শিকড় / গল্প

শিকড় / গল্প
16 Jan 2022, 09:45 AM

শিকড়

 

সুদীপ সরকার

 

অনেক দিন পর সন্ধ্যের দিকে ছাদে এলাম। মাঝে মাঝে ঘরের ভিতরে দম বন্ধ হয়ে আসে। উন্মুক্ত আকাশে অবিন্যস্ত আলোর বিন্দু, হাজারে হাজারে নাকি লাখে লাখে। গুনগুনিয়ে উঠলাম নিজের খেয়ালে,

“ভুবন বলে তোমার তরে আছে বরণ মালা,

গগন বলে, তোমার তরে লক্ষ্য প্রদীপ জ্বালা।“

কোলকাতায় এখন আর খোলা আকাশ দেখা যায় না, হাজার হাজার গাড়ির কালো ধোঁয়ায় বাতাস বিষিয়ে উঠেছে। তবে নিউটাউন এখনো তুলনায় অনেক ফাঁকা। আমাদের পনেরো তলা ফ্ল্যাট বাড়ির ছাদে উঠলে মনেই হয় না তিলোত্তমা কোলকাতার বাতাস এখন আর খুব একটা বিশুদ্ধ নেই। আমাদের মঞ্জরি আবাসনের সামনে দিয়ে যে নিটোল মসৃণ রাস্তাটা এঁকে বেঁকে চলে গেছে ইকো পার্কের দিকে, তাতে এখন সারি বদ্ধ গাড়ির মিছিল। বসন্ত শেষের ফুরফুরে হাওয়ায় বেশ একটা হালকা মেজাজি ছোঁয়া। আশেপাশের আরও কয়েকটা হাই রাইসে জোনাকির আলো আঁধারি। আকাশের দিকে তাকাতেই কত স্মৃতি ভিড় করে এলো।

তখন আমার ক্লাস এইট নাইন হবে। খোলা ছাদে হ্যারিকেন জ্বেলে পড়তে বসতাম দুই ভাইবোন। মাদুরের এক পাশে আমি আর অন্য পাশে দিদি। সারাদিন আগুন ঝড়িয়ে সূর্য অস্ত গেলেই প্রকৃতি নড়ে চড়ে বসত, গাছে গাছে দোলা লাগত, শন শন শব্দে এক গাছ থেকে আরেক গাছে বার্তা পৌঁছে যেত, দখিণা বাতাস বইতে শুরু করত। ইলেকট্রিক ফ্যানের হাওয়া তার ধারে কাছেও আসে না। প্রবল বাতাসের দাপটে কখনো হ্যারিকেনের আলো নিভু নিভু হয়ে যেত, হাত দিয়ে ওপরের দিকের ফুটো গুলো আড়াল করার চেষ্টা করত দিদি। হারুর মা রান্না করতে আসত সকাল সকাল। রাতের জন্যে যেটুকু দরকার প্রয়োজন মত মা সেরে নিত।

রান্না ঘরের কাজ করতে করতেই মা হাঁক পাড়ত, “পড়ার আওয়াজ পাচ্ছি না কেন?”

মা যতটা কড়া ছিল, ততটাই আশকারা পেতাম বাবার কাছে। সেই সব নির্ভেজাল ভালো লাগার দিন গুলো পেড়িয়ে কোথায় কোথায় সবাই ছড়িয়ে পড়লাম। মফঃস্বল ছাড়িয়ে কোলকাতা। তারপর পড়াশোনা শেষ করে অধ্যাপনা। সব কিছুই যেন ঘড়ির কাঁটা ধরে।

যাদবপুরে অর্থনীতি পড়ার সময়ই ঝিলিকের সাথে আলাপ। আমি তখন থার্ড ইয়ারে আর ঝিলিক ফিজিক্স ফার্স্ট ইয়ার। ইউনিভার্সিটি ক্যান্টিনে প্রথম দেখা। ও প্রায়ই বলত জটিল লোকেরা অর্থনীতি পড়ে।

