অসুস্থ জংলি হাতির আর্তিতে চোখের জল সবার, জলপাইগুড়িতে কিভাবে চিকিৎসা চলছে তার? জানলে অবাক হবেন

অসুস্থ জংলি হাতির আর্তিতে চোখের জল সবার, জলপাইগুড়িতে কিভাবে চিকিৎসা চলছে তার? জানলে অবাক হবেন
04 Dec 2022, 03:50 PM

অসুস্থ জংলি হাতির আর্তিতে চোখের জল সবার, জলপাইগুড়িতে কিভাবে চিকিৎসা চলছে তার? জানলে অবাক হবেন

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন: কালাপানি নদীর ধারে ঠাঁই দাঁড়িয়ে রয়েছে হাতিটি। না, কোনও আক্রমণের ভঙ্গি নেই। বরং চোখে মুখে রয়েছে এক আর্তি।

দীর্ঘদেহী হাতিটি কেন এভাবে একাকী দাঁড়িয়ে রয়েছে? তা দেখে সন্দেহ হয় এলাকার মানুষ থেকে বনকর্মীদের। তারপর দূর থেকে বোঝার চেষ্টা করেন সকলে। তা থেকে বোঝা যায়, হাতিটির ডান পায়ে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। ফুলে গিয়েছে পা। ফলে চলাফেরায় যে কষ্ট হচ্ছে তা পরিষ্কার।

এই ঘটনায় প্রশ্ন দেখা দেয় বনকর্মীদের মধ্যেই। জংলি হাতিকে কিভাবে চিকিৎসা করা যাবে? ওই হাতিটি কী চিকিৎসা নেবে নাকি চিকিৎসা করাতে গেলে তেড়ে আসবে? এই প্রশ্নের মাঝেই বুধবার সেখানে হাজির হন গরুমারা বন্যপ্রাণ শাখার চিকিৎসক ডাঃ শ্বেতা মন্ডল। তাঁর প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই চিকিৎসা শুরু হয় অসুস্থ হাতিটির। অদ্ভূতভাবে দেখা গেল, হাতিটি চিকিৎসা নিতে আগ্রহী। তাই কাউকে দেখে তেড়ে আসেনি। বরং নিজের আচরণে বুঝিয়ে দিয়েছে, সে ওষুধ খেতেই চায়। যা দেখে অবাক বনকর্মী থেকে সাধারণ মানুষ। ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ি জেলার ডায়না রেঞ্জে। রেঞ্জার অশেষ পাল জানান, আমাদের দিক থেকে কোনও ত্রুটি রাখছি ‌না। সব ধরমের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। হাতির গতি প্রকৃতি দেখে এখনও পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, হাতিটিও চিকিৎসা পরিষেবা পেতে মরিয়া। নিশ্চয় যন্ত্রণার তাগিদে ও বুঝতে পেরেছে চিকিৎসা ছাড়া সেরে ওঠা কঠিন। বন দফতরের আশা, এই প্রক্রিয়া চলতে থাকলে, দ্রুত হাতিটি সেরে উঠবে।

অন্য জংলি হাতিরা এই সময় কী করছে? তারা চাইছে ওই হাতিটি চিকিৎসা পরিষেবা নিক এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুক। সে জন্য অন্য হাতিদের চেষ্টাও লক্ষ্য করা গিয়েছে। বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতের অন্ধকারে যাতে অসুস্থ হাতিটিকে কেউ আক্রমণ করতে না পারে সে জন্য দুই দাঁতাল ঠিক সন্ধের সময় হাজির হচ্ছে তার পাশে। তাকে দুই দাঁতাল দু’দিক দিয়ে ঠেলে ঢুকিয়ে দিচ্ছে জঙ্গলে। আবার সকাল হলেই জঙ্গল থেকে বের করে হাজির করে দিচ্ছে ডায়না রেঞ্জের অন্তর্গত খেরকাটার জঙ্গলের ধার দিয়ে বয়ে চলা কালাপানি নদীর ধারে। যাতে বনকর্মীরা চিকিৎসা পরিষেবা দিতে পারেন। এমনকী শুক্রবার ওষুধ দেওয়ার সময়ও সেই সঙ্গী হাতি দু’টিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

প্রশ্ন উঠতে পারে, কিভাবে দিচ্ছে সেই চিকিৎসা পরিষেবা? এক্ষেত্রে ওষুধ দেওয়ারও রয়েছে অন্য পদ্ধতি। প্রথমে ওষুধ দেওয়া হয় কলা গাছের মাধ্যমে। কলাগাছ এমনিতেই হাতির প্রিয় খাদ্য। কলাগছের ছাল তুলে সেই খোলায় ভরে দেওয়া হয় ওষুধ। কিন্তু সেক্ষেত্রে একটি দুশ্চিন্তাও কাজ করে। সেটি খাবার সময় কোনও ভাবে ওষুধটি আবার পড়ে যাবে না তো! তাই পরবর্তীকালে পাল্টানো হয় পদ্ধতি। দেওয়া হয় কলা। কলার ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে ওষুধ। হাতিটি যাতে কলা খেলেও ওষুধটি পড়বে না। কলার ভেতরে থাকা ওষুধ ঢুকে যাবে হাতির পেটে। এক্ষেত্রে গ্রামবাসীরাও সাহায্য করছে হাতিটিকে।

 

Mailing List