তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন প্রাক্তন জেলা কংগ্রেস সভাপতি

তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন প্রাক্তন জেলা কংগ্রেস সভাপতি
24 Feb 2021, 07:26 PM

তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন প্রাক্তন জেলা কংগ্রেস সভাপতি

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন, মেদিনীপুরঃ মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে পতাকা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি তথা প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সদস্য সৌমেন খাঁন। বুধবার, হুগলি জেলার সাহাগঞ্জের সভাতে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন তিনি। তাঁকে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা স্বাগত জানালেও কটাক্ষ ও আক্রমণ করেছে জেলা কংগ্রেস।

এদিকে অনেকেই বলছেন যে এইবার বিধানসভা নির্বাচনে মেদিনীপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসাবে লড়াই করবেন সৌমেন খাঁন। তবে এই বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, বলেন, "বাংলার উন্নয়নের কর্মকাণ্ডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভাবে কাজ করছেন তাতে সামিল হতেই তৃণমূলে আসা। রাজ্যে যে ভাবে বিভাজনের রাজনীতি চলছে তার থেকে মুক্ত করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করে হবে। মানুষের হয়ে কাজ করার জন্যই তৃণমূলে যোগদান।"

বেশ কয়েক বছর ধরেই মেদিনীপুর শহরে জল্পনা চলছিল যে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন সৌমেন খাঁন। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মেদিনীপুর শহরের রাস্তায় দেখা গিয়েছিল একটি ফ্লেক্স। সেই ফ্লেক্সে ছবি দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে ‘স্বাগতম’ জানানো হয়েছিল সৌমেন খাঁনকে। সেই সময় থেকেই যে জল্পনা শুরু হয়েছিল। তার বাস্তবরূপ পেল বুধবার। সাহাগঞ্জে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে দলের পতাকা তুলে নিলেন।  চলচ্চিত্র জগতের একঝাঁক কলাকুশলীদের সাথেই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করলেন তিনি।

প্রদেশ কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন। তাছাড়া মেদিনীপুর পুরসভার দীর্ঘদিনের কাউন্সিলর। মেদিনীপুর শহরের জগন্নাথ মন্দির এলাকায় বাড়ি। ১৯৯৭ সাল থেকে কংগ্রেস করে আসছেন তিনি। বাবা ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী। অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলায় ছাত্র পরিষদের সভাপতি ছিলেন।  ২০০৬ সালে গড়বেতা বিধানসভা কেন্দ্র কংগ্রেসের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেছিলেন। তাছাড়া মেদিনীপুর শহর সভাপতি ও পরে জেলা সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। সম্প্রতি তাকে সরিয়ে জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রবীণ কংগ্রেস নেতা সমীর রায়কে। তারপর থেকেই দলের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছিল বলেও জানা গিয়েছে। দলের বিভিন্ন কর্মসূচি আলাদা ভাবে পালন করতেও দেখা গিয়েছিল সৌমেনকে।

এদিন সকালে সৌমেন খাঁন যখন হুগলির পথে, সেই সময়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে জেলা যুব কংগ্রেসের সভাপতি মহম্মদ সাইফুল লেখেন,  "বহুবছরের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রাক্তন কাউন্সিলার সৌমেন খাঁন যোগ দিচ্ছেন তৃণমূলে। আজ মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে পতাকা নিয়ে বীজেমূলে যোগদান করবেন। একজন ভাড়াটে ভোটকুশলীর সাথে কিছুর বিনিময়ে বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের প্রার্থী হবেন চুক্তি হয়েছে। পুরোনো তৃণমূলীদের কাছে আবেদন আপনাদের দলে এখন পয়সার বিনিময়ে সব কিছুই পাওয়া যায়। তাহলে আপনারা নিজেরাই ভাবুন ওই দলটা করবেন কিনা! আসুন কংগ্রেসে, কিছু দিতে পারি না পারি আমরা যোগ্য সম্মানটা দেব।”

দুপুরে সাংবাদিক বৈঠক করে জেলা সভাপতি সমীর রায় বলেন, "দলে পদে থেকে পেছন দিয়ে ছুরিকাঘাতের থেকে চলে যাওয়া অনেক ভাল। এতে দূষণমুক্ত হবে দল। তৃণমূল  থেকে অনেকে বিজেপিতে চলে যাওয়ায় এখন খড়কুটো যা পাচ্ছে তাদের বরণ করে নিচ্ছে।" সৌমেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, "জেলা সভাপতি থাকাকালীন বেশ কিছু দলের সম্পতি নিয়ে গিয়েছে, সেগুলি ফেরৎ দিতে বলা হয়েছে।"

তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি বলেন, "সৌমেনকে দলে স্বাগত জানাচ্ছি। অত্যন্ত ভালো কাজ করেছে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করে। তিনি একজন সচেতন রাজনীতিবিদ। দলে যোগ দেওয়ায় আরও ভালোভাবে দলের কাজ করবে।"

Mailing List