আমি হেসে বলতাম, “পদার্থ বিদ্যা পড়ে অপদার্থরা। শুধু জটিল হিসেব নিকেশ আর হাইপথিটিক্যাল ব্যাপার স্যাপার নিয়ে অঙ্কের কচকচি।“

ঝিলিক চোখে ঝিলিক তুলে বলত, “মোটেই না, ফিজিক্স ইজ সিম্পল, অ্যাজ সিম্পল অ্যাজ লাইফ। তোমরা তো পভার্টি এলিভিয়েশান নিয়ে কত ভাবছ, কত মডেল নিয়ে চর্চা করছ, তবুও সারা বিশ্বে কত দারিদ্র। আমি তো এটাই বুঝি না পুওর ইকনমিক্স না ইকনমিক্স ফর পুওর, কোনটা ঠিক।“

আমাদের তর্ক এখন আর খুব একটা হয় না, সময়ের সাথে সব কিছুই একটু একটু করে বদলে যায়। এখন যেটুকু তর্ক হয় সেটা আমাদের কন্যা ক্লাস নাইনের জিনিকে নিয়ে। এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের জন্য খারাপ লাগে। ওরা এসি তে অভ্যস্ত। মুঠোফোনে বিশ্ব ওদের হাতের নাগালে। কিন্তু আকাশের দিকে তাকিয়ে তার বিশালত্ব অনুভব করার ফুরসৎ নেই।

ওরা জানতেই পারল না ছাদের খোলা হাওয়ায় বসে টিমটিমে হ্যারিকেনের আলোয় পড়তে বসার মজা কি। পড়তে পড়তে ঠাণ্ডা হাওয়ায় শরীর জুড়িয়ে এলে চোখেও নেমে আসত ঢুলুনি। তারপর মাদুরেই চিত হয়ে শুয়ে শুয়ে আকাশের তারা চেনার চেষ্টা।

মা চেনাত ধ্রূব তারা, সপ্তর্ষি মণ্ডল। শুনে শুনে মুখস্ত করে ফেলেছিলাম কোন কোন মুনি ঋষি গন ওই সপ্তর্ষি মণ্ডলের সদস্য। শুধু বাচ্চাদের দোষ দিয়েই বা কি লাভ, আমিও তো জিনিকে সে ভাবে সময় দিতে পারি না। আমার মা যে ভাবে আমাদের দিত। তবে ঝিলিক এর প্রতিও আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। সুযোগ থাকতেও ও নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে শুধু মাত্র আমার আর জিনির ভালোর জন্য। মাঝে মাঝে মনে হয়, স্বার্থপরের মত বোধহয় ওকে আমি ব্যবহার করে গেলাম জীবনভর।

ঝিলিক অবশ্য খুব খুশি মানুষ। অধ্যাপনার সুযোগ আমার থেকে ওর কম ছিল না। কিন্তু ও একশো শতাংশ নিশ্চিত যে ও ঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পড়াশোনা করলেই যে সবাইকে চাকরি করতে হবে তার কি মানে? ঘর সামলানো কিছু কম গুরুত্বপূর্ণ কাজ নয়। আমার মাও এই ব্যাপারে একমত। মায়ের বিচক্ষণতার ওপর আমাদের ভাই বোনের অগাধ আস্থা।

মা এখন দিদির কাছে রয়েছে বিদেশে। দুদিন ধরে একটা দোলাচলের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, এখন মা কাছে থাকলে খুব ভালো হত। এমনকি ঝিলিক কেও বলিনি ব্যাপারটা নিয়ে। কি করব কিছুতেই ঠিক করতে পারছি না, ঝিলিকের সাথে কথা বলা দরকার। আলোচনা করে একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে চটপট। ঘড়ির কাঁটায় এখন সাড়ে আটটা, কোলকাতা শহরের বেশ কিছুটা অংশ এখান থেকে পরিষ্কার দেখা যায়, রাস্তায় গাড়ির মিছিল কিছুটা পাতলা হয়ে এসেছে। নিচে নামতে হবে এবার, জিনি বেশিক্ষণ আমাকে না দেখলেই ডাকাডাকি শুরু করে দেয়।

