মাতৃভাষা দিবসে ‘আমারকার ভাষা, আমারকার গর্ব’ ফেসবুক গ্রুপের উদ্যোগে সুবর্ণ মিলন মেলা     

মাতৃভাষা দিবসে ‘আমারকার ভাষা, আমারকার গর্ব’ ফেসবুক গ্রুপের উদ্যোগে সুবর্ণ মিলন মেলা     
22 Feb 2021, 11:10 PM

মাতৃভাষা দিবসে আমারকার ভাষা, আমারকার গর্ব ফেসবুক গ্রুপের উদ্যোগে সুবর্ণ মিলন মেলা     

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন, ঝাড়গ্রাম: সুবর্ণ রৈখিক ভাষার আরও চর্চা, প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে এবং সুবর্ণ রৈখিক ভাষা ও সংস্কৃতিকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে, বহু গুনীজনের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হল সুবর্ণ মিলন মেলা।  সুবর্ণরৈখিক ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চা বিষয়ক ফেসবুক গ্রুপ ‘আমরকার ভাষা আমারকার গর্ব’-এর উদ্যোগে রবিবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর ২ নং ব্লকের মহাপাল শ্রী বিদ্যাপীঠে অনুষ্ঠিত হল সুবর্ণ মিলন মেলা। মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগে এদিন গ্রুপের পক্ষ থেকে সুবর্ণরেখা নদী বক্ষে নৌকার উপরে সুবর্ণ রৈখিক ভাষায় লেখা বিভিন্ন ধরনের বিষয় নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে ‘সুবনরেখা’ পত্রিকা। পত্রিকার প্রথম কপিটি নদী বক্ষে ভেলায় ভাসিয়ে দেওয়া হয়। এরপর নদী তীর থেকে সুসজ্জিত গরুর গাড়ি, খোল সংকীর্তন, ঢাক-ঢোল সহযোগে  অতিথি ও সদস্য-সদস্যদের উপস্থিতিতে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা স্থানীয় গঞ্জ ও বাজার  এলাকা পরিক্রমা করে‌ মহাপাল শ্রী বিদ্যাপীঠে পৌঁছায়। সেখানে ভাষা শহীদ বেদীতে মাল্যদান করা হয়। অনুষ্ঠান মঞ্চে সুবর্ণ রৈখিক ভাষা ও বাংলা ভাষায় লেখা বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত হয় কবি খগেন জানার "লালুয়া পুইয়ে পালুয়া বাগন", কবি বিষ্ণুপথ ভূঞ্যার "সুবর্ণগাথা", কবি প্রমিশ প্রতিম পাঞ্জা ও অনিমেষ সিংহ সম্পাদিত কবিতা সংকলন "সুবর্ণমালা", অধ্যপক ফটিক চাঁদ ঘোষের "দক্ষিণ পশ্চিম সীমান্ত বাংলার হায়িয়ে যাওয়া লোক সঙ্গীত" ও "শ্লোগান যে কবিতা",কবি আশীষ কুমার খুঁটিয়ার ডোলঙনদীর শোলোঙমাচ", আন্তর্জাতিক পত্রিকা "সাজি" প্রভৃতি পুস্তক ও পত্রিকাগুলি। অনুষ্ঠানে সবাইকে স্বাগত জানানো হয় গ্রুপের পরিচালক মন্ডলীর পক্ষ থেকে। এদিনের অনুষ্ঠানে সুবর্ণ রৈখিক অবিবাহিকার বিশিষ্ট ভূমিপুত্র কবি, সাহিত্যিক, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, অধ্যাপক, শিক্ষক, শিল্পী, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারী কর্মচারী, পরিচালক, ব্যবসায়ী, খেলোয়াড়, ছাত্র-ছাত্রী, সমাজসেবী-সহ গ্রুপের তিন শতাধিক সদস্য-সদস্যা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সুবর্ণরৈখিক ভাষায় আবৃত্তি, লোকগান, গীতিনাট্য, নৃত্য-সহ নানা সাংস্কৃতিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

ছিল সুবর্ণ রৈখিক ভাষায় লেখা বিভিন্ন পুস্তক ও পত্র-পত্রিকার স্টল। এদিনের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজসেবী বৃন্দাবন পাল। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেলিয়াবেড়া থানার ওসি সুদীপ পালধী, খড়্গপুর আই আই টির অধ্যপক ড.ভানুভূষণ খাটুয়া, মেদিনীপুর কলেজের অধ্যাপক ফটিকচাঁদ ঘোষ, বিশেষ চিকিৎসক ডাঃ কৃষ্ণপদ প্রধান,কবি উপেন পাত্র, আশুতোষ রানা, খগেন জানা, বাসুদেব ঘোষ, উৎপল তালধি, বিষ্ণুপদ ভূঁঞ্যা, অর্ধেন্দু ত্রিপাঠী, সূরঙ্গ গিরি, দুলালচন্দ্র দে, শিবরাম আচার্য, অরুণ কুমার মহাপাত্র, আশীষ কুমার খুঁটিয়া, বঙ্কিম চন্দ্র পাল, প্রমিশ প্রতিম পাঁঞ্জা, অনিমেষ সিংহ, অসীমা দে, তপন দে, বিজয় মঙ্গল, শুভব্রত পালোই, গবেষক শান্তনু পান্ডা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট জনেরা। গ্রুপের পরিচালকমন্ডলীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বজিৎ পাল, সুদীপ কুমার খাঁড়া, সুমন মন্ডল, আনন্দ বিশুই, মুরলীধর বাগ,শাশ্বতী খুঁটিয়া-সহ অন্যান্যরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালানা ও পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন সুবর্ণরেখা কলেজের অধ্যাপক সৈকত আলি সা ও গ্রুপের অন্যতম সদস্য কিশোর কুমার রক্ষিত। অনুষ্ঠানটিকে সর্বাঙ্গ সুন্দর করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন গ্রুপের স্থানীয় সদস্য সমীর রাউৎ, পার্থ পাল, কিশোর রক্ষিত, বিশ্বজিত পাল, সৈকত আলি সা, দীপক মন্ডল, মনোরঞ্জন বাড়ি, রথিকান্ত মাইতি, গুনধর বধূক, সুব্রত মান্না, বাণেশ্বর হালদার, কৌশিক রক্ষিত, বুদ্ধদেব পড়িয়া, কৃষ্ণগোপাল পাল, স্বরূপ কামিল্যা কাজল রক্ষিত, বিনন্দ রাউত, শ্রীধর পাল, তাপস মন্ডল, দেবাশীষ দন্ডপাট প্রমুখ। গ্রুপের পরিচালকদের পক্ষে বিশ্বজিৎ পাল ও সুদীপ কুমার খাঁড়া জানান, সুবর্ণ রৈখিক ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা,প্রচার, প্রসার ও সংরক্ষণে তাঁদের  গ্রুপ সচেষ্ট হবে। এদিনের অনুষ্ঠানে যেমন স্থানীয় সদস্য-সদস্যারা উপস্থিত ছিলেন তেমনি কলকাতা, জামশেদপুর, বহড়াগোড়া, ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুর, খড়্গপুর, হাতিবাড়ী, গোপীবল্লভপুর, কুলটিকরী, কেশিয়াড়ী, নয়াগ্রাম, রোহিনী, বেলিয়াবেড়া-সহ বিভিন্ন এলাকার সদস্য-সদস্যারাও উপস্থিত ছিলেন।

Mailing List