মহাসচিব এখন মহাড্রেনে, নর্দমায় ভাসাচ্ছে দলের শিক্ষক সংগঠনই

মহাসচিব এখন মহাড্রেনে, নর্দমায় ভাসাচ্ছে দলের শিক্ষক সংগঠনই
07 Aug 2022, 11:40 PM

মহাসচিব এখন মহাড্রেনে, নর্দমায় ভাসাচ্ছে দলের শিক্ষক সংগঠনই

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন: এতদিন কথা বলার সূযোগ ছিল না। প্রকাশ্যে তো দূরের কথা। আড়ালে আবডালেও না। কারণ, দলের কেউ শুনে ফেললে দল থেকে তো তাড়িয়ে দেবেই, এমনকী জীবন সংশয়ও হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

কারণ, তিনি পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি তৃণমূলের মহাসচিব ছিলেন। তিনি একাধিক দফতরের মন্ত্রী। তাঁর কথায় শুধু নিজের দফতর নয়, একাধিক দফতরে চাকরি হয়েছে বলে দাবি তৃণমূল নেতাদেরই।

সব থেকে বড় পরিহাস কোথায়? যিনি দীর্ঘদিন শিক্ষামন্ত্রী থেকেছেন তাঁকে পছন্দ করেন না শিক্ষক সংগঠনের নেতারাই! শুনলে অবাক তো হতেই হবে। কিন্তু কেন?

ব্যাখ্যা করলেন একাধিক জেলার শিক্ষক সংগঠনের নেতা। কিন্তু এখনও সরাসরি নিজেদের নাম প্রকাশ করতে রাজি নন। কিন্তু তাঁদের অভিজ্ঞতা কেমন?

শিক্ষক সংগঠনের এক জেলা নেতা জানালেন, মিটিং ছিল শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গে। রাজ্যের সব জেলার শিক্ষক সংগঠনের জেলা নেতারা তো বটেই বহু ব্লক স্তরের নেতারাও রয়েছেন। মিটিংয়ে আলোচনা চলছে। চলছে প্রশ্নোত্তর। সেই সময় এক জেলা নেতা প্রশ্ন করলেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে?

প্রশ্নটা ছিল, শিক্ষকদের বদলির বিষয়টি একটু ভাবুন? আমাদের তো শিক্ষকরা পাগল করে দিচ্ছেন।

ওই শিক্ষক নেতার কথায়, তড়িৎ গতিতে উত্তর দিয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ওই শিক্ষক নেতা বলেন, ‘‘পার্থদা তখন আঙুলে নোট গোনার ভঙ্গিমা করে বলেন, কী এসব হচ্ছে না বলে কী গায়ে লাগছে? দল বলেছে এসব হবে না। এসব নিয়ে কোনও কথা বলবেন না।’’

আর শিক্ষক নেতা বলেন, ‘‘তখন আমি দাঁড়িয়ে সোজা বলেছিলাম, যদি বদলি না করার সিদ্ধান্ত হয় আপত্তি নেই। কিন্তু আমরা বললে হচ্ছে না। আমরা বলছি, শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন বদলি বন্ধ। হবে না। কিন্তু সেই সব শিক্ষকরাই কদিন পর বদলির চিঠি নিয়ে আমাদের কাছে এসে দেখিয়ে যাচ্ছেন! তাহলে আমাদের এই পদে থাকার অর্থ কী?’’

ওই শিক্ষখ নেতা উত্তরও দিয়েছিলেন। বললেন, ‘‘তখন পার্থদা বলছে, কিছু বদলি তো করতেই হয়। অনেক রাজ্য নেতা, মন্ত্রী, এমএলএদের অনুরোধ থাকে। তখন আমি বলেছিলাম, তাহলে যাঁদের বদলি হচ্ছে সেই তালিকাটুকু আমাদের দেওয়া হোক। নাহলে আমাদের তো অপদস্থ হতে হচ্ছে। তখন উনি সেটা দেবার কথা জানিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু কখন‌ও পাইনি।’’

তবে এখন তাঁদের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট। শিক্ষক নেতাদের সাফ কথা, ‘‘নোটের পাহাড় দেখে বুঝতে পারছি, আমরা সংগঠনের নেতা ছিলাম। জেলা সভাপতি ছিলাম। কিন্তু বদলি করতেন অন্য কেউ। সব নেতাদের কাছে নোট গোনার ভঙ্গিমা দেখিয়ে সবাইকে ছোট করে নিজের বান্ধবীর ঘরে নোটের পাহাড়! এই তো দল চলেছে।’’

এক সময়ের দৌর্দন্ডপ্রতাপ পার্থ চট্টোপাধ্যায় এখন জেলায় জেলায় এভাবেই মূল্যায়ণের একটি বিষয়। একজনকেও শোনা যায়নি সহানুভূতি নিয়ে কথা বলতে। তবে তৃণমূল সূত্রে খবর, যাঁরা সহানুভূতি নিয়ে কথা বলার জায়গাতে ছিল বেশিরভাগই গা ঢাকা দিয়েছে। আর যাঁদের সামনে পার্থবাবু নিজেকে সততার প্রতীক হিসেবে দেখাতেন আর সংগঠন চালাতে গেলে যা প্রয়োজন তা নিয়ে কটাক্ষের ঢঙে টাকা তোলার অভিযোগ আনতেন, তিনিই প্রমাণ করলেন তিনিই আসলে সে দলে ছিলেন। এভাবেই এক সময়ের তৃণমূলের মহাসচিব এখন কলকাতা ছাড়িয়ে জেলার মহাড্রেনেও ভেসে বেড়াচ্ছেন।

Mailing List