'সুপ্রিমো' প্রমাণ করিলেন 'সুপ্রিমো' তিনিই

'সুপ্রিমো' প্রমাণ করিলেন 'সুপ্রিমো' তিনিই
28 Jan 2022, 09:58 PM

'সুপ্রিমো' প্রমাণ করিলেন 'সুপ্রিমো' তিনিই

 

বিপ্লব বসু

 

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম তৃণমূল দলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি এই দ্বন্দ্বের ঘঠনা রাজ্য-রাজনীতিতে তুমূল আলোড়ন ফেলেছিল।আর এই ঘটনাতেই টনক নড়ে রায় তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের। এমতাবস্থায় দলের সুপ্রিমোকে ময়দানে নামতেই হয় নরম গরম মেজাজে। সাংসদদের যে কোন সমস্যা বা মান-অভিমান ভাঙাতে সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানাতে হবে। তিনি সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানাবেন। কোনও মাধ্যম থেকে নয়। এর মধ্যে দিয়েই সংগঠনের রাশ নিজের হাতে আরো আঁটোসাঁটো করলেন তিনি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে বলেছেন, কেউ যদি ৩/৪ বছর কাজ করে নিজেকে বড় কিছু ভাবেন সেটা ভুল। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, বহু কষ্টের ফলে তিনি দল তৈরি করেছেন। অনেকে অবশ্যই তাঁর সঙ্গে ছিলেন। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে তিনি নিজেকে সংগঠনের শেষ কথা বলে ভেবে নেবেন। তাঁর প্রতি কথায় (কার্যত হুঁসিয়ারি), প্রতিটি ছত্রে কাউকে যেন কড়া বার্তা পাঠাচ্ছেন বলেই রাজনৈতিক মহলের মত।

 

২০১১ থেকে ২০২২। ক্ষমতার অলিন্দে থাকার দশ বছর পূর্ণ হয়ে এগারোয় পড়েছে। তারমধ্যেই দলের অন্দরে কে বা কারা ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করতে নেমেছেন, এ নিয়ে বড় জিজ্ঞাসার চিহ্ন যে তৈরি হয়ে গেল তার নিয়ে কোন সংশয় থাকল কী? নাম করে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়ার কাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেও করেছেন। দলের সু্প্রিমো তিনি সেদিনও ছিলেন, আজও আছেন। কিন্তু, মাঝের কিছুটা সময় কী তাঁর হাত থেকে দলের চালিকা শক্তির গতিপথ বদলাচ্ছিল? এটা বুঝতে তাঁর মতো পোড় খাওয়া রাজনীতিকের বুঝতে দেরি হয়নি।

এখানে একটা বিষয় উল্লেখ করতেই হয়, তা হলো বিধানসভা ভোটের আগে তখন বিজেপি পারে হাওয়া বইছিল, তখন স্হির আত্মবিশ্বাসে অবিচল ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি গেরুয়া শিবিরকে বিন্দুমাত্র পাত্তা না দিয়ে বারবার তৃণমূলের বড় মাপের জয়ের কথা বলে নিচুতলার কর্মীদের কাঁপুনি মুক্ত করেছেন, আত্মবিশ্বাসের রসদ যুগিয়েছেন। সেই কথামতোই তৃণমূল বিজেপির ঢাউস বেলুনটাকে চুপসে দিয়েছিল। ফলে এরপর সাংগঠনিক রদবদলে অভিষেককে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের আসনে বসানো হয়। দলের মধ্যে এ নিয়ে কানাঘুষো থাকলেও প্রকাশ পায়নি। দলের অনেক প্রতিষ্ঠাতা বর্ষীয়ান নেতার একে হজম করে নেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। কারণ দায়িত্বে এসেই অভিষেক পুরনোদের সরিয়ে দিয়ে জেলায় জেলায় সভাপতি বদল এবং নতুন মুখের নেতাদের নিয়ে আসেন। ফলে পুরনোদের মধ্যে নিঃশব্দ ক্ষোভ-বিক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছিল দলের চালিকাশক্তিতে কোথাও যেন অদৃশ্য হাতের উদয় হচ্ছিল। কার সেই হাত? লাখ টাকার প্রশ্ন। তবে সে হাত (কাছে-দূরে) যারই হোক, তাকে সরাসরি কেটে দিলেন। সঙ্গে বার্তা গেল তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দলের সুপ্রিমো হিসেবে কোনও কাছে দূরের হাত নয়। তাঁর হাতটাই শেষ কথা বলবে।

ads

Mailing List