আসন বদল করে আবার বিধানসভা নির্বাচনে লড়াইয়ে সুশান্ত ঘোষ

আসন বদল করে আবার বিধানসভা নির্বাচনে লড়াইয়ে সুশান্ত ঘোষ
05 Mar 2021, 09:01 PM

আসন বদল করে আবার বিধানসভা নির্বাচনে লড়াইয়ে সুশান্ত ঘোষ

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদনঃ পাঁচ বছর পরে আবার বিধানসভা নির্বাচনের লড়াইয়ে সিপিএমের দাপুটে নেতা সুশান্ত ঘোষ। আগে তিনি বিধানসভা নির্বাচনে জিতেছেন পাঁচবার। পাঁচবারই লড়াই করেছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা এলাকা থেকে। এমনকি যে বছর তৃণমূল এই রাজ্যের ক্ষমতায় আসে, সেই ২০১১ সালের নির্বাচনেও তিনি জিতেছিলেন এই কেন্দ্র থেকেই। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করেনি নি তিনি। এইবারের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি আবার লড়াইয়ের ময়দানে। তবে আসন বদল করে। এই বার তিনি গড়বেতা কেন্দ্রর বদলে লড়াই করবেন এই জেলারই শালবনি কেন্দ্র থেকে।  তিনি যে এবার লড়াই করবেন শালবনি কেন্দ্র থেকে এবং গড়বেতা কেন্দ্র থেকে লড়াই করবেন সিপিএমের আরেক বিতর্কিত নেতা তপন ঘোষ তার ঘোষণা করেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু।

শুক্রবার  দলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হলেও অবশ্য বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই শালবনি এলাকার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দলের কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর কাজ শুরু করে দিয়েছেন। আগের দিনই ভালুকাশোল এলাকাতে গিয়ে তিনি দলের কর্মীদের সাথে কথা বলার সময়ে হুমকি দিয়েছেন যে এবার তৃণমূল কংগ্রেসের কেউ দলের কর্মীদের গায়ে হাত তুললে তিনি তার হাত পা ভেঙে দিয়ে নিজেই হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন। তাঁর এই কথা, সেই ভিডিও দৃশ্য এখন ভাইরাল। প্রার্থী ঘোষণা করার আগেই তিনি এলাকাতে গিয়ে যেভাবে কর্মীদের মনোবল বাড়াতে শুরু করে দেন তাতে অনেকেই মনে করছেন এবার লড়াই হবে, খেলা হবে শালবনি কেন্দ্রে।  

এক সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের লোকেরা অভিযোগ করতেন যে সুশান্ত ঘোষ আসলে হার্মাদদের নেতা, বাহুবলী। তবে সেই সময় সুশান্ত ঘোষের এতটাই দাপট ছিল যে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণ করা যায়নি।  

১৯৮৭, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৬ সালে, এমনকি ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও জিতেছিলেন তিনি। সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা মৌখিক ভাবে অনেক অভিযোগ করলেও ২০১১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের সময় দেওয়া হলফনামাতেও তিনি জানিয়েছিলেন যে তাঁর নামে  কোনও অভিযোগ নেই। তবে, ২০১১ সালে এই জেলার বেনাচাপড়া থেকে পাঁচটি কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনাতে নাম জড়ায় গড়বেতার বিধায়কের। এই অভিযোগে আগস্ট মাসে জেলে যেতে হয় তাঁকে। প্রায় ৬ মাস জেলে থাকার পরে জামিনে ছাড়া পেলেও তিনি আদালতের নির্দেশ ঢুকতে পারেন নি এই জেলাতে। এখন অবশ্য সেই বাধা আর নেই। মাঝে দলের বিরুদ্ধে কথা বলার অভিযোগে দল থেকে ‘সাসপেন্ড’ করাও হয় সুশান্ত ঘোষকে। এখন তিনি আবার দলেই এবং পুরাতন মেজাজেই।

সুশান্ত ঘোষের মতই নানা অভিযোগ ছিল তপন ঘোষের বিরুদ্ধেও। ছোট আঙ্গারিয়া হত্যা মামলাতে জেলও হয়েছিল তপন ঘোষের। তবে পরে প্রমানের অভাবে বেকসুর ছাড়া পান তিনি।

সুশান্ত ঘোষের জায়গাতে এবার লড়াই করবেন সেই তপন ঘোষ। আর দল সুশান্ত ঘোষকে দাঁড় করাচ্ছে শালবনি এলাকাতে। তাঁর বাড়ি চন্দ্রকোনা রোড এখন এই বিধানসভা এলাকাতেই। তাই তাঁকে বহিরাগত বলা যাবে না। তার ওপর এলাকার তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক শ্রীকান্ত মাহাতর বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ আছে। আছে শাসক দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে গোষ্ঠী বিবাদ। এলাকাতে বিজেপি নিজেদের প্রভাব বাড়িয়েছে। তাই এই এলাকাতে এই বার দাপুটে সিপিএম নেতাকে প্রার্থী করে  তাদের পুরানো এলাকা আবার দখল করতে চাইছে সিপিএম।

অন্যদিকে, এত দিন এই জেলার নারায়ণগড় এলাকা থেকেই লড়াই করেছেন সূর্যকান্ত মিশ্র। দলের রাজ্য সম্পাদক হিসাবে গত নির্বাচনেও এই কেন্দ্র থেকেই লড়াই করেন তিনি। তবে হেরে যান। এই বার নির্বাচনের লড়াইয়ে নেই সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক। এই আসনে সিপিএম প্রার্থী হয়ে লড়াই করবেন দলের রাজ্য কমিটির সদস্য তথা দলের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই-এর প্রাক্তন সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তাপস সিনহা।

 

 

 

Mailing List