে কর্মীদের তুলে নেওয়া হচ্ছে। ফলে কোনও কাজ করা যাচ্ছে না। চা, জল, দেওয়ার লোক নেই। ফাইল আনার লোক নেই। এভাবে তো চলতে পারে না। তাঁর নিশানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাসক দলের কর্মী সংগঠন বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে খোলসা করে তিনি তা বলেননি।

তিনি আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে দু’বার চিঠি দিয়েছিলাম। তারপরও কোনও পরিবর্তন হয়নি। শিক্ষামন্ত্রীও আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলেই দাবি করেন উপাচার্য। তবে উপাচার্যের অভিযোগের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃণমূল কর্মী সংগঠন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, উপাচার্যের অসহযোগিতার অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যে। কিছু লোক সরকারের বদনাম করতে নেমেছে। উপাচার্য বলছেন, তাঁর দফতরে যে কর্মচারীরা কাজ করতেন, তাঁদের কোনও অজ্ঞাত কারণে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতির কথা বলে তিনি ফের পদত্যাগের ইচ্ছে প্রকাশ করেন। মাস তিনেক আগেও তিনি প্রায় একই ধরনের অভিযোগ এনে পদত্যাগের ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। তখন হস্তক্ষেপ করেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তখনকার মতো সমস্যা মিটলেও ফের প্রায় একই অভিযোগ করলেন উপাচার্য।

তিনি বলেন, কালীপুজোর আগে দেখি, আমার দফতরে যে কর্মচারীরা ছিলেন, তাঁদের তুলে নেওয়া হয়েছে। এরপর অন্য কর্মীদের পাঠানো হয়। কিন্তু সেটা প্রশাসনিক স্তর থেকে হয়নি। রেজিস্টার জানান, কর্মীদের দফতর বদল নিয়ে উনি কোনও নির্দেশ দেননি। এরপর বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে তাঁকে কাজে বাধা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। গত প্রায় ১০ বছর ধরে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যর দায়িত্ব পালন করে আসছেন সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরী। তাঁর আরও অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল ছাত্র এবং কিছু কর্মী ক্যাম্পাসে এমন পরিস্থিতি তৈরি করছেন যাতে কাজ করা যাচ্ছে না। যখন তখন শিক্ষক, আধিকারিক এবং উপাচার্যের দফতরে ঢুকে পড়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তাঁরা, এবং বেশিরভাগ সময় কোনও সঙ্গত কারণ ছাড়াই। গত ১৮ জুলাই একটি ঘটনা নিয়ে এর আগে তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। ছাত্র ও একদল কর্মীদের বিক্ষোভে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়াই বন্ধ করে দেন তিনি। পরে শিক্ষা মন্ত্রী ব্রাত্য বসু ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামেন। কিন্তু মোটের ওপর পরিস্থিতির যে খুব একটা উন্নতি হয়নি বুধবার তা ফের প্রমাণিত হল।

Mailing List