মহান কর্তব্যে ব্রতী হয়েই শিক্ষারত্ন পুরষ্কারের জন্য মনোনীত বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সুমহান বন্দ্যোপাধ্যায়  

মহান কর্তব্যে ব্রতী হয়েই শিক্ষারত্ন পুরষ্কারের জন্য মনোনীত বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সুমহান বন্দ্যোপাধ্যায়   
04 Sep 2022, 01:15 PM

মহান কর্তব্যে ব্রতী হয়েই শিক্ষারত্ন পুরষ্কারের জন্য মনোনীত বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সুমহান বন্দ্যোপাধ্যায়

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন: স্কুল জীবন থেকেই কৃতী ছাত্র। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যানথ্রোপোলজি নিয়ে এমএসসি তে প্রথম বিভাগে প্রথম হয়ে গোল্ড মেডালিস্ট।

২০০২ সালে রাজ্য সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় টপার। বছর দেড়েক ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে চাকরি। কিন্তু প্রশাসনিক কর্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেয়ে শিক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতেই মন চেয়েছিল। তাই ভারত সরকারের গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ফেলো, তারপর কলেজ অধ্যাপনা, সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যাপক। পাঁচটি গ্রন্থ-সহ শতাধিক প্রবন্ধ- নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে দেশে-বিদেশে। বাংলা ভাষায় প্রতিষ্ঠিত প্রাবন্ধিক।

তিনি হলেন ড. সুমহান বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার শিক্ষারত্ন পুরষ্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। এমন একজন শিক্ষককে শিক্ষারত্ন পুরষ্কারের জন্য মনোনীত করায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি ছাত্রছাত্রীরাও। খুশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্তা থেকে শিক্ষককূলও।

সহজে কিভাবে মানুষের কাছে জটিল তত্ত্ব কথাকে পৌঁছে দেওয়া যায়, কিভাবে নৃতত্ত্ব ও সমাজ বিজ্ঞানের জ্ঞানকে সাধারণ মানুষের উপকারে কাজে লাগানো যায়, কিভাবে প্রান্তিক মানুষকে আরো বেশি করে উচ্চতর পঠন পাঠনে যুক্ত করা যায় সেই প্রয়াসে সদা সচেষ্ট। তাই ঘুরে বেড়ান গ্রামে-গঞ্জে, দেশে-বিদেশে। সাঁওতাল, মুন্ডা, লোধা, বিরহোড়, ভূমিজ, বাইগা, কোড়া আদিবাসী মানুষের কাছে পরম ভরসা ও ভালোবাসার মানুষ তিনি। তাঁর অফিস কিংবা মিউজিয়ামে নিত্য লেগে থাকে তাঁদের আনাগোনা। প্রান্তিক লোকশিল্পীদের নিয়ে মেলা ও প্রদর্শনী করা থেকে সাহিত্য সম্মেলন কিংবা লিটিল ম্যাগাজিন মেলা; সবেতেই সতত উৎসাহী সুমহানবাবু। এদিক দিয়ে তাঁর নামটিও স্বার্থক বলা যেতে পারে।

দেশ ও বিদেশের একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণায় যুক্ত তিনি। চান আরও কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিউজিয়ামকে "জীবন্ত" করে তোলা যায়। আরো কতটা গভীরভাবে জীবন ও সংস্কৃতিকে অনুধাবন করা যায়।

তাই মাঝে মধ্যে তাকে দেখতে পাওয়া যায় জঙ্গলে ঘেরা গ্রামগুলিতে, কৃষক বা গ্রামীন শিল্পীর দাওয়ায় বসে গল্প করতে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের বিভাগে পড়ানোর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কাজের দায়িত্বও পালন করেন।

সেগুলি হল-

১। বিশ্ববিদ্যালয় সিভিল সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের চেয়ারম্যান।

২। বিশ্ববিদ্যালয়ের আদিবাসী চর্চা কেন্দ্র এবং আদিবাসী মিউজিয়ামের ডিরেক্টর। এই মিউজিয়াম ও আদিবাসী চর্চা কেন্দ্রটি বিশ্ববিদ্যালয় তথা এতদ অঞ্চলের গর্ব।

৩। “ম্যান ইন ইন্ডিয়া” এর বর্তমান সম্পাদক। দিল্লি থেকে প্রকাশিত ১০২ বছরের প্রাচীন (ভারতীয় উপ মহাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন) জার্নাল।

কাজের মধ্যে থাকতেই তিনি পছন্দ করেন। তাই একাধিক দায়িত্ব সম্বন্ধে তিনি অকপটে বলতে পারেন, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক শিবাজী প্রতিম বসু কাজের সুযোগ দেওয়ায় তাঁকে ধন্যবাদ। কাজের মধ্যেই তিনি থাকতে চান।

Mailing List