সহজ উপায়ে অর্কিড চাষে দেখুন লাভের মুখ

সহজ উপায়ে অর্কিড চাষে দেখুন লাভের মুখ
28 Feb 2022, 09:00 PM

সহজ উপায়ে অর্কিড চাষে দেখুন লাভের মুখ

 

আনফোল্ড বাংলা প্রতিবেদন : গোলাপের পাশাপাশি ফুলের রাজ্যে এখন অর্কিড এর জনপ্রিয়তাও বেশ তুঙ্গে। আকর্ষণীয় রং, বিভিন্ন ধরনের আকৃতি, সুমিষ্ট সুগন্ধ, ঔষধি গুণাগুণ এবং দীর্ঘ স্থায়িত্বকাল থাকার কারণে বিশ্বজোড়া খ্যাতি রয়েছে এই ফুলের। ঘর সাজানো থেকে শুরু করে যে কোনো ধরনের উৎসব অনুষ্ঠান সব জায়গাতেই এখন দেখা মেলে এই ফুলটির। তাই অর্কিড চাষে লাভের হার কিন্তু বেশ ভালোই। নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে চাষ করলে আপনিও অর্কিড চাষে হয়ে উঠতে পারেন লাভবান।

 

অর্কিডের শ্রেণী ও জাত

চাষ পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে অর্কিড প্রধানত ২ প্রকার। এক, পার্থিব । দুই, পরাশ্রয়ী।

যেসব অর্কিড অন্যান্য ফুলের মতো মাটিতে জন্মায় এবং সেখান থেকে খাদ্য ও রস সংগ্রহ করে, তাদের পার্থিব অর্কিড বলে। এদের সুতার মতো সরু গুচ্ছ মূল থাকে। যেমন- ফায়াস, সিমবিডিয়াম, লেডি স্লিপার ইতাাদি। অন্যদিকে যেসব প্রজাতির অর্কিড অন্য কোন গাছের শাখা বা কাণ্ডের উপর আশ্রিত হয়ে জন্মে তাদের পরাশ্রয়ী অর্কিড বলে। এদের লম্বা, মোটা ও পুরু মূল থাকে, বাতাস থেকে খাদ্য গ্রহণ করে। যেমন ডেনড্রোবিয়াম, ভ্যান্ডা, এরিডিস ইতাাদি।

এছাড়াও আরও দুই ধরণের প্রজাতি দেখা যায় এক হলো সিমপোডিয়াল , অর্থাৎ এই প্রজাতির অর্কিডের কাণ্ডের গোড়া হতে শাখা বের হয় এবং শাখার অগ্রভাগ থেকে ফুল উৎপাদিত হয়। যেমন- ফেলেনপসিস, ক্যাটেলিয়া, ডেনড্রোবিয়াম, অনসিডিয়াম, সিমপোডিয়াম উল্লিখিত প্রজাতি। অন্যদিকে আর এক প্রজাতি হলো মনোপডিয়াল। এই প্রজাতির গাছের একটি লম্বা কাণ্ড থাকে যা প্রতি বছর প্রতি ঋতুতে বর্ধনশীল অংশ থেকে পাতা এবং পত্রাক্ষ থেকে ফুল উৎপাদনের মাধ্যমে লম্বায় বাড়তে থাকে। যেমন- ভ্যান্ডা, এরিডিস, রিনকোস্টাইলিস ইত্যাদি।

 

জলবায়ু ও মাটি

সাধারণত উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া অর্কিড চাষের জন্য উপযুক্ত। প্রজাতি ভেদে ১০-৩০ ডিগ্রি সে. তাপমাত্রায় অর্কিড ভালো জন্মে। আধো আলো আধো ছায়া এরূপ স্থান এই ধরণের ফুল চাষের জন্য উত্তম। এই ফুল চাষের ক্ষেত্রে দোআশ মাটি ব্যবহার করা উচিত। এ ছাড়া উপযুক্ত বায়ু চলাচল এবং জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকা আবশ্যক।

 

চাষ পদ্ধতি ও জমি তৈরি :

