জলমগ্ন আসানসোল-দুর্গাপুর, নামল বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী

জলমগ্ন আসানসোল-দুর্গাপুর, নামল বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী
30 Sep 2021, 03:49 PM

জলমগ্ন আসানসোল-দুর্গাপুর, নামল বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন : নিম্নচাপের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন হল আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল।

আসানসোল ও দুর্গাপুর এই  দুই শহরেরই একাধিক ওয়ার্ড সম্পূর্ণ জলের তলায় চলে গিয়েছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা আসানসোলের রেলপাড় সংলগ্ন এলাকায়। ইতিমধ্যে সেখান থেকে দুর্গতদের অন্যত্র সরিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে। এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে মাইথন, পাঞ্চেত ও দুর্গাপুর জলাধার থেকে জল ছাড়া হয়।  এর ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আসানসোল যেভাবে জলমগ্ন  হয়েছে সেটা দেখে এলাকার প্রবীণ লোকজন জানান,  ১৯৭৫ সালের পর এমন পরিস্থিতি হয়নি।

জানা গিয়েছে, টানা বৃষ্টির ফলে আসানসোল শিল্পাঞ্চলের গাঁড়ুই ও নুনিয়া নদীর জলস্তর অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। ফলে নদীর জলে দু-কুল প্লাবিত হয়েছে। তিনটি ওয়ার্ড সম্পূর্ণ জলের তলায় চলে গিয়েছে। রেললাইন সংলগ্ন প্রায় ৫০০ বাড়িতে জল ঢুকেছে। সেখানকার বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আসানসোলের ইসমাইল, মুর্গাসোল, কুলটির প্রিয়া কলোনি, অরবিন্দ নগর, বার্নপুরের শাস্ত্রীনগর জলমগ্ন। এমনকী, বন্যা পরিস্থিতির জেরে ২ নম্বর কালিপাহাড়ি সংলগ্ন এলাকায় জাতীয় সড়কে বন্ধ করা হয়েছে যানচলাচল।

উদ্ধারকার্যে নেমেছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।

আসানসোল দুর্যোগ মোকাবিলা কেন্দ্রের আধিকারিক তমজিৎ ভট্টাচার্য বলেন, ‘বুধবার রাত থেকেই উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। আসানসোল রেলপাড় অঞ্চলের ৫০০ পরিবারকে উদ্ধার করে স্কুলবাড়ি, ধর্মীয় স্থানে রাখা হয়েছে। ত্রাণেরও ব্যবস্থা হচ্ছে।‘

 

এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে জামুরিয়ায় প্রধান সড়কে ৩০ ফুট ধস নামে ।

অন্যদিকে,  জলমগ্ন দুর্গাপুর শহরের একাধিক ওয়ার্ডও। পাণ্ডবেশ্বর, অন্ডাল থানা এলাকার বিভিন্ন জায়গাও জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। রাস্তার উপর দিয়েও নদীর মত স্রোত বইছে। অন্ডাল রেল ব্রিজের নীচে সাবওয়ে এতটাই জলমগ্ন যে, যাতায়াত বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

এদিন সকালে দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে প্রায় দেড় লক্ষ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। এছাড়া মাইথন জলাধার থেকে ১২ হাজার একর ফুট, এবং পাঞ্চেত জলাধার থেকে ২০ হাজার একর ফুট জল ছাড়া হয়েছে।

এলাকার বাসিন্দাদের  অভিযোগ, নিকাশি নালা সংস্কার না করার জন্যই এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে, আসানসোলের গাঁড়ুই ও নুনিয়া নদী কখনও সংস্কার হয়নি। ফলে নদীর নাব্যতা কমে গিয়েছে। এর উপর দুপাড়ে বেআইনি নির্মাণের ফলে নদীর গতিপথ শ্লথ হয়ে গিয়েছে।

 

 

ads

Mailing List