পুরাণভিত্তিক ধর্মীয় ধারাবাহিক রচনা, ‘আমিই সে’/ চতুর্থ পর্ব

পুরাণভিত্তিক ধর্মীয় ধারাবাহিক রচনা, ‘আমিই সে’/ চতুর্থ পর্ব
13 Jun 2021, 11:28 AM

পুরাণভিত্তিক ধর্মীয় ধারাবাহিক রচনা, ‘আমিই সে’/ চতুর্থ পর্ব

(একটি পুরাণভিত্তিক ধর্মীয় ধারাবাহিক রচনা)

 

সুপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়

 

চতুর্থ পর্ব

 

গঙ্গা যেমন জলব্রহ্ম, জগন্নাথ যেমন দারু (কাঠ) ব্রহ্ম, ওঁ-কার তেমনি অক্ষরব্রহ্ম।

এটি শব্দব্রহ্ম বা নাদব্রহ্ম। এর-ও কোনো ক্ষয় নেই, নাশ নেই---- তাই এ অক্ষয়।

 

এটি আমার-ই সৃষ্টি-স্থিতি-প্রলয় সংঘটনকারী এক প্রতীকমাত্র। এই শব্দ ধ্বণিত হয় আমার নাভিমূল থেকে,  যা সমগ্র বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডের শাষণকর্তা, অমঙ্গলের রক্ষাকর্তা ---- এই শব্দ যে ভক্তি তার শুদ্ধ চেতনে উচ্চারণ করবে, সে অজ্ঞানতার নাগপাশ থেকে মুক্ত হয়ে যাবে।      

 

দেবতার তিন রূপ এই এক শব্দে প্রতীয়মান হয়--- ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর। যা আমার তিন রূপেরই পরিচায়ক।

এতে আমার ত্রিশক্তিই নিহিত রয়েছে--- ইচ্ছা, ক্রিয়া, জ্ঞান।

ত্রিলোকবাসীর এক ও অমোঘ মন্ত্র এটি --- ভূঃ, ভবঃ, সঃ, যা পৃথিবী, অন্তরীক্ষে ও স্বর্গে সবার আরাধ্য।

 

এই অক্ষর ত্রিজ্যোতিমূর্তিস্বরূপ: অগ্নি, বিদ্যুৎ ও সবিতা, যা যথাক্রমে পৃথিবীতে সর্প, অন্তরীক্ষে, ভগ ও স্বর্গে বাণের প্রতীক। 

 

এই অক্ষর রজো, সত্ত্ব ও ত্বম-গুনের অতীত।

এই অক্ষর ত্রিবেদী, অর্থাৎ, ঋক্, যজুঃ ও সামবেদকেও অতিক্রম করে। এমনকি গায়ত্রী, ত্রিষ্টুপ ও জগতীর পরিচায়ক।

এবং জাগ্রত, স্বপ্ন ও সুষুপ্তি--- তিনটি অবস্থাতেই স্মরণ করা যায়।

 

এভাবে, যে ভক্তিমান জীব যত বেশি আমার এই অক্ষর স্মরণ করবে, ততই একত্বের মহাসিন্ধুতে আমার ব্যক্তিসত্ত্বায় লয় হতে পারবে। তখন সে আর জাগতিক গতিতে আর সীমাবদ্ধ থাকে না, আমাতে লয় হবে।

 

(চলবে..)

ads

Mailing List