ইসলাম ধর্মের আদি কথা, খোদার আদেশে ফেরেস্তা জিবরাইল মর্তে এসে আদম ও হাওয়াকে কৃষিকাজ, গৃহনির্মাণ, ইত্যাদি শিখিয়ে দিলেন / দ্বিতীয় পর্ব

ইসলাম ধর্মের আদি কথা, খোদার আদেশে ফেরেস্তা জিবরাইল মর্তে এসে আদম ও হাওয়াকে কৃষিকাজ, গৃহনির্মাণ, ইত্যাদি শিখিয়ে দিলেন / দ্বিতীয় পর্ব
29 Sep 2022, 09:40 AM

ইসলাম ধর্মের আদি কথা, খোদার আদেশে ফেরেস্তা জিবরাইল মর্তে এসে আদম ও হাওয়াকে কৃষিকাজ, গৃহনির্মাণ, ইত্যাদি শিখিয়ে দিলেন / দ্বিতীয় পর্ব

 

রোশেনারা খান                                       

 

আদম ও হাওয়া পৃথিবীতে নির্বাসিত হওয়ার পর বহু বছর কেটে যায়। তারপর একদিন আরাফতের ময়দানে খোদার (আল্লাহ্র)সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়। আদম তাঁর কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করে খোদার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। খোদা তাঁদের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে ক্ষমা করে দিয়ে বললেন, তোমরা পৃথিবীতে ফিরে  যাও। সময়মত তোমাদের কাছে আমার উপদেশ পৌঁছাবে। যারা আমার উপদেশ মেনে চলবে তাদের কোনো ভয় থাকবে না, দুঃখ থাকবে না। আর যারা আমার উপদেশ অবিশ্বাস করবে তারা দোজখবাসী (নরক)হবে।

একসময় খোদার আদেশে ফেরেস্তা জিবরাইল মর্তে এসে আদম ও হাওয়াকে কৃষিকাজ, গৃহনির্মাণ, পোশাক বোনা ইত্যাদি শিখিয়ে দিলেন। পরিশ্রমের মাধ্যমে এই সমস্ত কাজ করে তাঁরা কালযাপন করতে লাগলেন। তাঁদের সন্তান-সন্ততিরা বংশবৃদ্ধি করে পৃথিবীতে লোকসংখ্যা বাড়াতে থাকল। তাদের জ্ঞান দানের জন্য হজরত আদম নবি হিসেবে নিযুক্ত হলেন।মানুষের ওপর আদেশ হল,যারা তাঁর উপদেশ মেনে চলবে তারা সুখী হবে।যারা মানবে না তারা সারাজীবন দুঃখ ভোগ করবে।

হজরত আদম বহু বছর বেঁচেছিলেন। তাঁর অসংখ্য সন্তান-সন্ততির মধ্যে প্রথম দুই পুত্রের নাম হাবিল ও কাবিল। আর এক পুত্রের নাম শিস। হাবিল কাবিলের জন্মের বহুবছর পর শিসের জন্ম হয়। হাবিল ছিল আদমের বাধ্য সন্তান।কাবিল শুধু পিতার অবাধ্যই ছিল না, সে ছিল শয়তানের বন্ধু। একদিন দুইভাই বহু দূরে এক পাহাড়ে কোরবানি দিতে গেল। হাবিল নিয়েছিল একটি নধর ভেড়া আর কাবিল নিয়েছিল কিছু শস্যের শিস। হঠাৎ আগুন জ্বলে উঠে পশুটিকে জ্বালিয়ে দিয়ে খোদা হাবিলের কোরবানি গ্রহণ করেন। কিন্তু সেই আগুন কাবিলের শস্যের শীষ স্পর্শ করেনা। কাবিলের কোরবানি খোদা গ্রহণ না করাতে হাবিলের ওপর তার রাগ হয়, রাগের বশবর্তী হয়ে সে হাবিলকে হত্যা করে ওখানেই দেহ মাটিচাপা দিয়ে বাড়ি ফেরার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু তার পা মাটিতে এমনভাবে গেঁথে যায় যে সে ওখান থেকে নিজেকে সরাতে পারে না, ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। আল্লাহ্‌ তাকে দোজখে নিক্ষেপ করার নির্দেশ দেন।

হাবিলের দেহ সমাধিস্থ করার বিষয়ে একটি কাহিনী রয়েছে। হাবিলকে হত্যা করার পর কাবিল যখন ভাবছে কীভাবে মৃতদেহ গোপন করবে, সেই সময় দুটি কাক সেখানে নিজেদের মধ্যে মারামারি শুরু করে। একটি কাক মারা গেলে আর একটি কাক ঠোঁট দিয়ে মাটি খুঁড়ে মরা কাকটিকে ঢেকে দেয়। এটা দেখে কাবিলও হাবিলের দেহটি গর্ত খুঁড়ে মাটি চাপা দেয়। এই ঘটনা থেকেই মৃতদেহ সমাধি দেওয়ার রীতির প্রচলন হয়।

(চলবে..)

লেখিকা: বিদ্যাসাগর পুরষ্কারপ্রাপ্ত প্রবান্ধিক ও সমাজকর্মী।

Mailing List