ছবি ভালোবেসে আমেরিকাতেও বছরের সেরা ক্রিয়েটারের সম্মান বঙ্গনারী সুপর্ণার

ছবি ভালোবেসে আমেরিকাতেও বছরের সেরা ক্রিয়েটারের সম্মান বঙ্গনারী সুপর্ণার
14 Jan 2022, 10:45 AM

ছবি ভালোবেসে আমেরিকাতেও বছরের সেরা ক্রিয়েটারের সম্মান বঙ্গনারী সুপর্ণার

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন: ছবি নীরবে কত কথা বলে? এর উত্তরও কোনও নির্দিষ্ট শব্দের মধ্যে বাঁধা যায় না। কারণ, ছবির গভীরতার তল পাওয়া যে সহজ নয়। অনেক ক্ষেত্রে তা অসম্ভবও বটে।

 

আর সেই ছবির প্রেমে পড়েই সারা বিশ্বের মানুষের কাছে প্রিয় হয়ে উঠছেন এই বঙ্গেরই এক নারী। যাঁর ছবি বিশেষ মর্যাদা পেয়েছে আমেরিকা থেকে রাশিয়া সর্বত্রই। এমনকী স্থান পেয়েছে নাসার পেজেও।

 

তিনি হলেন সুপর্ণা ঘোষ। দুর্গাপুর শহরে জন্ম। বেড়ে ওঠাও সেখানেই। তারপর কলকাতায়। মাঝে কিছুদিনের জন্য কানাডাতেও ছিলেন। বিয়ের পর। কানাডাতে থাকার সময়ই ফোটোগ্রাফিতে আকর্ষণ বাড়ে সব থেকে বেশি। এবং সেখান থেকেই নেশাটা মোড় নেয় পেশাতেও। তবে ইস্পাতনগরী দুর্গাপুরকে ভালোবেসেই ছবির কিন্তু টানটা তৈরি হয়েছিল। আর এখন সেই ছবি আমেরিকার ভিউবাগ ফোটোগ্রাফী কমিউনিটিতে ঢুকে গেল। শুধু ঢুকে গেল নয়, ২০২১ সালের সেরা ফোটোর মর্যাদাও পেল।

কোন ছবি সেটি? গাছের পাতায় ঝুলন্ত সূর্য। সূর্যকে গাছের পাতায় ঝোলানো কিন্তু সহজ কম্ম না। প্রথম তো ভাবনা। তারপর সূর্য শুধুই পালিয়ে যায়। ঠিকমতো পজিশন পেতে ৫০ মিনিট কসরৎ করতে হয়েছে। তবেই গাছের পাতায় ঝুলতে রাজি হন সূয্যি মামা। সুপর্ণা বলেন, ছবিটির নাম দিয়েছিলাম hanging sun।  

এই ছবির জন্যই বছর সেরার পুরষ্কার

তাঁর তোলা বেশিরভাগ ছবিই এই বঙ্গেরই প্রকৃতি, পাখি বা অন্যান্য। অন্যত্রও ছবি তুলেছেন। তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সুপর্ণার কথায়, ‘‘ছবি তোলা আমার নেশা এবং পেশাও। আরও সঠিক ভাবে বললে লেখা ও ফোটোগ্রাফি দু’টোই আমার পেশাও। আসলে দীর্ঘদিন এই বাংলার বিখ্যাত ও জনপ্রিয় সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিনের সাথে রেগুলার রাইটার হিসেবে যুক্ত ছিলাম। বর্তমানে দুটিও ই- ম্যাগাজিনের সাথে যুক্ত।’’

     

তিনি জানান, ছবির জন্য ইন্টারন্যাশেনাল লাইব্রেরী অফ পোয়েট্রি (আমেরিকা) থেকে পর পর দুবার বেষ্ট এডিটর চয়েস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাচিভমেন্ট অফ পোয়েট্রির জন্য আর ইন্টারন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ ফটোগ্রাফি (আমেরিকা) থেকে গোল্ড ব্রোচ পেয়েছেন। এছাড়াও রাশিয়া, আমেরিকা আর লন্ডন থেকেও ফোটোগ্রাফির জন্য অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।

আর বললেন, ‘‘রানী এলিজাবেথের থেকে পেয়েছি তাঁর ডায়মন্ড জুবিলী সেরিমনি কার্ড। যা এই বাংলায় আমি একাই পেয়েছিলাম।’’

       

আর এই শিল্প মননের জন্য প্রখ্যাত ব্যক্তিদেরও স্নেহ থেকে বঞ্চিত হননি। কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়, কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ও খুব স্নেহ করতেন, জানালেন সুপর্ণা।

না, শুধু লেখালেখি বা ফোটোগ্রাফি নয়। ওই যে বলে না, যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে। সুপর্ণার ভালো লাগে ঘুরতে, ছবি আঁকতে, নানা রকম জিনিস তৈরী করতে। বাঙালি মেয়ে তো। তাই রান্না করতেও কিন্তু ভালোলাগে। সে সবেও হয়তো শিল্পেরই ছোঁয়া থাকে।

ads

Mailing List