নতুন প্রাণী আবিষ্কারের সাফল্য মেদিনীপুরের বিজ্ঞানীর, স্বাধীনতার ৭৫ বছরে প্রথম কোনও প্রাণীর নাম হল আচার্য জগদীশচন্দ্র বোসের নামে

নতুন প্রাণী আবিষ্কারের সাফল্য মেদিনীপুরের বিজ্ঞানীর, স্বাধীনতার ৭৫ বছরে প্রথম কোনও প্রাণীর নাম হল আচার্য জগদীশচন্দ্র বোসের নামে
13 Aug 2022, 02:00 PM

নতুন প্রাণী আবিষ্কারের সাফল্য মেদিনীপুরের বিজ্ঞানীর, স্বাধীনতার ৭৫ বছরে প্রথম কোনও প্রাণীর নাম হল আচার্য জগদীশচন্দ্র বোসের নামে

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন: আচার্য জগদীশচন্দ্র বোসের কথা সকলেরই জানা। বিজ্ঞানে তাঁর অবদানের কথাও কারও অজানা নয়। অথচ, সব থেকে বিস্ময়ের হল, এমন একজন বিশ্ববন্দিত বিজ্ঞানীর নামে একটি প্রাণীর নামও রাখেননি পরবর্তীকালের বিজ্ঞানীরা। বিশ্বের অন্যান্য দেশের বিজ্ঞানীদের কথা না হয় ছেড়েই দিলাম। ভারতীয় বিজ্ঞানীদের মধ্যেও তা লক্ষ্য করা যায়নি।

স্বাধীনতার ৭৫ বছরে দাঁড়িয়ে অবশ্য সে খেদ আর রইলো না। অন্তত আচার্য জগদীশচন্দ্রকে যাঁরা ভালোবাসেন, তাঁদের কাছে তো এটা বড় প্রাপ্তি বটেই। এবার আচার্য জগদীশচন্দ্র বোসের নামে নামকরণ হল একটি প্রাণীর। যেটি সদ্য আবিষ্কৃত। তার নাম দেওয়া হয়েছে হেলিগমোমেরাস জগদীশচন্দ্র।

এর আগে হেলিগমোমেরাস গনের ১৩ টি স্পাইডারের দেখা মিলেছিল। আফ্রিকা এবং ভারতবর্ষ জুড়ে বিজ্ঞানে তা নথিভুক্তও রয়েছে। হেলিগমোমেরাস জগদীশচন্দ্র হলো চতুর্দশ। এটি আবিষ্কার হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুর থেকে। আর এই আবিষ্কারের পিছনে যাঁদের প্রধান ভূমিকা তাঁরা হলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুর কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সুমন প্রতিহার ও ছাত্রী জুলিয়া খাতুন। জুলিয়া খাতুনের বাড়িও অবশ্য কেশপুরেই। মেদিনীপুরের এই দুই গবেষক শুধু নতুন প্রাণীর সন্ধানই দিলেন না, শ্রদ্ধা জানালেন বিশ্ববন্দিত বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বোসকেও।

দিল্লির ইন্দ্রপ্রস্থ বিশ্ববিদ্যালয় সঙ্গে যৌথভাবে এই গবেষণা চালিয়েছেন মেদিনীপুরের দুই গবেষক। উত্তর আমেরিকা থেকে প্রকাশিত মাকড়সা বিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা পত্রে চলতি মাসেই অর্থাৎ আগস্ট সংখ্যায় প্রকাশিতও হয়েছে সেটি।

এই মাকড়সা অবশ্য আর পাঁচটি সাধারণ মাকড়সার মতো নয়। যা জাল বোনে। তা আপনার ঘরের কোনে হোক বা পোড়ো বাড়িতে, জঙ্গলে। এগুলি একটু অন্য ধরণের। আর্মড ট্র্যাপডোর স্পাইডার। এরা মূলত মাটির তলায় গর্ত করে থাকে। গর্তের মুখে বিশেষভাবে মাটি দিয়ে তৈরি করে একটা ঢাকনা। যাকে দরজাও বলা যায়। যে দরজা ঠেলে তবেই গর্তে প্রবেশ করা যায়। বন্ধ অবস্থায় বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই তার ভেতরে কোনও প্রাণী রয়েছে। মাকড়সা গুলো মাটিতে গর্ত করে বাসা তৈরি করে এবং গর্তের মুখ ছোট্ট একটি ঢাকনার মতো অংশ দিয়ে বন্ধ করে দেয়। তাই এদের ট্রাপডোর স্পাইডার বলে। স্ত্রী মাকড়সা আকারে বেশ বড়। কিন্তু পুরুষ বেশ ছোট এবং দেখা পাওয়া  দুষ্কর।

হেলিগমোমেরাস মাকড়সা চেনার সহজ উপায় কী? এই মাকড়সাটি কেমন? আদিম এই মাকড়সা গুলো, বর্তমানে বাগানে, ঘরে পাওয়া যাওয়া মাকড়সার থেকে সম্পূর্ণই আলাদা। এদের পায়ে কোদালের গর্ত থাকে। আদিম এই মাকড়সাগুলোর দাঁত সাপের মতো। দাঁতগুলি সাপের মতো হলেও নির্বিষ। আর বাগানে পাওয়া যাওয়া বেশিরভাগের দাঁত কাঁচির মতো। সেই জন্য এই মাকড়সা যদি কামড় দেয়, কামড়ের ক্ষত স্থান লক্ষ্য করলেই কার কামড় সেটা স্পষ্ট হয়ে যাবে। বির্বতনে মাকড়সারা প্রায় পঞ্চাশ কোটি বছর আগে পৃথিবীর জমিতে পা রেখেছিল। মাকড়সার জন্ম কোনও স্থলজ সন্ধিপদী প্রাণী থেকেই হয়েছিল। ডাইনোসরের রাজত্বের ১৫ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে মাকড়সার আগমন।

২০২০ সালে কেশপুর বাসস্ট্যান্ড অঞ্চলে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে কাজ করার সময় এই মাকড়সা প্রথম দেখতে পান গবেষকরা। তারপর তা সংগ্রহ করা হয়। তারপর শুরু হয় গবেষণা। অবশেষে সাফল্য মেলে। সত্যিই এটির আগে দেখা মেলেনি। দেখা মিললেও তা নথিভুক্ত হয়নি, এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

কেশপুর কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের ছাত্রী তথা কেশপুরের বাসিন্দা জুলিয়া খাতুন এই গবেষণার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে। তিনি সহ গবেষকও। জুলিয়া খাতুন বলেন, ভাবতে পারিনি আমাদের এলাকাতেই এমন একটি প্রাণী পাবো যা বিশ্বে বিজ্ঞানের ইতিহাসে স্থান করে নেবে। এতে আমি ভীষণ উৎসাহিত হয়েছি। স্যার আমাকে যে সূযোগ দিয়েছেন, তাতে ভবিষ্যতে আমার আরও অনেব বেশি উৎসাহ জোগাবে। সব সময় চেষ্টা করব নতুন কিছু পেলেই তা দেখার ও বিশ্লষণ করার।’’

এর আগে ২০২০ সালেই পশ্চিম মেদিনীপুরের নয়াগ্রাম থেকে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের গবেষক অধ্যাপক সুমন প্রতিহারের নেতৃত্বে আরো একটি ট্যারেন্টুলা মাকড়সা আবিষ্কৃত হয়েছিল। তিনি যার নাম দিয়েছিলেন মেদিনীপুরের নামে। নাম রাখা হয়েছিল ‘ইডিয়পস মেদিনী’। সেটিও কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার ছিল।

Mailing List