ঝিলিক সব শুনে চুপচাপ হয়ে গেল। আমি জানি এই ব্যাপারে চট করে সিদ্ধান্ত নেওয়াটা খুব সহজ নয়। জিগ্যেস করলাম, “কিছু বললে না? ভেবে দেখ, এই সুযোগ হয়ত আর কোনদিনই আসবে না। এক্ষেত্রে হ্যাঁ বা না বলাটা কিন্তু জাস্ট বলে দিলাম সেরকম নয়। প্রস এন্ড কন্স ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।“

ঝিলিক কিছু ভাবছিল, অন্যমনস্ক ভাবে বলল, “এসব কি তোমার ধাতে সইবে? অর্থনীতির শিক্ষক টার্ন্ড পলিটিসিয়ান, আইডেন্টিটি ক্রাইসিস হবে না?”

“এই একই কথা সেদিন বলেছি প্রফেসার রায়কে। উনি নিজে সেনেটের পদাধিকারি আর সুজন বাবুকে উনিই নিয়ে এলেন আমার কাছে। আমি তো অবাক প্রস্তাব শুনে। সুজন বাবু সরকারের হেবি ওয়েট মন্ত্রী, আর প্রফেসার রায় আমাকে খুব স্নেহ করেন, মুখের ওপর না বলতেও খারাপ লাগছিল। তবু আমার দ্বারা হবে না বলেই দিয়েছি এক প্রকার। তবে ওনারা কিছুদিন সময় নিয়ে ভেবে চিন্তে বলতে বলেছেন।“

“একদিকে কিন্তু প্রস্তাব টি বেশ ভালো। ধর যদি হঠাৎ করে বিধায়ক হয়ে যাও, কেমন হবে ব্যাপারটা! তুমি ছাত্র পড়ানো ছাড়া কখনো কিছু করোনি, কিন্তু বিধানসভায় গেলে যে বিরাট ব্যাপ্তি নিয়ে কাজের সুযোগ পাবে সেটা অস্বীকার করা যায় না। ক’জন বা সেই সুযোগ পায়? সেই রাজু বন গয়া জেন্টল ম্যানের মতো রজতশুভ্র বন গয়া এম এল এ।” ফিকফিক করে হেসে বলল ঝিলিক।

ঝিলিকের মজা দেখে বিরক্ত হলাম। বললাম, “আমার এখন এই অবস্থা আর তুমি রসিকতা করছ? সেদিন বারে বারে বলেছি ওনাদের, আমার দ্বারা হবে না। নির্বাচনে লড়ব বললেই তো আর হোল না। রাজনীতির এবিসিডি না জেনে বুঝে মাঠে নেমে পড়লেই হোল নাকি? কিন্তু সুজন বাবুর বক্তব্য, দল নাকি আমার মতো কমপ্লিটলি এপলিটিকাল অথচ স্বচ্ছ ভাব মূর্তির কাউকে চাইছে।

প্রফেসার রায় কেন নয়?

জিগ্যেস করতে বললেন, উনি বয়েসের কারণে পুরোদস্তুর রাজনীতিতে নামতে আগ্রহী নন। সামাজিক কাজের এত ভালো সুযোগ ছেড়ে দেওয়া উচিৎ হবে না। তাছাড়া রাজনীতিতে ভালো মানুষদের বেশি বেশি করে প্রয়োজন ইত্যাদি অনেক কিছুই বললেন। আরও বললেন, এমন কেন্দ্র থেকে আমাকে ভাবা হয়েছে যেখানে এমনিতেই রুলিং পার্টি এগিয়ে আছে। প্রচার কর্মসূচী থেকে সব কিছু পার্টি দায়িত্ব নিয়ে করবে। কন্টেস্ট করলেই সাফল্য নিশ্চিত। 

