গলায় ঝোলে স্টেথোস্কোপ, কন্ঠে সুরের মুর্চ্ছনা, ডাক্তারবাবুদের ব্যান্ড শুনেছেন কখনও

গলায় ঝোলে স্টেথোস্কোপ, কন্ঠে সুরের মুর্চ্ছনা, ডাক্তারবাবুদের ব্যান্ড শুনেছেন কখনও
28 Jul 2022, 04:45 PM

গলায় ঝোলে স্টেথোস্কোপ, কন্ঠে সুরের মুর্চ্ছনা, ডাক্তারবাবুদের ব্যান্ড শুনেছেন কখনও

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন: চার কণ্ঠ শিল্পীর প্রত্যেকেই প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসক। কিন্তু তাঁদের গলায় ঝোলানো স্টেথোস্কোপের আড়ালে লুকিয়ে আছে সুরের মূর্ছনা। কন্ঠে সুর বা তাল জ্ঞান থাকলেও ব্যস্ততার মাঝে নেই সময়টুকু। তার মধ্যেও লুকিয়ে থাকা প্রতিভাকে তুলে ধরতে ওই চার চিকিৎসক তৈরি করেছেন একটি গানের ব্যান্ড। রীতিমত পেশাদার শিল্পীদের মতোই তাঁরা দেশ, বিদেশে অনুষ্ঠান করেন। গান শোনান রাজ্য সরকারের আয়োজিত সংগীত মেলাতেও। বিশেষ করে পুরোনো দিনের বাংলা গান যখন একসঙ্গে চার শিল্পীর কণ্ঠে ফুটে ওঠে তখন শ্রোতাদের বোঝার জো নেই যে এঁনারা পেশাগতভাবে চিকিৎসক।         

২০০৪ সালে তাঁরা তৈরি করেছিলেন একটি ব্যান্ড। প্রথম দিকে পাঁচ জন সংগীত শিল্পী তথা চিকিৎসক ছিলেন ব্যান্ডে। এর নাম 'ব্যতিক্রমী' তৈরি হল পরের বছর। কিন্তু এঁদের মধ্যে ২০১৯ এ একজনের মৃত্যু হয়। তার পর থেকে চারজন মিলেই দলটিকে ধরে রেখেছেন।                                    

এঁদের মধ্যে রয়েছেন ড. তাপস রায়চৌধুরি, যিনি ২০১৮ সালে পূর্ব ভারতের প্রথম হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কার্ডিওলজিস্টি ড. রাজা রায়, ইউরোলজিস্ট ড. শিবাজী বসু, চক্ষু বিশেষজ্ঞ ড. বিবেক দত্ত। বন্ধুত্বের সূত্রে তাঁদের সম্পর্ক বহু বছরের। গত ১৯ বছর গানের সুরে বাঁধা পড়া। এই ১৯ বছরে দেশ, বিদেশে অন্তত ২০০ টি অনুষ্ঠান করেছে ব্যতিক্রমী।                      

ড. রাজা রায় বলেন, 'আমাদের মধ্যে ড. বিবেক দত্ত একটি নাম করা স্কুলে গানের তালিম নিয়েছেন। ড. শিবাজী বসু গিটার বাজান। তবে, আমরা সবাই কণ্ঠ শিল্পী। নিজেরা কোনও গান কম্পোজ করিনা। পুরোনো দিনের বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি গানের ট্র্যাকের সঙ্গেই আমরা গাই। যেমন, শ্যামল মিত্র, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, সলিল চৌধুরির হিন্দি গান, ক্লিফ রিচার্ড ইত্যাদি।'   

ড. রায় জানান, তবে, গান গেয়ে যে টাকা ওঠে সেসব বিভিন্ন জনকল্যাণ মূলক কাজে দান করা হয়। যেমন সম্প্রতি এই দলটি বেঙ্গল ক্লাবে একটি অনুষ্ঠান করেছিল। তাতে যা টাকা পাওয়া গিয়েছিল সেটি সুন্দরবনের চারজন দরিদ্র মানুষের ছানি অপারেশনের জন্য দেওয়া হয়েছে। আবার কিছুদিন আগে একটি বেসরকারি হাসপাতালের এক অনুষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত অর্থ একটি আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারকে দেওয়া হবে। এছাড়াও বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংস্থা, বৃদ্ধাশ্রম ইত্যাদি জায়গায় গানের টাকা দান করে ব্যতিক্রমী।                                 কিন্তু এত ব্যস্ততার মধ্যেও সংগীত চর্চা কী করে হয়? ড. রায় জানান, যখন অনুষ্ঠান থাকে তার আগে রাত ১০ টা থেকে ১২ পর্য্যন্ত মহড়া দেওয়া হয়। যে ভাবেই হোক নিজেদের প্যাশনকে ধরে রাখাটাই উদ্দেশ্য এই চিকিৎসকদের। সেই সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া দিনের গান আজকের প্রজন্মের কাছেও ধরে রাখার প্রয়াস চালিয়ে যাওয়া। চিকিৎসকদের মধ্যে ভিন্ন প্রতিভার  নিদর্শন বিস্তর। এর মধ্যে সংগীত চর্চা, নাটক বা অভিনয় তো আছেই এছাড়াও কেউ কবি কেউ বা লেখক। ছোটবেলায় পড়াশুনা, বড়ো হয়ে প্রাকটিসের পাল্লায় পড়ে এই প্রতিভাগুলি ঢাকা পড়ে গিয়েছে অনেকের। কেউ আবার যত্ন করে চর্চা করে যাচ্ছেন। ঘষে মেজে সহজাত গুন গুলি নতুন করে জাগিয়ে তুলতেও মেতে ওঠেন অনেকে। এই ব্যতিক্রম ব্যান্ডের নামেই স্পষ্ট।

Mailing List