ভোট পরিচালনা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের তীব্র ভর্ৎসনা নির্বাচন কমিশনকে

ভোট পরিচালনা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের তীব্র ভর্ৎসনা নির্বাচন কমিশনকে
22 Apr 2021, 08:46 PM

ভোট পরিচালনা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের তীব্র ভর্ৎসনা নির্বাচন কমিশনকে

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন: রাজ্যে যে ভাবে ভোট চলছে তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে তীব্র ভর্ৎসনা করল কলকাতা হাইকোর্ট। করোনাকালে ভোট চলছে। আর সেই সময়ে নির্বাচন কমিশনের  ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ কলকাতা হাইকোর্ট।   বৃহস্পতিবার, নির্বাচন নিয়ে একটি মামলার শুনানি চলার সময়  হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিবিএন রাধাকৃষ্ণণের ডিভিশন বেঞ্চ বলে, করোনাকালে ভোট ব্যবস্থাপনায় দায়সারা কাজ করছে নির্বাচন কমিশন।  করোনা মহামারির মধ্যে এই ভাবে শুধুমাত্র সার্কুলার দিয়ে নিজের দায় ঝেড়ে ফেলতে পারে না কমিশন।

 

আদালতের মতে, নিজেদের ক্ষমতার সঠিক ব্যবহার করেনি কমিশন। এদিন প্রধান বিচারপতির এজলাসে শুনানি চলার সময়  আদালতের পর্যবেক্ষণ, “কমিশনের হাতে চূড়ান্ত ক্ষমতা। তাও তার কোনও ব্যবহার নেই। এই সময় টি এন সেশনের দশ ভাগের একভাগ করে দেখাক কমিশন। প্রয়োজনে আমরা টি এন সেশনের কাজ করব।”

বিচারপতি আদালতে বলেন, “সার্কুলার নয়, আমরা কমিশনের কাছে পদক্ষেপ চাইছি। আমরা অর্ডার দিতে পারছি না, কারণ রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি কোর্টে নেই।”

 

দেশে এবং এই রাজ্যেও করোনা সংক্রমণ বাড়ছে হু হু  করে। তার মধ্যেই আট দফার ভোট গ্রহণ এই রাজ্যে।  আজ হয়েছে ষষ্ঠ দফার ভোট গ্রহণ। এখনও বাকি আছে দুই দফা।  এখনও প্রচার সারছেন দলের প্রার্থীরা। হচ্ছে সভাও। আজকেও সভা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস দলনেত্রী মমতা  বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্‌।

করোনা মহামারির মধ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার একাধিক আবেদনের শুনানিতে এদিন আদালতের তরফে নির্বাচন কমিশনকে চরম ভর্ৎসনা করা হয়।

আদালত জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের হাতে অসীম ক্ষমতা দেওয়া রয়েছে। কিন্তু সেই ক্ষমতা কার্যক্ষেত্রে প্রয়োগ করছে না তারা। কমিশনের আধিকারিক ও কুইক রেসপন্স টিমকে কাজে লাগানো হচ্ছে না। শুধুমাত্র সার্কুলার জারি করে নিজের দায় সারছে কমিশন। এভাবে মানুষের ওপর সব কিছু ছেড়ে দিয়ে নিজের দায় ঝেড়ে ফেলতে পারে না কমিশন। 

 

এর আগে, মঙ্গলবার করোনা সংক্রান্ত মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেছিলেন, ‘ভোটের দিন ঘোষণার পর থেকে যথেষ্ট জনসভা, মিছিল, র‍্যালি হয়েছে। এবার মানুষকেই বিচার করতে দিন।’

 

প্রধান বিচারপতি এদিন বলেছেন,  প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার টিএন সেশনের ১০ শতাংশ কাজ এই নির্বাচন কমিশন করতে পারবে কি না আমার সন্দেহ। প্রয়োজনে আমরা সেশনের কাজ করবো। কমিশন চূড়ান্ত অদক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে। আদালতে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি না থাকায় এখনই কোনও নির্দেশ জারি করছে না আদালত। কিন্তু ভবিষ্যতে এই নিয়ে নির্দেশ জারি করতে পারে তারা। 

 

আদালতের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা ভবানীপুর কেন্দ্রের প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “রাজ্যে আট দফার ভোট করার কোন প্রয়োজন ছিল না।  তিন  বা চার দফাতেও ভোট হয়ে যেতে পারত।” আর বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “যখন টি এন সেশন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ছিলেন সেই সময়ে কোভিড ছিল না।  ভোট কি করে করানো হবে সেটা তো নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত, তাদের দায়িত্ব।”

এদিকে এখনও বাকি দুই দফার ভোট। এই অবস্থায় শুক্রবার জরুরি বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। করোনা আবহে কীভাবে সম্পন্ন হবে বাংলার ভোট তা নিয়েই  রাজ্যে  মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে ভারচুয়াল বৈঠকে সেই নিয়েই আলোচনা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

Mailing List