শিল্পের হাত ধরেই এখনও লক্ষ্মী লাভের আশায় পুরুলিয়াবাসী

শিল্পের হাত ধরেই এখনও লক্ষ্মী লাভের আশায় পুরুলিয়াবাসী
19 Oct 2021, 06:30 PM

শিল্পের হাত ধরেই এখনও লক্ষ্মী লাভের আশায় পুরুলিয়াবাসী

 

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, পুরুলিয়া

 

ভারী শিল্প গড়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল জোরকদমেই। এলাকার আর্থ সামাজিক পরিস্থিতি বদলানোর প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল পুরো রঘুনাথপুর মহকুমা জুড়েই। কিন্তু শিল্পায়নের সম্ভাবনা ক্রমশ ফিকে হওয়ায় শিল্পহীন পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে তাই লক্ষ্মীপুজোর মূল সুরটাই কেটে গিয়েছে। তবু তা দূরে সরিয়ে শিল্পের হাত ধরে লক্ষ্মী লাভের আশায় স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

মাস দুই আগে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর মহকুমাজুড়ে শিল্প গড়ে তোলার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে রঘুনাথপুরে "জঙ্গল সুন্দরী কর্মনগরী"তৈরি করতে ৭২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করার কথা ঘোষণা করেছেন। ডানকুনি থেকে বর্ধমান, দূর্গাপুর হয়ে আসানসোল এবং বড়জোড়া-বাঁকুড়া-রঘুনাথপুর পর্যন্ত বিশেষ শিল্প করিডর করার কথাও ঘোষণা করেন। আর মুখ্যমন্ত্রীর সেই ঘোষণার পর উচ্ছাসে ফেটে পড়েছিল রঘুনাথপুর মহকুমার এলাকার যুবসমাজ। সকলেই তাকিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সেই ঘোষণার কখন কার্ষকর হবে।লক্ষ্মীলাভের আশায় সকলেই দিন গুনছে।

                     

পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর মহকুমা জুড়ে  শুরু হয়েছিল একাধিক ইস্পাত, সিমেন্ট ও বিদ্যুৎ কারখানা তৈরির কর্মকাণ্ড। শিলান্যাস হয়েছিল জয় বালাজি, শ্যাম স্টিল, আধুনিক শিল্প গোষ্ঠীর মত কারখানাগুলির। কিন্তু গত ১৩-১৪ বছরে শুধুমাত্র ডিভিসির বিদ্যুৎ কারখানা ছাড়া কোনও কারখানায় গড়ে উঠেনি। একই ছবি রেলের আদ্রা ডিভিশনের আদ্রা ও আনাড়ায়। সেখানেও বিদ্যুৎ ও রেলের কামরার মধ্যবর্তী পুনর্বাসন কারখানা গড়ার কথা ঘোষণা করা হলেও কাজ শুরুই করা যায়নি।

         

কর্মসংস্থানের সুযোগের আশায় বুক বেঁধেছিলেন এলাকার তরুণরা। সংসারের রোজগার বৃদ্ধির সম্ভাবনায় দিন গুনেছিলেন গৃহস্থ। কিন্তু কয়েক বছর ঘুরতেই এলাকায় শিল্প সম্ভাবনা বিশ বাঁও জলে যেতে দেখে সকলেই মুষড়ে পড়েছেন। একরাশ ক্ষোভ, অভিমান মনের মধ্যে রেখে ঘরে ঘরে পুজোর আয়োজন করেছেন রঘুনাথপুর মহকুমার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিল্পস্হাপনের সঙ্গে সঙ্গে এলাকার লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ পড়বে বলে তারা মনে করেছিলেন। কিন্তু শিল্প আসেনি। তাই লক্ষ্মীও অধরা।

রঘুনাথপুর ১ ব্লকের নতুনডি গ্রাম পঞ্চায়েতে জয় বালাজি গোষ্ঠীর ইস্পাত, সিমেন্ট ও ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট গড়ার কথা ছিল। প্রয়োজনীয় জমির বেশিরভাগই অধিগ্রহণ করে এই শিল্পগোষ্ঠীকে দিয়েছিল রাজ্য শিল্প উন্নয়ন নিগম। জমি হাতে পেয়ে ওই শিল্পগোষ্ঠী জমি সমতল করে সীমানা প্রাচীরের কাজও শুরু করেছিল। তারপর সেই কাজ হঠাৎ থমকে যাওয়ায় পড়ে থাকে সেই জমি। তারা এলাকায় শিল্প স্থাপন করতে পারবে না এমনটাও সরকারের কাছে তারা নাকি জানিয়েছে।

 

স্থানীয় দুরমুট গ্রামের বাসিন্দা পবন মাজি বলেন ২০০৭ সালের শেষের দিকে জমির আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পর বাড়িতে বড় করে লক্ষ্মীপূজো করেছিলাম। জমির পরিবর্তে যে টাকা পেয়েছিলাম, তা শেষ হয়ে গিয়েছে। আবার জমি ভরাট হয়ে যাওয়ায় চাষও করতে পারছি না। এখন গত কয়েক বছর ধরে কোনরকমে নমো নমো করে লক্ষ্মীপূজো করছি। আমরা তাকিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। বাসিন্দাদের আশা, মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে জমিতে শিল্প গড়ে উঠবে। লক্ষ্মী ফিরে আসুক তাঁদের ঘরে।

হতাশ এলাকার যুবকরাও। রঘুনাথপুর শহরের সুভাষ বাউরী, দেবব্রত পালরা জানান, ডিভিসির প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হওয়ার পরে সেখানে নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। তাতে এলাকায় আর্থিক সমৃদ্ধি ঘটেছিল। শিল্পায়নের হাত ধরে এলাকায় আর্থিক সমৃদ্ধি আসতে শুরু করেছিল, তার প্রভাব পড়েছিল শিল্পশহর রঘুনাথপুর বাজারেও। ফল ব্যবসায়ী সম্পদ কর বলেন, কারখানাগুলো গড়ে ওঠার কথাবার্তা শুরু হতেই জমির আর্থিক ক্ষতিপূরণ হাতে পেয়ে ঐ সময় বাজার তেজী হয়ে উঠেছিল। সেই সময় লক্ষ্মীপূজোয় যা ব্যবস্থা হতো এখন তার তুলনায় বিক্রিবাটা অন্তত 30 থেকে 40 শতাংশ কমে গিয়েছে। একই অভিজ্ঞতা ফুল ও প্রতিমা সাজের ব্যবসায়ীদের।    রঘুনাথপুর শহরের বাসিন্দা তথা পুরুলিয়া জেলা যুব তৃণমূলের সহ সভাপতি প্রণব দেওঘরিয়া বলেন, বিশ্বকর্মার হাত ধরে এলাকায় লক্ষ্মী দেবীর স্থায়ী আসন তৈরি হতে পারত অনেক আগেই বামফ্রন্ট সরকারেরসময়েই।কিন্তু তা হয়নি।

   

তবে বর্তমান আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন রঘুনাথপুর মহকুমা জুড়ে একাধিক ভারী শিল্প গড়ে তোলা হবে। তার জন্য পরিকাঠামো তৈরীর জন্য একাধিক প্রকল্প ঘোষণা করেছেন তিনি ইতিমধ্যেই। আর সেই লক্ষ্মী লাভের আশায় এলাকাবাসী তাকিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দিকেই।

ads

Mailing List