পার্থিব অর্কিড

টব, গামলা বা ঝুলন্ত বাস্কেটে চাষ করা যেতে পারে। এগুলোর যে কোনো একটির ভেতরের তলদেশে কয়লা, খোয়া অথবা ঝামার টুকরা স্থাপন করতে হয় এবং এর উপরে নারিকেলের ছোবড়ার টুকরা ছড়িয়ে দিতে হয়। এরপর প্রয়োজনমতো জল দিতে হয়।

পরাশ্রয়ী অর্কিড

বিশেষ ধরনের টব কাঠের বা মাটির টবে পাশে ও নিচে বড় বড় ছিদ্রসহ অথবা বাঁশের ঝুড়িতে চাষ করা যায়। মরা কাঠের ওপর জন্মানোর ক্ষেত্রে আম, জারুল বা কড়ই গাছে রশি দিয়ে সঙ্গে নারিকেলের ছোবড়াসহ বেঁধে দেয়া যেতে পারে।

বিভাজন প্রক্রিয়ায় গাছ থেকে সাকার সংগ্রহ করে অথবা টিস্যু কালচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চারা তৈরি করে জমিতে লাগাতে হয়। পচা গোবর বা কম্পোস্ট, নারিকেলের ছোবড়া, ধানের তুষ ও বেলে দো-আঁশ মাটির সমপরিমাণ মিশ্রণের মাধ্যমে বেড তৈরি করতে হয়।

 

রোপণ

চারা বপনের সময় সারি থেকে সারি ৩০-৪০ সেন্টিমিটার এবং গাছ থেকে গাছে ২৫-৩০ সেন্টিমিটার দূরত্ব রাখতে হয়।

 

সার প্রয়োগ

ইউরিয়া, টিএসপি ও এমপি সমৃদ্ধ ২০:২০:২০ মিশ্র সার বেশ উপযোগী। সার জলে মিশিয়ে সপ্তাহে এক বা দু’দিন গাছে স্প্রে করতে হয়। স্প্রে করার সময় গাছের পাতা যেন ভালোভাবে ভিজে যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

 

সেচ

মাটিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে রস থাকতে লাগানোর পর হালকা সেচ দিতে হয়, যাতে চারা গুলি মাটিতে লেগে যায়। পরবর্তীতে আবহাওয়ার অবস্থা বুঝে সেচ দিতে হবে। এছাড়াও এ ফুল চাষের জন্য বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৬০ ডিগ্রি বজায় রাখতে হলে স্প্রিংকলার দিয়ে মাঝে মাঝে পানি স্প্রে করতে হয়। জমিতে দাঁড়ানো পানি এ ফসলের জন্য ক্ষতিকর। যদিও এই চাষে প্রচুর জলের প্রয়োজন।

 

রোগ-বালাই

ফুলটিতে সাধারণত কোনো রোগ বা পোকার আক্রমণ দেখা যায় না। তবে ভাইরাসে আক্রান্ত গাছ তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হয়। ফুলের কুঁড়ির পোকা দমনের জন্য যেকোনো কীটনাশক অনুমোদিত মাত্রায় ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

ফুল সংগ্রহ

চারা থেকে গাছ লাগানোর একবছরের মধ্যেই ফুল আসে। মূলত ফুল আসার সময় ফাল্গুন-চৈত্র মাস। অপরদিকে টিস্যু কালচার থেকে পাওয়া চারা থেকে ফুল পেতে কমপক্ষে আঠারো মাস সময় লাগে। বাণিজ্যিক চাষের ক্ষেত্রে স্টিকের এক বা দু’টি ফুল ফোটার সঙ্গে সঙ্গে কাটতে হবে। বাগানে বা টবে সৌখিন চাষের ক্ষেত্রে ফুল কাটার প্রয়োজন নেই। এ ক্ষেত্রে গাছে প্রায় ৩০-৪৫ দিন পর্যন্ত ফুল টিকে থাকে।

 

ফলন

প্রতি হেক্টরে প্রথম বছর ৮ হাজার স্টিক, দ্বিতীয় বছর ১৫ হাজার স্টিক এবং তৃতীয় বছর ২৫ হাজার স্টিক পাওয়া যায়। এছাড়া প্রতিবছর গাছ থেকে চারা রেখে ২-৫টি চারা সংগ্রহ করা যায়।

Mailing List