স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে ঋণদানের পরিমাণ এখনই ছুঁয়েছে ১০ কোটি টাকা! উত্তরপ্রদেশ-গুজরাতে কত?  

স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে ঋণদানের পরিমাণ এখনই ছুঁয়েছে ১০ কোটি টাকা! উত্তরপ্রদেশ-গুজরাতে কত?   
03 Jul 2022, 07:10 PM

স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে ঋণদানের পরিমাণ এখনই ছুঁয়েছে ১০ কোটি টাকা! উত্তরপ্রদেশ-গুজরাতে কত?

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন: রাজ্যের মহিলা ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর আর্থ সামাজিক মানোন্নয়নে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ক্রিয়াকলাপ বাড়ানোকে পাখির চোখ করেছে রাজ্য সরকার। তার সুফল বহুদিন ধরেই পাচ্ছে রাজ্য। স্বনির্ভর গোষ্ঠী আন্দোলনের হাত ধরে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন এ রাজ্যের বহু সংখ্যক মানুষ। সরকারি উৎসাহে শহর এবং গ্রামে বর্তমান সরকারের আমলে লক্ষ্যণীয় ভাবে বেড়েছে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সংখ্যা। এবার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে  উত্তরপ্রদেশ, গুজরাটের মতো বিজেপির শাসিত রাজ্যকে পিছনে ফেলে পিছনে ফেলে এগিয়ে গেলো বাংলা। কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, কাজের পরিধি বাড়াতে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলার মোট স্বনির্ভর গোষ্ঠী সংখ্যার ধারে কাছেও নেই ওই সব রাজ্য। পাশাপাশি ঋণ নিয়ে পরিশোধ করার ক্ষেত্রেও বাংলা স্বনির্ভর গোষ্ঠ গুলি অনেক বেশি প্রতিশ্রুতি পালন করেছে বলে ওই রিপোর্টে উঠে এসেছে।

 

গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের ‘জাতীয় গ্রামীণ জীবন জীবিকা মিশন’-এর তথ্য বলছে, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে এখনও পর্যন্ত বাংলায় ৬৮ হাজার ৭৬৪টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী ঋণ পেয়েছে। অথচ এর ধারে কাছে নেই উত্তর প্রদেশ ও গুজরাত। উত্তরপ্রদেশে এবং গুজরাতে এই সময়ে যথাক্রমে মাত্র ১ হাজার ৬১৯ ও ১ হাজার ৫৭৯টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী ঋণ পেয়েছে।

ঋণ পেতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে ব্যাঙ্কের লিঙ্ক করতে হয়। এই কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হয় রাজ্য সরকারগুলিকে। স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড, মৎস্যজীবী ক্রেডিট কার্ড বা আর্টিসান ক্রেডিট কার্ডের পেতে সাহায্য করতে ব্যাঙ্কগুলির সঙ্গে সমন্বয় রাখতে হয় রাজ্যকে। ঠিক একই ভাবে স্বনির্ভর গোষ্ঠীকেও ঋণ পেতে সাহায্য করতে বা ‘ব্যাঙ্ক লিঙ্কিং’ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ব্যাঙ্কের আধিকারিকদের সঙ্গে দৌত্য করতে হয় নবান্নকেই। যার ফলে আর্থিক বছরের প্রথম ছ’মাসেই এই সুফল পাওয়া গিয়েছে রাজ্যে। তবে এই সংখ্যা দুর্গাপুজোর পরে আরও অনেক বাড়বে বলেই জানিয়েছেন রাজ্যের এক আধিকারিক।

প্রসঙ্গত, গত অর্থবর্ষে রাজ্যের স্বনির্ভর গোষ্ঠীদের ১৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার টার্গেট নেওয়া হয়েছিল। সেই লক্ষ্যে পৌঁছনো না গেলেও, প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ পেয়েছিল রাজ্যের স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি। স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির ক্ষেত্রে জাতীয় স্তরে এনপিএর হার দুই শতাংশ। এই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কিছু মাসের জন্য সুদের টাকা না দিলে তাকে এনপিএ বলে ধরা হয়। সেই নিরিখে চলতি অর্থবর্ষে বাংলায় এনপিএর হার হল মাত্র ১.৯৩ শতাংশ। আর উত্তর প্রদেশে ও গুজরাতে এনপিএ হল যথাক্রমে ১৭.৭৬ ও ৬.০৬ শতাংশ। কেন্দ্রের গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের ‘জাতীয় গ্রামীণ জীবন জীবিকা মিশন’-এর তথ্য বলছে, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে এখনও পর্যন্ত বাংলায় ৬৮ হাজার ৭৬৪টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ পেয়েছে। সামগ্রিক অর্থবর্ষ শেষ হলে হয়তো দেখা যাবে তা ১৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। গত অর্থবর্ষে স্বনির্ভর গোষ্ঠীদের ১৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার টার্গেট নেওয়া হয়েছিল। যদিও সেই লক্ষ্যমাত্রা ছোঁয়া যায়নি। বছর শেষে তা ১৩ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়ায়। মূলত কোভিডের কারণেই সেই ধাক্কা এসেছিল। এবার যেহেতু পরিস্থিতি ভাল আছে তাই মনে করা হচ্ছে এবারে ঋণ প্রদানের পরিমাণ ১৫ হাজার কোটি টাকার আশেপাশে থাকবে।

ads

Mailing List