ভোটের আগে পুরনো মেজাজে সুশান্ত ঘোষ, দিলেন হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুঁশিয়ারি

ভোটের আগে পুরনো মেজাজে সুশান্ত ঘোষ, দিলেন হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুঁশিয়ারি
04 Mar 2021, 06:49 PM

ভোটের আগে পুরনো মেজাজে সুশান্ত ঘোষ, দিলেন হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুঁশিয়ারি

 

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন: এক সময় সুশান্ত ঘোষের দাপট দেখেছে গড়বেতা, চন্দ্রকোনা রোড সহ গোটা পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মানুষ। তাঁর দাপট দেখেছে রাজ্যের অন্য এলাকার লোকজনও।

গড়বেতা বিধানসভা এলাকার বেনাপাপড়া গ্রামে কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনায় দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন এক সময়ের গড়বেতার বিধায়ক তথা এই দাপুটে সিপিএম নেতা। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরেও দীর্ঘদিন তিনি ঢুকতে পারেন নি এই জেলাতে। এখন আদালতের নির্দেশে এলাকায় আসার ক্ষেত্রে কোন রকম বাধা নেই তাঁর। এখন তিনি আছেন এলাকাতেই।

এই বার বিধানসভা নির্বাচনে তিনি সিপিএমের হয়ে আবার লড়াই করতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। শোনা যাচ্ছে যে গড়বেতার প্রাক্তন বিধায়ক সুশান্ত ঘোষ এবার লড়াই করতে পারেন এই জেলার শালবনি কেন্দ্র থেকে। তিনি নির্বাচনে দাঁড়াবেন কী না তা এখন পর্যন্ত ঘোষনা করা হয় নি। তবে দলের হয়ে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ভোটেরজন্য প্রচার শুরু করে দিয়েছেন সুশান্ত ঘোষ।

আর  ভোটের প্রচারে বেরিয়ে পুরনো মেজাজেই দেখা গেল সুশান্ত ঘোষকে। সিপিএম কর্মীদের গায়ে কেউ হাত তুললে মেরে তার হাত-পা ভেঙে দেবেন বলে হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি।

সুশান্ত ঘোষ গিয়েছিলেন, শালবনির ভালুকশোল গ্রামে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, “মাওবাদীরাও জানে, তৃণমূলের বাপ-ঠাকুরদাও জানে, বিজেপির বাপ-ঠাকুরদাও জানে সুশান্ত ঘোষ কে। আমি যা বলি তাই করি। দীর্ঘ দিন এলাকায় ছিলাম না বলে যা খুশি তাই করেছে। এখন যদি সাহস থাকে তাহলে গায়ে হাত দিয়ে দেখ। যার ক্ষমতা হবে হাত দেওয়ার,  তাকে বাড়ি থেকে সোজা তুলে এনে হাত পা ভেঙে দিয়ে আমিই চিকিৎসা করাব।”

ভালুকশোল গ্রামে গ্রামবাসীদের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় এই কথা বলতে শোনা যায় তাঁকে। এই রকম কথা বলার সময় একজন তাঁকে ‘বাবু’ বললে সুশান্ত ঘোষ বলেন "বাবু নই, আপনার ভাই"।

সুশান্ত ঘোষের এই মন্তব্যের নিন্দা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির নেতারা। তাঁরা বলেন, “এর থেকে বেশি কিছু আশা করা যায় না তাঁর কাছ থেকে।”

তবে এই ব্যাপারে অবশ্য সিপিএম-এর পক্ষ থেকে সাফাইও দেওয়া হয়েছে। তারা বলেছে ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনেও বামকর্মীদের সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। সেই সময় পাশে দাঁড়ানোর কেউ ছিলেন না। এবার সুশান্ত ঘোষ এলাকায় ঘুরে দলের কর্মীদের মনে সাহস জোগানোর চেষ্টা করছেন।

 

নিজের বক্তব্যের সমর্থনে পরে সুশান্ত ঘোষ বলেন, “গ্রামে গঞ্জে গত নির্বাচনে দলের হয়ে রাস্তায় বেরনোয় আমাদের কর্মীদের আক্রান্ত হতে হয়েছে। তাদের মারধর করা হয়েছে,  জরিমানা দিতে হয়েছে। রাজ্যে গণতন্ত্র বলে কিছু নেই। দলীয় কর্মীদের পাশে থাকতে তাই উচিত কথাই বলেছি। এই রকমের কথা না বললে তাদের মনে সাহস আসবে না। বলেছি, এর পরে যদি কেউ এই রকম করে তাহলে তার পরিণাম ভুগতে হবে। এখনও আমাদের দলের নেতা কর্মীদের হুমকি দিয়ে ফোন করা হয়েছে। নির্বাচন ঘোষণা হয়ে গিয়েছে তারপরেও এমন হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানাচ্ছি। তবে কেউ যদি বলে গায়ের জোর দেখাবে তাহলে তাকে সেই ভাবেই জবাব দিতে হবে। যে পেশিশক্তি চেনে তাকে পেশিশক্তি দিয়েই জবাব দেব।”

১৯৮৭ সাল থেকে পর পর ছ'বার গড়বেতা এলাকার থেকে নির্বাচিত হয়েছেন সুশান্ত ঘোষ। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর আমলে ছিলেন পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের মন্ত্রী । ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে। সেই বছর বিধানসভা নির্বাচনে এই জেলা সহ রাজ্যের সব জায়গায় বামফ্রন্টের ভরাডুবি হলেও গড়বেতা থেকে জিতেছিলেন সুশান্ত ঘোষ। তারপর জেলে যেতে হয় তাঁকে । ২০১৬ সালের নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেন নি তিনি। তবে এই বার বিধানসভা নির্বাচনে শালবনি কেন্দ্র থেকে লড়াই করবেন বলে শোনা যাচ্ছে।

সিপিএম সূত্রে জানা গিয়েছে যে এই বার বেশ কিছু আসনে তরুণ প্রজন্মকে প্রার্থী করা হবে। গড়বেতা কেন্দ্রে প্রার্থী হতে পারেন তপন ঘোষ এবং নারায়ণগড়ের প্রার্থী হতে পারেন তাপস সিনহা।

Mailing List