প্রফেসার রায় তো আকারে ইঙ্গিতে এও বুঝিয়ে দিলেন জিতে ফিরলে মন্ত্রিত্বও প্রায় পাকা।

“আরেব্বাস, এ তো আরও দারুণ ব্যাপার। রজতশুভ্র বন গয়া মিনিস্টার।“ খিলখিলিয়ে হেসে উঠল ঝিলিক, “তুমি হ্যাঁ বলে দাও বুঝলে। মন্ত্রী মশাইয়ের বউ হওয়া চাট্টিখানি কথা? সেই কোন ছেলেবেলায় পড়েছি, হবুচন্দ্র রাজা আর গবুচন্দ্র মন্ত্রী।“

ঝিলিকের হাসি দেখে আমিও হেসে ফেললাম। কিন্তু ভিতরের ছটফটানিটা বেড়ে গেল। বছর খানেক হোল রক্তে তৈল পদার্থ কিঞ্চিত বৃদ্ধি পেয়েছে, আজকাল একটু বেশি জোরে হাঁটাহাঁটি করলেই বুকে হাপ ধরে। কার্ডিওলজিস্ট এর পরামর্শ মেনে কিছু বিধি নিষেধ চালু করেছি সম্প্রতি। গ্রে-ম্যাটারে ধুয়ো দেওয়ার নামে অল্পবিস্তর যেটুকু সুখটানের অভ্যেস ছিল, ঝিলিকের প্রবল আপত্তিতে অনেক কাল আগেই ছেড়েছি তাও। দিন কয়েক হোল বুঝতে পারছি, প্রস্টেট নামক যন্ত্রাংশটিও নিজের কাজ ঠিকঠাক করতে চাইছে না। এই বয়েসে বোধহয় এগুলো অস্বাভাবিক নয়, মিড লাইফ ক্রাইসিস বলে যাকে আমরা চালিয়ে দি।

এই সব নিয়েই তো বেশ আছি। আমি রজতশুভ্র চট্টপাধ্যায়। আবার অন্য দিক থেকে ভেবে দেখলে, এই প্রস্তাবের মধ্যেই একটা দারুণ ভবিষ্যতের হাতছানি আছে যেটা উপেক্ষা করাও কঠিন। একটা অচেনা জগৎ। যার প্রতি পদক্ষেপে ক্ষমতার বিচ্ছুরণ আর বিরাট হরাইজন জুড়ে কাজের সুযোগ। সঙ্গে রাজ্যপাট চালানোর ব্যাপারে অগ্রগণ্য ভূমিকায় নিজেকে নিয়ে যাওয়া। এমন তো নয় যে একাডেমিসিয়ানরা কখনো রাজনীতিতে আসেন নি, বরং উল্টোটাই বেশি। এমনকি মেঘনাদ সাহাও তো পার্লামেন্টে যেতে দ্বিধা করেন নি। ঝিলিক খুব একটা সিরিয়াসলি নেয় নি ব্যাপারটা মনে হোল, সিদ্ধান্ত আমাকেই নিতে হবে। আর সেটা যাই হোক তার জন্য দ্বিতীয় বার ভাবব না ঠিক করে নিলাম।

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই হালকা লাগছে। বেশ কিছুদিনের ডিলেমা কাটিয়ে সিদ্ধান্ত একটা নিয়েই ফেললাম কাল রাতে। অনেক হিসেব নিকেশ করেছি কদিন ধরে। চেনা খাতে বয়ে চলা ঝুকিহীন জীবন না কঠিন চ্যালেঞ্জ এর মুখোমুখি হয়ে ক্ষমতার শীর্ষে উত্তরণ! ঝিলিকও দ্বিধাগ্রস্ত এই ব্যাপারে। সন্ধ্যের দিকে একটা মেইল পাওয়ার পরেই মনস্থির করে ফেললাম চটপট। রাতে ঘুমোলাম হালকা মনে। ভোরের দিকে অদ্ভুত স্বপ্ন দেখলাম একটা।

