ঈশ্বরবিজ্ঞানী শ্রীরামকৃষ্ণ

ঈশ্বরবিজ্ঞানী শ্রীরামকৃষ্ণ
16 Aug 2020, 11:09 AM

ঈশ্বরবিজ্ঞানী শ্রীরামকৃষ্ণ

সুদর্শন নন্দী

১৬ই আগস্ট অবতার ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেব এই ধরায় তাঁর অবতারলীলা সাঙ্গ করে ইন্দ্রলোকে পাড়ি দিয়েছিলেন। একটি ৫২ বছরের জীবনের যবনিকা ঘটেছিল আজকের দিনে। কিন্তু তিনি তো আমাদের মতো রামা শ্যামা কেউ ছিলেন না যে তাঁকে শুধু একটি জীবন হিসেবে আখ্যায়িত করব। আসলে তিনি জন্মগ্রহণও করেননি বা তার প্রয়াণও হয়নি। তিনি শ্বাশত পুরুষ ছিলেন,আছেন ও থাকবেন। তিনি বিচ্যুত পথ থেকে মানুষকে উদ্ধার করতে এবং সঠিক পথটি বাতলে দিতে দেহ ধারণ করে ৫২টি বছর ভক্তদের সামনে দেখা দিয়েছিলেন। আজ তাঁর অমৃতকথা ও উপদেশকে পাথেয় করে সারা বিশ্বে চলছে মানবসেবা-ইশ্বরসেবা। চলছে ভারতের সনাতন ধর্মের আধ্যাত্মিক প্রসারণ। তিনিই প্রথম চিরাচরিত বিদ্যা অর্জন ব্যতিরেকে, চাল কলা বিদ্যা অর্জনের শিক্ষাকে এড়িয়ে ভগবানকে বা ইশ্বরকে ব্যাকুল হয়ে ডেকে তাঁকে লাভ করাই জীবনের মূল উদ্দেশ্য বললেন। বললেন বিশ্বের সমস্ত সৃষ্টিতে তাঁর অবস্থান। বিজ্ঞানকে ঘাড় ধরে নুইয়ে শক্তির কথা বলতে গিয়ে বললেন সেই অনন্ত স্রষ্টা ও শক্তির কথা। তিনি বিজ্ঞানী না হয়েও মহাবিজ্ঞানী, তিনি দর্শনশাস্ত্র না পড়লেও মহাদার্শনিক। তাঁর প্রথাগত কোনও বইপত্র, স্কুল  কলেজ, ল্যাবরোটরির প্রয়োজন ছিল না। সবই তাঁর মুখে। দক্ষিণেশ্বর তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়। ভবতারিণী তাঁর গাইড।

গবেষণাগারে তিনি কিরকম প্র্যাকটিস করতেন?

ভবতারিণীর পূজো করতে করতে অদ্ভুত ঈশ্বরীয় রূপ দর্শন করতে লাগলেন তিনি। আরতি করেন, আরতি আর শেষ হয় না। পূজা করতে বসেন, পূজা আর শেষ হয় না; নিজের মাথায় ফুল দিতে থাকেন। মাকে খাওয়ান, সেই হাতেই নিজে খান। ঈশ্বর পূজনের এক ব্যতিক্রমী রীতি। কিন্তু তা ব্যাতিক্রম কারণ সেই পূজাপদ্ধতি তো লৌকিক তথা চলমান রীতিনীতির বিপেক্ষে। ঠাকুরের কাছে মা তো আপন মা’ই। ঠাকুরকে জগন্মাতা বলেছিলেন, “তুই আর আমি এক। তুই ভক্তি নিয়ে থাক -- জীবের মঙ্গলের জন্য। ভক্তেরা সকলে আসবে। তোর তখন কেবল বিষয়ীদের দেখতে হবে না; অনেক শুদ্ধ কামনাশূন্য ভক্ত আছে, তারা আসবে”। কিন্তু অন্যেরা বলল পাগলের কাণ্ড সব। আর যারা রতন চেনেন তারা বুঝে গেলেন তিনি কে। তোতাপুরী, বৈষ্ণব পণ্ডিত বৈষ্ণবচরণ চিনেছিলেন তাঁকে। বৈষ্ণবচরণ মথুরকে বলেছিলেন, এ-উন্মাদ সামান্য নয়- প্রেমোন্মাদ। ইনি ঈশ্বরের জন্য পাগল। অন্যদিকে, শিক্ষিত ব্রাহ্মনেতারা আশ্চর্য হলেন অবতারের ইশ্বরবিদ্যা দেখে। 

   

তাই জ্ঞানী পণ্ডিত মানুষ শ্রীম এতো পড়াশুনা আর জ্ঞান লাভ করে শিখলেন ইশ্বরকে জানার নামই জ্ঞান, বাকি সব অজ্ঞান। আর সেই অজ্ঞানী মানুষের দল ভিড় জমালো ঠাকুরের পাঠশালায় জ্ঞান অর্জনের জন্য। শুধু মানুষের দল। আসছে আর আসছে। শিক্ষিত, পণ্ডিত, ডাক্তার, ব্রাহ্ম সমাজের দিকপালেরা ছুটে এলেন ময়ুরের আফিমের নেশার মতোই। পরে সাধারণ মানুষ থেকে বিশ্ব ঠাকুরের সন্ধান পেল কথামৃতকারের মাধ্যমে তথা নরেনের বিশ্বমাঝারে “হাঁক” শুনে। 

লীলা সংবরণের পর তাঁর ভক্ত আজ বিশ্বজুড়ে। সেই ভক্তেরা ঠাকুরের অমৃতসুধা পান করে ঈশ্বরের সেবায় ব্রতী হয়েছেন।

Mailing List