বিপাকে মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় বাহিনী বিতর্কে শো কজ নোটিশ নির্বাচন কমিশনের

বিপাকে মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় বাহিনী বিতর্কে শো কজ নোটিশ নির্বাচন কমিশনের
07 Apr 2021, 08:20 PM

বিপাকে মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় বাহিনী বিতর্কে শো কজ নোটিশ নির্বাচন কমিশনের

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন, কলকাতা: আজ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোচবিহারের সভা থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন  তা নিয়ে আগামী কালের মধ্যেই ভিডিও ফুটেজ সহ রিপোর্ট তাদের কাছে পাঠানোর জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আগের কিছু সভাতে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে তাঁকে শো কজ করল নির্বাচন কমিশন।

 

গত ৩ এপ্রিল হুগলির তারকেশ্বর এলাকায় দলের প্রার্থী সমর্থনে নির্বাচনী জনসভায় আদর্শ আচরণ বিধি ভেঙে বিশেষ সম্প্রদায়কে তাদের ভোট ভাগ না করে তৃণমূলকে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী। এই নিয়ে কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষন করে বিজেপি। বিজেপি নেতা মুক্তার আব্বাস নাকভির নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনে সেই নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে ছিলেন। সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখে কমিশন আগামী দুই দিনের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে।

ওই নির্বাচনী জনসভা থেকে তৃণমূল দলনেত্রী বলেন,  “‌আমি আমার সমস্ত সংখ্যালঘু ভাই–বোনেদের অনুরোধ করছি ভোট ভাগাভাগি হতে দেবেন না।”‌  যেখানে মমতা সভা করেন, সেখান থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরেই, ধনেখালিতে সেদিনই ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কর্মসূচি। ওই সভা থেকেই মমতা অভিযোগ তোলেন,  “বাংলাকে বিজেপি ধর্মের নামে ভাগ করে দিতে চাইছেন। বাংলার সংস্কৃতি নষ্ট করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।”

গতকালই রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে এসে এই নিয়ে তৃনমূল কংগ্রেস দলনেত্রীকে আক্রমণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রকাশ্য সভাতে দিদি বলছেন মুসলিমরা যেন এক জোট হয়ে তাঁকে, তাদের দলকেই ভোট দেয়। দিদি প্রকাশেই এই কথা বলছেন। এর অর্থ যারা তাঁর ভোট ব্যাঙ্ক তারা দিদির কাছ থেকে সরে গিয়েছে।” এই সাথেই প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, “আমি জানিনা যে এই জন্য নির্বাচন কমিশন আপনাকে কোনও নোটিশ পাঠিয়েছে কি না। কিন্তু আমি যদি বলতাম যে হিন্দুরা এক হয়ে সব ভোট বিজেপিকে দিন তাহলে আমি ৮-১০ টা নোটিশ পেতাম।  সারা দেশের সংবাদমাধ্যম আমাকে সমালোচনা করত।”

আর তারপরেই মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের জন্য তাঁকে শো কজ নোটিশ পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

পাশাপাশি কুলপি এবং রায়দিঘির জনসভায় বিজেপির ‘বহিরাগত গুন্ডা’দের নিয়ে সোচ্চার হন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন,  “আপনারা জানেন, নন্দীগ্রামে কী করেছে বিজেপি?  গ্রামে গ্রামে গিয়ে বলেছে, তোমার মেয়েকে লুঠ করে নিয়ে যাব। তোমার বাচ্চাকে কিডন্যাপ করে নিয়ে যাব। এরা বিহার, উত্তরপ্রদেশ থেকে এসেছে। সব বাইরের গুন্ডা। দিল্লির পুলিশ এসে ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে গ্রামে ঢুকছে। পুলিশের পোশাক পরিয়ে, লোক ঢুকিয়ে গ্রামে গ্রামে ভয় দেখাচ্ছে। কিন্তু এরা ভোটের পর পগারপার হয়ে যাবে। এই বাংলায় আমরাই থাকব। এই বহিরাগত গুন্ডারা থাকবে না।”

 

দক্ষিণ ২৪ পরগনায় দু’টি সভাতেই মমতা নাম না করে আইএসএফ নেতা পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকিকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন। রায়দিঘিতে সংখ্যালঘুদের প্রতি তাঁর আর্জি, ‘‌হায়দরাবাদ থেকে বিজেপির এক বন্ধু এসেছে, ফুরফুরা শরিফের একটা চ্যাংড়াকে নিয়ে। কয়েক কোটি টাকা খরচা করে সাম্প্রদায়িক স্লোগান দিচ্ছে। ধর্মের ভিত্তিতে ভোট ভাগাভাগির চেষ্টা করছে। কিন্তু যদি আপনারা এনআরসি, এনপিআর, সিএএ না চান, ওদের একটাও ভোট দেবেন না। ওদের একটা ভোট দেওয়া মানে, বিজেপিতে দেওয়া।’‌ এই জন্যও তাঁকে কারণ দর্শাতে নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

Mailing List