অভিষেকের নির্দেশের পরেই পদত্যাগ করলেন প্রধান, উপপ্রধান ও অঞ্চল সভাপতি

অভিষেকের নির্দেশের পরেই পদত্যাগ করলেন প্রধান, উপপ্রধান ও অঞ্চল সভাপতি
04 Dec 2022, 06:28 PM

অভিষেকের নির্দেশের পরেই পদত্যাগ করলেন প্রধান, উপপ্রধান ও অঞ্চল সভাপতি

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন: কাঁথির মঞ্চ থেকেই নির্দেশ দিয়েছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই নির্দেশের পর ২৪ ঘন্টাও কাটল না, পদত্যাগ করলেন পঞ্চায়েত প্রধান, উপপ্রধান ও অঞ্চল সভাপতি। শনিবার কাঁথির সভায় যাওয়ার পথে মারিশদার এক গ্রামে ঢুকে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে সামনে পেয়েই অভিযোগের ঝাঁপি খোলেন গ্রামবাসীরা। পানীয় জল নেই, সরকারি প্রকল্পের ঘর পাওয়া যায় না, মেলে না সরকারি প্রকল্পের সুবিধা-সহ একাধিক অভিযোগ করেন তাঁরা।

এরপরই আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যে মারিশদার প্রধান, উপপ্রধান, অঞ্চল সভাপতিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন অভিষেক। সেই নির্দেশের পর ৪৮ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই পদত্যাগ করলেন তিনজনই। গতকাল অভিষেকের কাছে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেন গ্রামবাসীরা। একজন বলেন, টিউব ওয়েল একটা রয়েছে। তা থেকে নোনা জল বের হয়। ওয়াটার সাপ্লাইয়ের জল এক বেলা মেলে, তা নিতে গিয়ে মারামারিও হয়।  অভিষেক জানতে চান, শুভেন্দু-শিশিরবাবুরা কিছু করেননি? গ্রামবাসীরা বলেন, ওদের এখানে কখনও দেখিনি। তুমি যেমন এসেছো, ওরা কখনও আসেনি। ওদের শুধু ছবিই দেখেছি। অভিষেকের প্রশ্ন, পঞ্চায়েতে গিয়ে আপনারা বলেননি? গ্রামবাসীরা বলেন, ওরা হ্যাঁ করে দেব বলে চলে গিয়েছে। সরকারি সাহায্য না পাওয়ার অভিযোগ করেন এক গৃহবধূ। ঘরের জন্য নাম লিখিয়েও কোনও ফল হয়নি, অভিযোগ করেন এক মহিলা। আমফানের সময় ত্রিপলও পাইনি। বৃষ্টি হলে ঘরে থাকা যায় না বলে আক্ষেপ করেন তাঁরা। স্কুলে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়। পঞ্চায়েতের সদস্যরা বলল, ওদের ঘর ইট দিয়ে ঘেরা। এদের কিছু দেওয়া যাবে না। ওই গৃহবধূর ঘরে ঢুকে দেখেন অভিষেক। তাঁদের নিজের ফোন নম্বর দেন। তিনি বলেন, সরকারি লোকজন এসে আপনাদের সুবিধে অসুবিধের কথা জেনে যাবে। তার পর যা করার আমি করব। কাঁথির সভায় এই প্রসঙ্গ তুলে তিন জনকেই ইস্তফা দেওয়ার নির্দেশ দেন অভিষেক।

রবিবারই মারিশদা ৫ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান নাম ঝুনুরানি মণ্ডল, উপপ্রধান রামকৃষ্ণ মণ্ডল ও স্থানীয় তৃণমূল  অঞ্চল সভাপতি গৌতম মিশ্র তিনজনেই ইস্থফা দিলেন। ইস্তফা নিয়ে মারিশদার অঞ্চল সভাপতি গৌতম মিশ্র বলেন, আমাদের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক যে নির্দেশ দিয়েছিলেন তারই জেরে ইস্তফা দিয়ে দিলাম। আমাদের তৃণমূল কংগ্রেস পরিবারের মতো। উনি আমাদের নেতা, আমাদের অভিভাবক। আমার যদি কোনও ত্রুটি থাকে তাহলে নিশ্চয় বলবেন।

Mailing List