গায়ের রং কালো বলে বধূকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা - গ্রেপ্তার স্বামী ও শ্বশুর

গায়ের রং কালো বলে বধূকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা - গ্রেপ্তার স্বামী ও শ্বশুর
26 Apr 2022, 11:15 PM

গায়ের রং কালো বলে বধূকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা - গ্রেপ্তার স্বামী ও শ্বশুর

 

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান

 

গায়ের রং কালো হওয়ায় প্রতিনিয়ত স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের গঞ্জনা সহ্য করতে হত বধূকে। এমনকি সহ্য করতে হত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনও। শুধু মাত্র গায়ের রং কালো হওয়ার জন্য স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের এমন দুর্ব্যবহার মন থেকে মনে নিতে পারেননি বধূ সরোজিনী ঘোষ (২৩)। তাই গঞ্জনা লাঞ্ছনা থেকে মুক্তি পেতে তিনি চরম পরিণতির পথই বেছে নিলেন।

সোমবার পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর বড় ধামাস গ্রামের শ্বশুর বাড়ি থকে উদ্ধার হয় বধূর ঝুলন্ত মৃত দেহ। ঘটনা কথা জেনে বিস্মিত মৃতার পরিজন ও এলাকাবাসী। মেয়ের মৃত্যুর বিচার চেয়ে বধূর বাবার বাড়ির লোকজন সোমবারই পূর্বস্থলী থানার দ্বারস্থ হন। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বধূ নির্যাতন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেবার ধারায় মামলা রুজু করে  বধূর স্বামী দেবার্ঘ ঘোষ ও শ্বশুর বাবলু ঘোষ কে গ্রেপ্তার করে ।

ময়নাতদন্তে পাঠানো হয় বধূর মৃতদেহ। পুলিশ মঙ্গলবার ধৃতদের পেশ করা হয় কালনা মহকুমা আদালতে। বিচারক ধৃতদের ১৪ দিন জেল হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

 পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বধূ সরোজিনী ঘোষের বাবার বাড়ি হুগলী জেলার ভদ্রেশ্বরের। পূর্বস্থলীর বড় ধামাস গ্রাম নিবাসী যুবক দেবার্ঘ ঘোষের সঙ্গে তাঁর ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বছর চারেক আগে তাঁদের বিয়ে হয়। দম্পতির আড়াই বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বধূর পিসেমসাই সুকুমার দাস অভিযোগে জানিয়েছেন, ’ফেসবুক’ মাধ্যমেই সরোজিনীর সঙ্গে পরিচয় হয় দেবার্ঘর  পরে ওদের দু’জনের  মধ্যে প্রেম ভালবাসা গড়ে উঠলে বিয়ে হয়। আর বিয়ের পর থেকেই গায়ের রং কালো বলে সরোজিনীকে খোঁটা দেওয়া শুরু করে তাঁর স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন। তাঁকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার পাশাপাশি শুরু হয় গঞ্জনা ও লাঞ্ছনা। এমনকি জামাই ও তাঁর পরিবারের অন্য সরোজিনীর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনও চালাতো। দিন কুড়ি যাবৎ নির্যাতনের মাত্রা বাড়ায় বাবা স্বপন মণ্ডল তার মেয়ে সরোজিনীকে ভদ্রেশ্বরে বাবার বাড়ি নিয়ে চলে যান।

 

 

অভিযোগ,এরপর দিন ১০-১২ আগে সরোজিনীর শ্বশুর বাবলু ঘোষ নিজে বধূর বাবার বাড়িতে পৌছান। আর অশান্তি হবে না ,গঞ্জনা-চাঞ্ছনা করা হবে না এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাবলু ঘোষ তাঁর পূর্বস্থলীর বাড়িতে নিয়ে যান সরোজিনী কে। কিন্তু সরোজিনীর ভাগ্যে আর সুখ ফেরে না। বধূর বাবা স্বপন মন্ডল বলেন,“ গায়ের রং কালো বলে তাঁর মেয়েকে একই ভাবে খোঁটা দেওয়া থেকে শুরু করে গঞ্জনা- লাঞ্ছনা সমান ভাবে চালিয়ে যায় জামাই ও তাঁর বাড়ির লোকজন। স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের ওই দুর্ব্যবহার মন থেকে আর মনে নিতে না পেরে সরোজিনী চরম পরিণতির পথ বেছে নেয়। সোমবার গলায় দড়ির ফাঁস দিয়ে ঝোলা অবস্থায়  শ্বশুর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় মেয়ের মৃতদেহ“। স্বপন মণ্ডল দাবী করেন ,তাঁর মৃত্যুর জন্য জামাই ও তার পরিবারের লোকজনই দায়ী। তাঁরাই সরোজিনীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিয়েছে। বধূর বাবা অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক সাজারও দাবি করেছেন।

ads

Mailing List