দেখলাম বিশাল জনসমাবেশ নিয়ে আমি মিছিল করে যাচ্ছি শহরের রাস্তা ধরে। কিছু একটা স্লোগান দিচ্ছি আর সমবেত জনতা সেটা ছন্দ মিলিয়ে বলছে আমার সাথে সাথে। অলিগলি দিয়ে চলেছি সেই মিছিল নিয়ে, ঝিলিক কে একবার দেখলাম রাস্তার ধারে দাড়িয়ে আছে, কিছু বলতে চাইছিল কিন্তু আমি চলে গেলাম কথা না বলেই। হাঁটতে হাঁটতে অনেক দূর চলে যাবার পর খেয়াল হোল আমি একা, আমার পিছনে থাকা মানুষগুলো সব উধাও হয়ে গেছে। পাশে তাকিয়ে দেখলাম বাবা আমার সঙ্গে হাঁটছে, আমি বাবার হাতটা ধরার চেষ্টা করেও পারছি না। দেখলাম আমরা হাঁটছি আমাদের পাড়ার রাস্তা দিয়ে, সবুজ সংঘ ক্লাব, কালি মন্দির পেরিয়ে হেঁটে চলেছি, খানিক দুরে আবছায়ায় আমাদের বাড়ি। আমি বাবার হাত ধরার চেষ্টা করছি কিন্তু পারছি না…। ঘুম ভেঙে উঠে বসলাম। মনে হোল, যে সিদ্ধান্তটা নিয়েছি, তাতে বোধহয় বাবারও সায় আছে। বুঝলাম এত বছর পরেও সমস্ত ছেলেবেলাটাই রয়ে গেছে অবচেতনে।

মাস চারেক আগের কথা। ইন্দো-ব্রিটিশ টাই আপ প্রোগ্রামে লন্ডন স্কুল অফ ইকনমিক্স এবং আরও অন্যান্য খ্যাতিমান ইউনিভার্সিটি তে পড়ানোর জন্য আবেদন পত্র আহ্বান করেছিল ব্রিটিশ কাউন্সিল। সেভাবে কিছু না ভেবেই আবেদন করে দিয়েছিলাম একটা। গত কাল কাউন্সিল থেকে মেইল পেলাম, আমার আবেদন গ্রাহ্য হয়েছে, আমাকে লন্ডন স্কুল অফ ইকনমিক্সে পড়ানোর সুযোগ দিচ্ছে কাউন্সিল। আগামী সাত দিনের মধ্যে কাউন্সিল অফিসে যোগাযোগ করতে হবে, পনেরো কুড়ি দিনের মধ্যেই ডিপারচার। সাত মাসের জন্য ওখানে থাকার সমস্ত ব্যবস্থা করবে প্রতিষ্ঠান।

এই সুযোগ আমার কাছে অভাবনীয়। আগে বার দুয়েক দিল্লি স্কুল অফ ইকনমিক্সে লেকচার দেওয়ার সুযোগ হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরে একটি সেমিনারে যোগ দিতে গিয়েছিলাম জাপানে। কিন্তু এই সুযোগ সব কিছুকেই ছাপিয়ে গেল। ঝিলিক খুব খুশি, তবে জিনির মুখে হাজারো দুশ্চিন্তার ছায়া। লন্ডন আসছি শুনে দিদিও দারুণ খুশি, একেবারে মা কে নিয়ে ফিরব বলে দিয়েছি। ব্রিটিশ কাউন্সিলে যোগাযোগ করব আজকেই। ওদের সাথে কথা বলেই ভিসা অফিসে যেতে হবে।

আর হ্যাঁ, প্রফেসার রায় কে জানিয়ে দিতে হবে অন্য কারুর কথা ভাবতে। নতুন করে উপলব্ধি হোল, আমার পরিধির মধ্যেই আমি স্বচ্ছন্দ। আমার পড়াশোনা, ছাপোষা জীবনবোধ, আমার মা, দিদি, ঝিলিক আর আমার আত্মজা, এর মধ্যেই আমার শিকড়, আমার আমি। 

>>>>>>>>>

ads

Mailing List