বাংলাদেশে  রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট, মিটতে সময় লাগবে  এক মাস

বাংলাদেশে  রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট, মিটতে সময় লাগবে  এক মাস
14 Jan 2022, 06:15 PM

বাংলাদেশে  রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট, মিটতে সময় লাগবে  এক মাস

 

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন :  ‌বাংলাদেশে দেখা দিয়েছে রান্নার গ্যাসের সংকট। এক মাসের বেশি সময় ধরেই এই সমস্যা চলছে। অন্য জায়গার মতই একই সমস্যা ঢাকার মোহাম্মদপুর, মিরপুর, পাইকপাড়া, রামপুরা, হাতিরপুল, যাত্রাবাড়ী, ধানমন্ডি, কল্যাণপুরসহ শহরের অধিকাংশ এলাকাতে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্যাসের চাপ কম থাকার অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। এই নিয়ে তাঁরা সেই দেশের গ্যাসের বিতরণ সংস্থা  তিতাসের অভিযোগ কেন্দ্রেও  অনেক অভিযোগ জানিয়েছেন ।  শুধু ঘরেই নয় একই সমস্যা শিল্পকারখানাতেও। সেখানেও অবস্থাও প্রায় একই রকম। যেটুকু পাওয়া যাচ্ছে , তা দিয়ে কারখানা চালু করা দায়। পরিবহনে গ্যাস দিতেও হিমশিম অবস্থা। এর মধ্যেই গ্যাসের সরবরাহ আরও কমেছে। আগামী এক মাসে কাটবে না গ্যাস-সংকট বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন-পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, ডিসেম্বরের শুরু থেকেই তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি কমেছে। সরবরাহ নেমে এসেছে অর্ধেকে। গ্যাসের উৎপাদনে চাপ কমে আসায় সম্প্রতি বিবিয়ানায় সংস্কারকাজ শুরু করেছে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি শেভরন। এ কাজ আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে শেষ হতে পারে। এটি বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় উৎপাদন ক্ষেত্র।

গ্রাহকদের সতর্ক করে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গ্যাস বিতরণকারী কোম্পানি তিতাস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, কারিগরি কারণে তিতাসের আওতাধীন ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ১২ থেকে ২১ জানুয়ারি গ্যাসের স্বল্প চাপ বিরাজ করবে। তবে তিতাসের দুজন দায়িত্বশীল আধিকারিক  বলছেন, এটা তিতাসের কারিগরি কোনো বিষয় নয়, গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে।

পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, বাংলাদেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুটের মতো। কয়েক মাস আগেও ৩২০ থেকে ৩৩০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা গিয়েছে। কিন্তু  এখন সরবরাহ করা হচ্ছে ২৭০ থেকে ২৮০ কোটি ঘনফুট। এতে বিদ্যুৎ, সার কারখানা, সিএনজি স্টেশন, আবাসিক, শিল্পকারখানা—সব ক্ষেত্রেই গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে সিএনজি স্টেশন দিনে চার ঘণ্টা বন্ধ রাখা হচ্ছে। এক খাত থেকে কমিয়ে আরেক খাতে সরবরাহ বাড়িয়েও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না।

 

জ্বালানি বিভাগ সূত্র বলছে, মহেশখালীর গভীর সমুদ্রে নোঙর করা ভাসমান দুটি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) মাধ্যমে দিনে ১০০ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহের সক্ষমতা আছে। গত ১৮ নভেম্বর বিকেলে সামিটের টার্মিনালের মুরিং লাইন ছিঁড়ে যায়।  এরপর থেকে সরবরাহ বন্ধ। বর্তমানে এটি মেরামতের কাজ চলছে। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এটি চালু করা হবে বলে লিখিতভাবে জানিয়েছিল সামিট। তবে আরও এক সপ্তাহ বেশি সময় লাগতে পারে বলে  ধারণা করা হচ্ছে। তারপরেই এই সমস্যা মিটবে বলে জানানো হয়েছে। 

 

 

 

 

 

ads

Mailing List